বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ কারসাজি বন্ধে কড়া সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / 104

৭১: গত বছরের এই সময়ে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হয়েছে নিত্যপণ্য পেঁয়াজ। সেসময় ৩০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় পণ্যটি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথা। এবারও সেই সিন্ডিকেটটি পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য নানা তৎপরতা শুরু করেছে।

এই চক্র পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির করে ফায়দা লুটতে চায়। ইতোমধ্যেই চক্রটি নানা অজুহাতে এ পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এর পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। যাতে কোনোভাবেই এবার দাম না বাড়ে সেজন্য নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। সরকার একদিকে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করেছে। 

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কয়েক পেঁয়াজের আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। ফলে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। করোনা পরিস্থিতি, ৩৩ জেলায় বন্যার অজুহাতে এবারও একটি চক্র পণ্যটির দাম বাড়াতে চায়। তবে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী বিভিন্ন জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এসব জেলায় বন্যার প্রকোপ থাকলে তাতে পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রভাব পড়েনি। কারণ এ বছরের মাঠ থেকে সব পেঁয়াজ উঠে গেছে মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই।

এছাড়া মাওয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকাসহ ভারতে বাজার সম্পর্কে দেওয়া অজুহাতও গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে একদিন পেঁয়াজ, আদা, রসুন বিক্রি বন্ধ রাখার পর ফের চালু হয়েছে খাতুনগঞ্জে। গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০টি পেঁয়াজের আড়তকে জরিমানা করার পরদিন সোমবার সকাল থেকে পেঁয়াজ, রসুন, আদা বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন আড়তদাররা। এ সময় স্থলবন্দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সীমিত লাভে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলে অযৌক্তিক জরিমানা, অহেতুক হয়রানি বন্ধের আশ^াস পেয়ে পরে আড়ত চালু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৮ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তাছাড়া দেশে এখন পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহেও কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানিও রয়েছে স্বাভাবিক। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি সহ্য করা হবে না। দেশব্যাপী মনিটরিং চলছে। টালবাহানা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

এসব সিদ্ধান্তের ফলে পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।facebook sharing button whatsapp sharing button

Tag :

শেয়ার করুন

পেঁয়াজ কারসাজি বন্ধে কড়া সরকার

আপডেট টাইম : ০৬:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

৭১: গত বছরের এই সময়ে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হয়েছে নিত্যপণ্য পেঁয়াজ। সেসময় ৩০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় পণ্যটি। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কথা। এবারও সেই সিন্ডিকেটটি পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য নানা তৎপরতা শুরু করেছে।

এই চক্র পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির করে ফায়দা লুটতে চায়। ইতোমধ্যেই চক্রটি নানা অজুহাতে এ পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এর পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। যাতে কোনোভাবেই এবার দাম না বাড়ে সেজন্য নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। সরকার একদিকে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করেছে। 

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কয়েক পেঁয়াজের আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। ফলে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। করোনা পরিস্থিতি, ৩৩ জেলায় বন্যার অজুহাতে এবারও একটি চক্র পণ্যটির দাম বাড়াতে চায়। তবে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী বিভিন্ন জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এসব জেলায় বন্যার প্রকোপ থাকলে তাতে পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রভাব পড়েনি। কারণ এ বছরের মাঠ থেকে সব পেঁয়াজ উঠে গেছে মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই।

এছাড়া মাওয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকাসহ ভারতে বাজার সম্পর্কে দেওয়া অজুহাতও গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে একদিন পেঁয়াজ, আদা, রসুন বিক্রি বন্ধ রাখার পর ফের চালু হয়েছে খাতুনগঞ্জে। গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০টি পেঁয়াজের আড়তকে জরিমানা করার পরদিন সোমবার সকাল থেকে পেঁয়াজ, রসুন, আদা বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন আড়তদাররা। এ সময় স্থলবন্দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সীমিত লাভে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলে অযৌক্তিক জরিমানা, অহেতুক হয়রানি বন্ধের আশ^াস পেয়ে পরে আড়ত চালু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৮ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তাছাড়া দেশে এখন পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহেও কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানিও রয়েছে স্বাভাবিক। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এবার পেঁয়াজ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি সহ্য করা হবে না। দেশব্যাপী মনিটরিং চলছে। টালবাহানা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

এসব সিদ্ধান্তের ফলে পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।facebook sharing button whatsapp sharing button