বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর অসম্ভব প্রিয় ছিল ৩২ নম্বর বাড়িটি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০
  • / 118

৭১: ‘সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে/স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে/সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে/অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে’-বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে কবি রফিক আজাদ তার ‘এই সিঁড়ি’ কবিতায় এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা পৃথিবীর যেকোনো হত্যাকাণ্ডকে হার মানায়। জন্ম দেয় বাঙালি জাতির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক স্মৃতির। নানা ঘটনা প্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে আবারো এসেছে আগস্ট। সেই শোকাবহ আগস্টের অষ্টম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট ছিল শুক্রবার। সকাল ১০টায় প্রথম ও দ্বিতীয় কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানদ্বয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় রেল প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আলতাফ হোসেন এবং বেলা সাড়ে ১১টায় পানি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মোমিনউদ্দিন আহমদ সাক্ষাৎ করেন। এরা দু’জন পরে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী হন। সৈয়দ আলতাফ ছিলেন ন্যাপ (মুজাফফর) নেতা। নিজের সৃষ্ট দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের হুমকি হতে পারে, কখনো ভাবেননি বঙ্গবন্ধু। এ কারণে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি তিনি।

সুরক্ষিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করতেন প্রিয় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। কিন্তু রাতের আঁধারে বাড়িতে পৈশাচিক পন্থায় হামলা চালায় দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা।

বুলেটের আঘাতে রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়ি। ঝাঁজরা হয়ে যায় দরজা, জানালা, বাড়ি ও দেয়াল। রক্তসাগরে ডুবে ছিল লাশগুলো। বঙ্গবন্ধু খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন স্বাধীন দেশের কোনো বাঙালি তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। আর সে জন্যই একজন প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্তেও বঙ্গভবনের পরিবর্তে থাকতেন তার প্রিয় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির সেই চরম অরক্ষিত বাড়িটিতে।

বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, আন্দোলন সংগ্রামের এ তীর্থ ভূমিতুল্য বাড়িটি অসম্ভব প্রিয় ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই বাড়িতেই একদল বিপথগামী পাক হায়েনার প্রেতাত্মারা সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তির মহানায়ক স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষে যখন ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা থেকে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তখনই ঘটানো হয় ইতিহাসের নির্মম এ ঘটনা।

Tag :

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর অসম্ভব প্রিয় ছিল ৩২ নম্বর বাড়িটি

আপডেট টাইম : ০৪:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০

৭১: ‘সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে/স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে/সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে/অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে’-বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে কবি রফিক আজাদ তার ‘এই সিঁড়ি’ কবিতায় এভাবেই বর্ণনা করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা পৃথিবীর যেকোনো হত্যাকাণ্ডকে হার মানায়। জন্ম দেয় বাঙালি জাতির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক স্মৃতির। নানা ঘটনা প্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে আবারো এসেছে আগস্ট। সেই শোকাবহ আগস্টের অষ্টম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৮ আগস্ট ছিল শুক্রবার। সকাল ১০টায় প্রথম ও দ্বিতীয় কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানদ্বয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় রেল প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আলতাফ হোসেন এবং বেলা সাড়ে ১১টায় পানি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মোমিনউদ্দিন আহমদ সাক্ষাৎ করেন। এরা দু’জন পরে খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী হন। সৈয়দ আলতাফ ছিলেন ন্যাপ (মুজাফফর) নেতা। নিজের সৃষ্ট দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের হুমকি হতে পারে, কখনো ভাবেননি বঙ্গবন্ধু। এ কারণে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি তিনি।

সুরক্ষিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করতেন প্রিয় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। কিন্তু রাতের আঁধারে বাড়িতে পৈশাচিক পন্থায় হামলা চালায় দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা।

বুলেটের আঘাতে রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়ি। ঝাঁজরা হয়ে যায় দরজা, জানালা, বাড়ি ও দেয়াল। রক্তসাগরে ডুবে ছিল লাশগুলো। বঙ্গবন্ধু খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন স্বাধীন দেশের কোনো বাঙালি তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না। আর সে জন্যই একজন প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্তেও বঙ্গভবনের পরিবর্তে থাকতেন তার প্রিয় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির সেই চরম অরক্ষিত বাড়িটিতে।

বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, আন্দোলন সংগ্রামের এ তীর্থ ভূমিতুল্য বাড়িটি অসম্ভব প্রিয় ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই বাড়িতেই একদল বিপথগামী পাক হায়েনার প্রেতাত্মারা সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তির মহানায়ক স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষে যখন ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা থেকে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তখনই ঘটানো হয় ইতিহাসের নির্মম এ ঘটনা।