শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা ছাড়তে কি সত্যিই প্রস্তুত ইসরায়েল?

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর অধীনে গাজা উপত্যকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ও রাজনীতির অন্দরে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কাঠামোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব রাখা হলেও, ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও উগ্র ডানপন্থী জোটে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড টানাপোড়েন।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল এই চুক্তিতে ‘খুবই সন্তুষ্ট। তবে তেল আবিবের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তি ঘিরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন, যা তার সরকারের স্থায়িত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০ দফার একটি রূপরেখা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র উপদলগুলো তাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক কারখানা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটির (National Committee for Administration of Gaza – NCAG) কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (IDF) গাজার ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে সরে যেতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল (International Stabilization Force – ISF) এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী কাজ শুরু করবে। কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই দীর্ঘ আলোচনার পথ সুগম হলেও কার্যকরের চূড়ান্ত দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তিকে স্বাগতম জানালেও ইসরায়েল সরকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। বরং নেপথ্যে তৈরি হয়েছে মারাত্মক বিরোধিতা।

ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামাসের ‘সম্পূর্ণ ও সত্যিকারের অস্ত্র পরিত্যাগ” নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজার কোনো কৌশলগত অবস্থান থেকেই ইসরায়েলি সেনা এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না। এদিকে নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অতি-ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যাভির এই রূপরেখাকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মতে, ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বা সেনা প্রত্যাহার মানে হামাসকে ভবিষ্যতের আরেকটি আক্রমণের জন্য সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ডানপন্থী জোট সঙ্গীদের সরকার পতনের হুমকিতে নেতানিয়াহু চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক স্বতন্ত্র জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র: মে মাসের এক জরিপ, দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। একই জরিপে প্রায় ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দেশচ্যুত করার পক্ষে মত দেন।

 জুন মাসের জরিপ, প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন, গাজার সাধারণ অধিবাসীদের মধ্যেও ‘কোনো নির্দোষ বা নিরপরাধ ব্যক্তি নেই।
জনমতের এই উগ্র অবস্থান এবং উচ্ছেদ সমর্থক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অপরদিকে, দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান এবং অবরুদ্ধ পরিবেশের কারণে গাজার সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় বিবেচনা করে হামাস নিজেদের অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনেছে। হামাসের মধ্যস্থতাকারী দলের অন্যতম সদস্য গাজী হামাদ জানান, গাজার বাসিন্দাদের নির্বিচার হত্যা ও বাস্তুচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতেই সংগঠনটি এই কঠিন সিদ্ধান্ত বা ছাড় দিচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটিই কেবল গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, ইসরায়েল যদি সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়, তবে ফিলিস্তিনি পক্ষও এই চুক্তির বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত করবে।

চুক্তির রূপরেখা খাতায়-কলমে প্রস্তুত হলেও বাস্তবায়নের পথ অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট ও ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের কারণে ইসরায়েল হয়তো আংশিক বা সাময়িক সেনাসংখ্যা কমানোর নাটকীয়তা দেখাবে। কিন্তু গাজার বাফার জোন ও কৌশলগত করিডোরগুলোর ওপর থেকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

নেতানিয়াহু যদি সেনা প্রত্যাহারের আদেশ জারি করেন, তবে তার ডানপন্থী সরকারের পতন প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে সেনা প্রত্যাহার না করলে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ বড় ধরনের মুখ থুবড়ে পড়বে। সব মিলিয়ে, গাজা থেকে সত্যি সত্যি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে নাকি এটি কেবল একটি কূটনৈতিক কৌশল- তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

সূত্র: আল- জাজিরা

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

গাজা ছাড়তে কি সত্যিই প্রস্তুত ইসরায়েল?

আপডেট টাইম : ০৪:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর অধীনে গাজা উপত্যকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ও রাজনীতির অন্দরে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে। চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কাঠামোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব রাখা হলেও, ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ও উগ্র ডানপন্থী জোটে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড টানাপোড়েন।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল এই চুক্তিতে ‘খুবই সন্তুষ্ট। তবে তেল আবিবের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তি ঘিরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন, যা তার সরকারের স্থায়িত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০ দফার একটি রূপরেখা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র উপদলগুলো তাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক কারখানা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটির (National Committee for Administration of Gaza – NCAG) কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (IDF) গাজার ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে সরে যেতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল (International Stabilization Force – ISF) এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী কাজ শুরু করবে। কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই দীর্ঘ আলোচনার পথ সুগম হলেও কার্যকরের চূড়ান্ত দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই চুক্তিকে স্বাগতম জানালেও ইসরায়েল সরকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। বরং নেপথ্যে তৈরি হয়েছে মারাত্মক বিরোধিতা।

ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামাসের ‘সম্পূর্ণ ও সত্যিকারের অস্ত্র পরিত্যাগ” নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজার কোনো কৌশলগত অবস্থান থেকেই ইসরায়েলি সেনা এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না। এদিকে নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অতি-ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যাভির এই রূপরেখাকে “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মতে, ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বা সেনা প্রত্যাহার মানে হামাসকে ভবিষ্যতের আরেকটি আক্রমণের জন্য সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ডানপন্থী জোট সঙ্গীদের সরকার পতনের হুমকিতে নেতানিয়াহু চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক স্বতন্ত্র জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র: মে মাসের এক জরিপ, দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। একই জরিপে প্রায় ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দেশচ্যুত করার পক্ষে মত দেন।

 জুন মাসের জরিপ, প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন, গাজার সাধারণ অধিবাসীদের মধ্যেও ‘কোনো নির্দোষ বা নিরপরাধ ব্যক্তি নেই।
জনমতের এই উগ্র অবস্থান এবং উচ্ছেদ সমর্থক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অপরদিকে, দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান এবং অবরুদ্ধ পরিবেশের কারণে গাজার সাধারণ মানুষের মানবিক বিপর্যয় বিবেচনা করে হামাস নিজেদের অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনেছে। হামাসের মধ্যস্থতাকারী দলের অন্যতম সদস্য গাজী হামাদ জানান, গাজার বাসিন্দাদের নির্বিচার হত্যা ও বাস্তুচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতেই সংগঠনটি এই কঠিন সিদ্ধান্ত বা ছাড় দিচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটিই কেবল গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। তবে শর্ত থাকে যে, ইসরায়েল যদি সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়, তবে ফিলিস্তিনি পক্ষও এই চুক্তির বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত করবে।

চুক্তির রূপরেখা খাতায়-কলমে প্রস্তুত হলেও বাস্তবায়নের পথ অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট ও ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের কারণে ইসরায়েল হয়তো আংশিক বা সাময়িক সেনাসংখ্যা কমানোর নাটকীয়তা দেখাবে। কিন্তু গাজার বাফার জোন ও কৌশলগত করিডোরগুলোর ওপর থেকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

নেতানিয়াহু যদি সেনা প্রত্যাহারের আদেশ জারি করেন, তবে তার ডানপন্থী সরকারের পতন প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে সেনা প্রত্যাহার না করলে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ বড় ধরনের মুখ থুবড়ে পড়বে। সব মিলিয়ে, গাজা থেকে সত্যি সত্যি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে নাকি এটি কেবল একটি কূটনৈতিক কৌশল- তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

সূত্র: আল- জাজিরা

নিউজ লাইট ৭১