বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০
  • / 101

৭১: ‘হে বঙ্গবন্ধু/ নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে নিহত হয়েছ শুনে/ পেরিয়েছি আমি এক অস্থির সময়/ খোলা জানালা দিয়ে সুদূর আকাশের দিকে/ পলকহীন তাকিয়ে থেকেছি/ উত্তরহীন এক প্রশ্ন নিয়ে/ বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে গড়ে তুলেছিলে স্বদেশ তোমার/ কিন্তু এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে নয়া দিল্লির সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত মনিপুরের অন্যতম শীর্ষ কবি এলাংবম নীলকান্ত তার ‘তীর্থযাত্রা’ গ্রন্থে ‘শেখ মুজিব মহাপ্রয়াণে’ কবিতায় এভাবেই লিখেছেন। একটা মানুষ যে কিনা সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন মানুষের জন্য। নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন এই বাংলার মানুষকে। বারবার নিজের জীবনকে তুচ্ছ করেছেন। এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭০সহ বিভিন্ন সময় মৃত্যুর দ্বার থেকে বার বার ফিরে এসেছিলেন। ’৭১-এ পাকিস্তানি হায়েনারা যা করতে পারে নাই, সেই কাজটিই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পাদন করে পাপিষ্ঠ ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তার স্বাধীন করা দেশেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ঘাতকের দল।

সেই শোকাবহ আগস্টের নবম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ছিল শনিবার। এদিন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি ড. স্যাম স্ট্রিট সকাল ১০টায় সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। আর সকাল ১১টায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ সাক্ষৎ করেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টায় বাকশালের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অন্যরা সাক্ষাৎ করেন। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর বাকশাল নেতাদের প্রতি শেষ ভাষণ। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অ্যাটর্নি জেনারেল দেখা করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে (জাফর ওয়াজেদের লেখা থেকে)।

একদিন যে অঙ্গুলি উঁচিয়ে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই স্বাধীন বাংলাদেশে তার অঙ্গুলি চিরদিনের জন্য নিস্তেজ করে দেয় ঘাতকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক সেই বাড়িতে। আর কোনোদিন ওই অঙ্গুলি আমাদের প্রেরণা দিতে আসবে না, দেবে না মুক্তির বারতা। তবে একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে তিনি মৃত্যুহীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যিনি আমাদের জাতীর পিতা, তার কি মৃত্যু হতে পারে? না তিনি মৃত্যুহীন। চির অমর। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ভাষায়- ‘এই ইতিহাস ভুলে যাব আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/ যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;/ তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-/ চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।’

Tag :

শেয়ার করুন

এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি

আপডেট টাইম : ০৩:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০

৭১: ‘হে বঙ্গবন্ধু/ নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে নিহত হয়েছ শুনে/ পেরিয়েছি আমি এক অস্থির সময়/ খোলা জানালা দিয়ে সুদূর আকাশের দিকে/ পলকহীন তাকিয়ে থেকেছি/ উত্তরহীন এক প্রশ্ন নিয়ে/ বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে গড়ে তুলেছিলে স্বদেশ তোমার/ কিন্তু এ কোন প্রতিদান পেলে তুমি।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে নয়া দিল্লির সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত মনিপুরের অন্যতম শীর্ষ কবি এলাংবম নীলকান্ত তার ‘তীর্থযাত্রা’ গ্রন্থে ‘শেখ মুজিব মহাপ্রয়াণে’ কবিতায় এভাবেই লিখেছেন। একটা মানুষ যে কিনা সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন মানুষের জন্য। নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন এই বাংলার মানুষকে। বারবার নিজের জীবনকে তুচ্ছ করেছেন। এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭০সহ বিভিন্ন সময় মৃত্যুর দ্বার থেকে বার বার ফিরে এসেছিলেন। ’৭১-এ পাকিস্তানি হায়েনারা যা করতে পারে নাই, সেই কাজটিই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পাদন করে পাপিষ্ঠ ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে তার স্বাধীন করা দেশেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ঘাতকের দল।

সেই শোকাবহ আগস্টের নবম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট ছিল শনিবার। এদিন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি ড. স্যাম স্ট্রিট সকাল ১০টায় সাক্ষাৎ করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। আর সকাল ১১টায় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ সাক্ষৎ করেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টায় বাকশালের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অন্যরা সাক্ষাৎ করেন। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর বাকশাল নেতাদের প্রতি শেষ ভাষণ। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় অ্যাটর্নি জেনারেল দেখা করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে (জাফর ওয়াজেদের লেখা থেকে)।

একদিন যে অঙ্গুলি উঁচিয়ে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই স্বাধীন বাংলাদেশে তার অঙ্গুলি চিরদিনের জন্য নিস্তেজ করে দেয় ঘাতকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক সেই বাড়িতে। আর কোনোদিন ওই অঙ্গুলি আমাদের প্রেরণা দিতে আসবে না, দেবে না মুক্তির বারতা। তবে একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে তিনি মৃত্যুহীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যিনি আমাদের জাতীর পিতা, তার কি মৃত্যু হতে পারে? না তিনি মৃত্যুহীন। চির অমর। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ভাষায়- ‘এই ইতিহাস ভুলে যাব আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/ যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;/ তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-/ চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।’