সিগারেট খেয়ে পুলিশকে দিতে হলো সাড়ে ৩ লাখ!
- আপডেট টাইম : ০৬:০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০
- / 118
৭১: রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কাপড় ব্যবসায়ী সোহেল মীর। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা তিনি। হঠাৎ করে মেয়ের বাসায় যাবেন বলে গত ২ আগস্ট তিনি বের হন বাসা থেকে।
সোহেল মীরের মেয়ের বাসা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায়। সেই বাসায় যেতে গিয়ে কারাগারে থাকতে হয় তাকে।
নেপথ্য কারণ হিসেবে জানা যায়, সোহেল মীর মেয়ের বাসায় পৌঁছার আগে কিছু সময়ের জন্য যান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ভিতরে। সেখানে গিয়ে তিনি সিগারেট খান।
মূলত এই অভিযোগে তাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। এরপর তার পরিবারকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা।
পরে এই অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী সোহেল মীর।
এদিকে গত সোমবার (১০ আগস্ট) করা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। আদালতের নির্দেশের কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, কোতোয়ালি থানার এসআই পবিত্র সরকার, এসআই খালিদ শেখ, এএসআই শাহিনুর রহমান, কনস্টেবল মিজান ও পুলিশের সোর্স মোতালেব।
তবে সোহেল মীরকে আটকের বিষয়ে কিছুই জানেন না স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ–উন নবী।
তিনি বলেন, ঈদের পরদিন (২ আগস্ট) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। আর মেডিকেল কলেজ তো আগে থেকেই বন্ধ। তার হাসপাতাল থেকে সেদিন কাউকে আটক করার কথা তিনি জানেন না। কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
সোহেল মীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিন মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য ২ আগস্ট বিকেলে বাসা থেকে বরে হন। নৌকায় করে কালীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে নামেন। সেখানে আম্বিয়া টাওয়ারের নিচে আসলে তাকে ঘিরে ধরে কোতোয়ালি থানার এসআই পবিত্র সরকার, এসআই খালিদ শেখ, এএসআই শাহিনুর রহমান, কনস্টেবল মিজান ও পুলিশের সোর্স মোতালেব সোহেল।
সোহেলের দাবি, তার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেয় এসআই খালিদ। পরে তাকে থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। রাতে তার মোবাইল থেকে স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে ফোন করে থানায় আসতে বলেন এসআই খালিদ। তিনি থানায় গেলে বলা হয়, স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে হলে তিন লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে। না হলে ক্রসফায়ারে দেব। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাবিনা ২ লাখ টাকা দেন। ২ লাখ টাকা নেন এসআই পবিত্র সরকার ও এসআই খালিদ। উপস্থিত ছিলেন এসআই শাহীন।
পরে খালিদ বলেন, আরও দেড় লাখ টাকা সকালের মধ্যে দিতে হবে। তাহলে সোহেলকে পাঁচআনি (ডিএমপি অ্যাক্ট) মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠানো হবে। পুলিশই উকিল দিয়ে ছাড়িয়ে আনবে। পরে সকালে দেড় লাখ টাকা দিলে কথা মত কাজ করেন খালিদ। কোর্টে দিয়ে নিজের দেয়া উকিলে ছাড়িয়ে আনেন সোহেলকে।
এ বিষয়ে সাবিনা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আদালত তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমরা সুবিচার চাই।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার গণমাধ্যমেক বলেন, এ রকম একটি মামলা হয়েছে জেনেছি। তবে আমরা এখনো কাগজ হাতে পাইনি। কাগজ হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















