বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা-বৃষ্টিতে নাজেহাল মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০
  • / 133

৭১: প্রথম দফার ধকল না কাটতেই দ্বিতীয় দফার বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের জনজীবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা বৃষ্টি। সব মিলিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : বকশীগঞ্জে ২১ দিন ধরে বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছে চারটি ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষ। দুই দফা বন্যার সঙ্গে গত চারদিন ধরে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। বন্যা আর বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা হয়েছে বানভাসিদের। একদিকে পানিবন্দি অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না বানভাসি মানুষ।

কুমাখালী (কুষ্টিয়া) : গড়াই নদীতে বেড়েই চলেছে পানি। এতে নদী সংলগ্ন চাপড়া ও যদুবয়রা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে পাড় ভেঙে কয়েকটি গ্রাম ও শত শত বিঘা কৃষি জমিতে পানি ঢুকে পড়ছে। ফলে ধান, পাঠ, ভুট্টা, কলাসহ বিভিন্ন ফসল প্লাবিত হয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারে গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওভার ফ্লো হয়েছে। চাপড়াতে একটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছিল। তবে স্থানীয়ের নিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : আজমিরীগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তলিয়ে গেছে হাওরের জমিসহ সদর উপজেলা থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে যাওয়ার রাস্তাঘাট।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান খাঁন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও বিপদসীমার উপরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। সংকট রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণের। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। তবে বন্যাকবলিতদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য বিতরণ অব্যাহত আছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী।

কুড়িগ্রাম : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কম ও বৃদ্ধির মধ্যে থাকলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার অববাহিকার রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক চরাঞ্চলের মানুষ তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, ত্রাণের পাশাপাশি চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে জেলার চার লাখ ২৮ হাজার ৫২৫ পরিবারকে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ত্রাণের পাশাপাশি এ চাল বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের উপকারে আসবে।

এদিকে, নাগেশ্বরীতে একটানা ২৬ দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে ১০ ইউনিয়নের ৫৫টি গ্রাম। করোনা, বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাতে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে বানভাসি ছয় হাজার ৫৭০ পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের জীবন।

ভারি বৃষ্টি ও উজানের পাহারী ঢলে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ফুলকুমর, গঙ্গাধর ও শংকোষসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ জুন লোকালয়ে প্রবেশ করে। প্লাবিত হয় বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জ, ভিতরবন্দ, নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাষ ও রায়গঞ্জ ইউনিয়ন। এরপর কখনও বন্যার উন্নতি, কখনও অবনতি। এ অবস্থায় কেটে গেছে ২৬ দিন। ঘরে বাইরে অথৈ পানি। বিশুদ্ধ পানি মিলছে না অনেক এলাকায়। কলাগাছের ভেলায় উনুন বসিয়ে চলছে রান্নার কাজ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোখাখারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে পরপর দুই দফায় বানভাসিদের মাঝে ৯৬ টন চাল, আট লাখ ১০ হাজার টাকা ও ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ৩৮০ পরিবারের ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ, এক কেজি চিনি ও এক কেজি করে সুজি শিশু খাদ্য বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।facebook sharing button whatsapp sharing button

Tag :

শেয়ার করুন

বন্যা-বৃষ্টিতে নাজেহাল মানুষ

আপডেট টাইম : ০৫:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০

৭১: প্রথম দফার ধকল না কাটতেই দ্বিতীয় দফার বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের জনজীবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা বৃষ্টি। সব মিলিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : বকশীগঞ্জে ২১ দিন ধরে বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছে চারটি ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষ। দুই দফা বন্যার সঙ্গে গত চারদিন ধরে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। বন্যা আর বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা হয়েছে বানভাসিদের। একদিকে পানিবন্দি অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না বানভাসি মানুষ।

কুমাখালী (কুষ্টিয়া) : গড়াই নদীতে বেড়েই চলেছে পানি। এতে নদী সংলগ্ন চাপড়া ও যদুবয়রা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে পাড় ভেঙে কয়েকটি গ্রাম ও শত শত বিঘা কৃষি জমিতে পানি ঢুকে পড়ছে। ফলে ধান, পাঠ, ভুট্টা, কলাসহ বিভিন্ন ফসল প্লাবিত হয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারে গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওভার ফ্লো হয়েছে। চাপড়াতে একটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছিল। তবে স্থানীয়ের নিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : আজমিরীগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তলিয়ে গেছে হাওরের জমিসহ সদর উপজেলা থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে যাওয়ার রাস্তাঘাট।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান খাঁন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও বিপদসীমার উপরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। সংকট রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণের। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। তবে বন্যাকবলিতদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য বিতরণ অব্যাহত আছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী।

কুড়িগ্রাম : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কম ও বৃদ্ধির মধ্যে থাকলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দীর্ঘ ২৬ দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার অববাহিকার রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক চরাঞ্চলের মানুষ তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, ত্রাণের পাশাপাশি চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে জেলার চার লাখ ২৮ হাজার ৫২৫ পরিবারকে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। ত্রাণের পাশাপাশি এ চাল বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের উপকারে আসবে।

এদিকে, নাগেশ্বরীতে একটানা ২৬ দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে ১০ ইউনিয়নের ৫৫টি গ্রাম। করোনা, বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাতে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে বানভাসি ছয় হাজার ৫৭০ পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ মানুষের জীবন।

ভারি বৃষ্টি ও উজানের পাহারী ঢলে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ফুলকুমর, গঙ্গাধর ও শংকোষসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ জুন লোকালয়ে প্রবেশ করে। প্লাবিত হয় বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জ, ভিতরবন্দ, নুনখাওয়া, নারায়ণপুর, কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাষ ও রায়গঞ্জ ইউনিয়ন। এরপর কখনও বন্যার উন্নতি, কখনও অবনতি। এ অবস্থায় কেটে গেছে ২৬ দিন। ঘরে বাইরে অথৈ পানি। বিশুদ্ধ পানি মিলছে না অনেক এলাকায়। কলাগাছের ভেলায় উনুন বসিয়ে চলছে রান্নার কাজ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোখাখারুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে পরপর দুই দফায় বানভাসিদের মাঝে ৯৬ টন চাল, আট লাখ ১০ হাজার টাকা ও ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ৩৮০ পরিবারের ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ, এক কেজি চিনি ও এক কেজি করে সুজি শিশু খাদ্য বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।facebook sharing button whatsapp sharing button