চালের নতুন দাম নির্ধারণ
- আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
- / 123
৭১: চালের বাজারে অস্থিরতা শুরুর মধ্যে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি সাড়ে ৫১ টাকা এবং আটাশ চালের কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত এই দাম বাড়ালে সরকার চাল আমদানি করবে বলে বৈঠকে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খাদ্য ভবনের সম্মেলন করে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রীকে চাল ব্যবসায়রা জানান, তার ১৫ দিন আগে চালকলগুলো থেকে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল ২৫৫৫ টাকায় কিনেছেন। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম ২৬০০ টাকা এবং আটাশ চালের দাম ২৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় চাল ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানালে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে খাদ্যমন্ত্রী ১৫ দিন আগের দামে চাল বিক্রির নির্দেশ দেন।
এদিকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসলে মন্ত্রীকে চাল ব্যবসায়ীরা আবার ধরেন। এ সময় আবার বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সবচেয়ে ভালো মানের ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম (মিল গেট) ২৫৭৫ টাকা এবং আটাশ চালের দাম ২২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেন মন্ত্রী।
একশ্রেণির অসাধু চালকল মালিক অবৈধভাবে ধান ও চাল মজুদ করে রাখার জন্য চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, আমার নিজের এলাকায় হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান মজুদ রয়েছে। তাহলে আমার মনে কেমন লাগে?
গতকাল মঙ্গলবার খাদ্য ভবন সভাকক্ষে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ প্রমুখ। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষকদের কাছে ২ শতাংশও ধান নেই। আমি ৯ দিন নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এলাকায় ঘুরেছি। বড় বড় মিলার কিছু পরিমাণ ধান মজুদ রেখেছে এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু দেখা গেছে মিল বন্ধ, লাইসেন্সও নবায়ন করেনি। অথচ সেসব মিলেও ৫০০ হাজার, দেড় হাজার মেট্রিক টন ধান মজুদ রেখেছে। ধানে গাছ গজিয়ে গেছে, এগুলো কার ধান?
তিনি বলেন, গত দুদিন আমি গোপন সার্ভে করে প্রায় ৫০টা মিলের খোঁজ পেয়েছি; এসব মিলে নিম্নে ২০০ মেট্রিক টন সর্বোচ্চ ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান মজুদ রয়েছে। এমনকি ৫০০ মেট্রিক টন চালও মজুদ রয়েছে। এ সার্ভে যদি আরও সাত দিন করা হয়, তাহলে শত শত চালকল পাওয়া যাবে সেখানে এভাবে ধান মজুদ রাখা হয়েছে। আড়ৎদাররাও ধান ও চাল মজুদ করে রাখছে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একটা বন্ধ মিলে ১ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন ধান ও ৭০০ মেট্রিক টন চাল মজুদ করে রাখা হয়েছে। এটা কি পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা হচ্ছে না? যেসব মিল মালিক এ ধরনের অবৈধ মজুদ করছেন না, তারা আবার অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন না। এ রকম সহযোগিতা পেলে তো তাদের কোলে তুলে নিতাম।






















