রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈকতে পর্যটকদের ঢল

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২১
  • / 41

প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভ কুয়াকাটা। প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় পর্যটন স্পট। কিন্তু ঊর্ধ্বগামী পর্যটন শিল্পের বিকাশে থাবা বসিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। এতে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত উঠে। সেইসাথে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।

অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল রিসোর্টসহ সকল বিনোদনকেন্দ্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। চলতি বছরের ১ এপ্রিলের পর থেকে সংক্রমণ রোধে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের নামতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকে সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণ থেকে বিরত ছিলেন পর্যটকরা।

কিন্তু ১৯ আগস্ট পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেয়ার আগেই সৈকতে ভিড় করেছেন হাজারো পর্যটক। আগত এ সকল পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশসহ মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে নেমেছেন পর্যটকরা। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে কেউ ঘোড়ায় চড়ছে, কেউ সৈকতে সাগরের ঢেউয়ের সাথে গোসল করে উল্লাসে মেতেছেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ বা আবার উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এমন দৃশ্য আবার নিজ হাতে থাকা স্মার্টফোনে ছবি তুলছে অনেকে। এমন ভিড়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে।

পর্যটক দম্পতি সুমাইয়া আসমা ও মো.সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ঘরবন্ধি ছিলাম। সকালে কুয়াকাটায় এসে পৌঁছেছি। ফ্রেস হয়ে সৈকতে নেমেছি। আমরা তো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সৈকতে বেড়াতে এসেছি।

অপর এক পর্যটক রাতুল বলেন, কতদিন বাসায় বন্দি সময় কাটাবো? আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কুয়াকাটা এসেছি।

ওয়ার্ল্ড ফিস পটুয়াখালী জেলা সহকারী গবেষক সাগরীকা স্মৃতি বলেন, কুয়াকাটার সৈকতে দীর্ঘ সময় মানুষের কেলাহল না থাকায় লাল-কাকরা যেন আপন মনে বেড়াচ্ছে। এসব দৃশ্য আগত পর্যটকদের আকৃস্ট করে তুলবে। আমরাও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছি।

হোটেল সমুদ্র বাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.জহিরুল ইসলাম মিলন বলেন, গত পহেলা এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল মোটেল খুলে দেয়া হয়েছে। হোটেল আগেভাগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছি। হোটেলে ১৭ টি রুম রয়েছে। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে।

কুয়াকাটার হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.মোতালেব শরীফ জানান, সরকারের ঘোষণা রয়েছে নির্ধারিত আসনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ ভাগ বুকিং দেয়ার, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সকলকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ-পরিদর্শক মো.বদরুল কবির বলেন, বর্তমানে সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা কম। যারা আসছে তাদেরকে সৈকতে সংঘবদ্ধভাবে না চলা ও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের জন্য বার বার মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার লক্ষে বুধবার বিকেল পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের রাখতে হবে। আবাসিক হোটেল মোটরসাইকেল চালক ও খাবার হোটেলগুলোকে ভাড়া ও খাবারের নির্ধারিত তালিকা প্রণয়ন করা ও পর্যটক সেবা ও হয়রানি বন্ধে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

সৈকতে পর্যটকদের ঢল

আপডেট টাইম : ০৫:৫১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২১

প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভ কুয়াকাটা। প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় পর্যটন স্পট। কিন্তু ঊর্ধ্বগামী পর্যটন শিল্পের বিকাশে থাবা বসিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। এতে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত উঠে। সেইসাথে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।

অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল রিসোর্টসহ সকল বিনোদনকেন্দ্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। চলতি বছরের ১ এপ্রিলের পর থেকে সংক্রমণ রোধে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের নামতে দেয়া হয়নি। এরপর থেকে সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণ থেকে বিরত ছিলেন পর্যটকরা।

কিন্তু ১৯ আগস্ট পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র খুলে দেয়ার আগেই সৈকতে ভিড় করেছেন হাজারো পর্যটক। আগত এ সকল পর্যটকদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশসহ মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে নেমেছেন পর্যটকরা। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে কেউ ঘোড়ায় চড়ছে, কেউ সৈকতে সাগরের ঢেউয়ের সাথে গোসল করে উল্লাসে মেতেছেন। কেউ কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ বা আবার উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এমন দৃশ্য আবার নিজ হাতে থাকা স্মার্টফোনে ছবি তুলছে অনেকে। এমন ভিড়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে।

পর্যটক দম্পতি সুমাইয়া আসমা ও মো.সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ঘরবন্ধি ছিলাম। সকালে কুয়াকাটায় এসে পৌঁছেছি। ফ্রেস হয়ে সৈকতে নেমেছি। আমরা তো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সৈকতে বেড়াতে এসেছি।

অপর এক পর্যটক রাতুল বলেন, কতদিন বাসায় বন্দি সময় কাটাবো? আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কুয়াকাটা এসেছি।

ওয়ার্ল্ড ফিস পটুয়াখালী জেলা সহকারী গবেষক সাগরীকা স্মৃতি বলেন, কুয়াকাটার সৈকতে দীর্ঘ সময় মানুষের কেলাহল না থাকায় লাল-কাকরা যেন আপন মনে বেড়াচ্ছে। এসব দৃশ্য আগত পর্যটকদের আকৃস্ট করে তুলবে। আমরাও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছি।

হোটেল সমুদ্র বাড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.জহিরুল ইসলাম মিলন বলেন, গত পহেলা এপ্রিল থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। দীর্ঘ বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল মোটেল খুলে দেয়া হয়েছে। হোটেল আগেভাগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছি। হোটেলে ১৭ টি রুম রয়েছে। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে।

কুয়াকাটার হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.মোতালেব শরীফ জানান, সরকারের ঘোষণা রয়েছে নির্ধারিত আসনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ ভাগ বুকিং দেয়ার, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সকলকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ-পরিদর্শক মো.বদরুল কবির বলেন, বর্তমানে সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা কম। যারা আসছে তাদেরকে সৈকতে সংঘবদ্ধভাবে না চলা ও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের জন্য বার বার মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার লক্ষে বুধবার বিকেল পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা হয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের রাখতে হবে। আবাসিক হোটেল মোটরসাইকেল চালক ও খাবার হোটেলগুলোকে ভাড়া ও খাবারের নির্ধারিত তালিকা প্রণয়ন করা ও পর্যটক সেবা ও হয়রানি বন্ধে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১