মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীর ইজ্জতের মুল্যে ৬৫ হাজার টাকা!

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২০
  • / 126

৭১: রংপুরের বদরগঞ্জে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দু’দিন ধরে অনশন করেন। প্রেমিকের বাবা সামছুল হক স্থানীয় ইউপি সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সামছুল হক ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তা সফল হয়েছেন। এ কারণে মেয়েটি আর ন্যায় বিচার পেলো না।

জানা গেছে, মেয়েটির বাড়ি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর বিচিবাড়ি এলাকায়। সে স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার মেয়েটি বিয়ের দাবিতে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য সামছুল হকের বাড়িতে অনশন শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় মেয়েটিকে সামছুল হক লোকজন দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তুলে পাঠানের হাটে তার চায়ের দোকানে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাত নয়টার দিকে সংবাদকর্মীরা সেখানে ছুটে যান।

এ সময় মেয়েটি অভিযোগ করে বলে, ‘সামছুল হকের অনার্স পড়–য়া ছেলে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে এক বিয়ের বাড়িতে পরিচয় হয় আমার। এরপর সে একটি মুঠোফোন কিনে দেয়। প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। দেড় মাস আগে ঘুরে বেড়ার কথা বলে তরিকুল তার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আমাকে ধর্ষন করে। এর পর তাকে বিয়ের কথা বললে সে টালবাহানা শুরু করে। বতর্মানে যোগাযোগ ছেড়ে দেয়। মেয়েটি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে, সে আমার ইজ্জতের ক্ষতি করেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। বিয়ে না করা পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরবো না।’

মেয়েটির সম্পর্কের এক মামা আজ রোববার (৪ অক্টোবর) মুঠোফোনে বলেন, ‘শনিবার রাতে ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তারা টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করতে চান। এতে আমি রাজি না হয়ে মেয়েকে সেখানে রেখে চলে আসি। ওইদিন মধ্যরাতেই মেয়ের বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইউপি সদস্য সামছুল হক তার লোকজন একটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেন। আর মেয়ের ইজ্জতের মুল্যে হিসেবে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে তার বাবার হাতে তুলে দেন।’

তবে মেয়েটির বাবা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ছেলের পরিবার প্রভাবশালী, আর আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়ের বিয়ের এখনও বয়স হয় নাই। মামলা করলে আমি তাদের কাছে টিকতে পারবো না। তাই আমার মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে এসেছি।’ মুঠোফোনে ছেলে তরিকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য সামছুল হক বলেন, ‘আমার পেছনে কিছু রাজনৈতিক নেতা লেগেছেন। তারা আমার ভালো খাওয়া ও চলাফেলা দেখতে পারছেন না। তাই মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।’ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সমঝোতার বিয়ে জানতে চাইলে সামছুল হক বলেন, ‘৬৫ হাজার নয় একটু কম দিয়েছি। যাতে পরবর্তীতে ছেলের আর কিছু করতে না পারে সেজন্য একটি স্টামে মেয়ের বাবা-ভাই ও চাচার স্বাক্ষর নিয়েছি।’

রোববার দুপুরে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধারেননি।

Tag :

শেয়ার করুন

ছাত্রীর ইজ্জতের মুল্যে ৬৫ হাজার টাকা!

আপডেট টাইম : ০৫:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২০

৭১: রংপুরের বদরগঞ্জে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দু’দিন ধরে অনশন করেন। প্রেমিকের বাবা সামছুল হক স্থানীয় ইউপি সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সামছুল হক ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তা সফল হয়েছেন। এ কারণে মেয়েটি আর ন্যায় বিচার পেলো না।

জানা গেছে, মেয়েটির বাড়ি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর বিচিবাড়ি এলাকায়। সে স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার মেয়েটি বিয়ের দাবিতে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য সামছুল হকের বাড়িতে অনশন শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় মেয়েটিকে সামছুল হক লোকজন দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তুলে পাঠানের হাটে তার চায়ের দোকানে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাত নয়টার দিকে সংবাদকর্মীরা সেখানে ছুটে যান।

এ সময় মেয়েটি অভিযোগ করে বলে, ‘সামছুল হকের অনার্স পড়–য়া ছেলে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে এক বিয়ের বাড়িতে পরিচয় হয় আমার। এরপর সে একটি মুঠোফোন কিনে দেয়। প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। দেড় মাস আগে ঘুরে বেড়ার কথা বলে তরিকুল তার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আমাকে ধর্ষন করে। এর পর তাকে বিয়ের কথা বললে সে টালবাহানা শুরু করে। বতর্মানে যোগাযোগ ছেড়ে দেয়। মেয়েটি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে, সে আমার ইজ্জতের ক্ষতি করেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। বিয়ে না করা পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরবো না।’

মেয়েটির সম্পর্কের এক মামা আজ রোববার (৪ অক্টোবর) মুঠোফোনে বলেন, ‘শনিবার রাতে ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তারা টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করতে চান। এতে আমি রাজি না হয়ে মেয়েকে সেখানে রেখে চলে আসি। ওইদিন মধ্যরাতেই মেয়ের বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইউপি সদস্য সামছুল হক তার লোকজন একটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেন। আর মেয়ের ইজ্জতের মুল্যে হিসেবে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে তার বাবার হাতে তুলে দেন।’

তবে মেয়েটির বাবা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ছেলের পরিবার প্রভাবশালী, আর আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়ের বিয়ের এখনও বয়স হয় নাই। মামলা করলে আমি তাদের কাছে টিকতে পারবো না। তাই আমার মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে এসেছি।’ মুঠোফোনে ছেলে তরিকুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য সামছুল হক বলেন, ‘আমার পেছনে কিছু রাজনৈতিক নেতা লেগেছেন। তারা আমার ভালো খাওয়া ও চলাফেলা দেখতে পারছেন না। তাই মেয়েটিকে দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।’ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সমঝোতার বিয়ে জানতে চাইলে সামছুল হক বলেন, ‘৬৫ হাজার নয় একটু কম দিয়েছি। যাতে পরবর্তীতে ছেলের আর কিছু করতে না পারে সেজন্য একটি স্টামে মেয়ের বাবা-ভাই ও চাচার স্বাক্ষর নিয়েছি।’

রোববার দুপুরে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধারেননি।