বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০
  • / 147

৭১: পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যাকবলিত অঞ্চলের বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

শেরপুর : গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন গ্রাম। এরই মধ্যে জেলায় ৫০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পানির স্রোতে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক ডুবে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের রোপা আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়ালীউল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলায় বন্যায় কবলিতদের জন্য আড়াই লাখ টাকা ও ১৫০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

নওগাঁ : আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে ও যমুনা নদীর শহররক্ষা বাঁধের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে কমপক্ষে চার হাজার ১৯৪ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল এবং বীজতলা তলিয়ে গেছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. রবী আহ নূর আহমেদ জানিয়েছেন, সদর উপজেলায় যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাপানিয়া, দুবলহাটি, হাঁসাইগাড়ি, বলিহার, শিকারপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া উজানের ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে রানীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর, গোনা, মিরাট ও বড়গাছা ইউনিয়ন, আত্রাই উপজেলায় আত্রাই নদীর তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ধামইরহাট সদর, আড়ানগর, জাহানপুর ইউনিয়ন ও ধামইরহাট পৌরসভা এলাকা, মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর পৃথক চাটি স্থানে বাঁধ ভেঙে তেঁতুলিয়া, বিষ্ণপুর, কালিকাপুর, কশব, কাঁশোপাড়া ও নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন এবং সাপাহার উপজেলায় পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিরন্টি, আইহাই ও পাতাড়ী ইউনিয়নের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পয়েন্টে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি। চলতি সপ্তাহজুড়ে পানি বাড়তে থাকায় ওই দুটি ইউনয়নের চর এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবান্দ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত শত শত বসতবাড়ির চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে। ইতোমধে শত শত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী, তেনাপচা, চর বেতকা, দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়া, ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও উজানচর ইউনিয়নের বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক ইদ্রিস আলী জানান, দৌলতদিয়া পয়েন্ট পদ্মা নদীর পানি গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

নরসিংদী : মেঘনা ভাঙনে সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের অধিকাংশ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রীনগর, শুটকিকান্দী, জগৎপুর ও রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ও চরমধুয়া ইউনিয়নের মেঘনার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, মেঘনা নদীতে অনাকাক্সিক্ষত জোয়ারের কারণে তীরবর্তী নিচু গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া, চাঁনপুর ইউনিয়নে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে তা রোধ করতে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত বছর সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শুটকিকান্দি গ্রামে মেঘনার পাড়গুলো মেরামত করা হয়েছিল। তবে ঝুঁকিতে থাকা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সব সময় খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) : উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারটি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে গিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিচু এলাকার মানুষ। শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু খামারিরা রয়েছেন বিপাকে। এসব এলাকায় পশুখাদ্য সংকটে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বন্যা কিছু মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : নাগেশ্বরীতে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এর ফলে অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। সেইসঙ্গে দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসি মানুষের। গতকাল রোববার ভোর থেকে শুর হয় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত। সেইসঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আবার বাড়তে থাকে উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি। রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুধকুমার নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কুড়িগ্রাম আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, আগামী এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

কাউনিয়া (রংপুর) : তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। ইতোমধ্যে উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের দেড় শতাধিক বাড়িসহ প্রায় ২০০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তার এলাকায় শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা তালিকা তৈরি করছি।

সদরপুর (ফরিদপুর) : পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ পয়েন্টে বন্যার পানি গতকাল রবিবার এক সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু এহসান মিয়া জানান বন্যায় এ পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার ৫৬৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এক হাজার ২৮ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমর্জিত হয়েছে।facebook sharing button whatsapp sharing button

Tag :

শেয়ার করুন

ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি

আপডেট টাইম : ০৫:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

৭১: পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যাকবলিত অঞ্চলের বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

শেরপুর : গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন গ্রাম। এরই মধ্যে জেলায় ৫০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। পানির স্রোতে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক ডুবে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের রোপা আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়ালীউল হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলায় বন্যায় কবলিতদের জন্য আড়াই লাখ টাকা ও ১৫০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

নওগাঁ : আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে ও যমুনা নদীর শহররক্ষা বাঁধের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে কমপক্ষে চার হাজার ১৯৪ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল এবং বীজতলা তলিয়ে গেছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. রবী আহ নূর আহমেদ জানিয়েছেন, সদর উপজেলায় যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাপানিয়া, দুবলহাটি, হাঁসাইগাড়ি, বলিহার, শিকারপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া উজানের ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে রানীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর, গোনা, মিরাট ও বড়গাছা ইউনিয়ন, আত্রাই উপজেলায় আত্রাই নদীর তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ধামইরহাট সদর, আড়ানগর, জাহানপুর ইউনিয়ন ও ধামইরহাট পৌরসভা এলাকা, মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর পৃথক চাটি স্থানে বাঁধ ভেঙে তেঁতুলিয়া, বিষ্ণপুর, কালিকাপুর, কশব, কাঁশোপাড়া ও নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন এবং সাপাহার উপজেলায় পুনর্ভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিরন্টি, আইহাই ও পাতাড়ী ইউনিয়নের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পয়েন্টে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি। চলতি সপ্তাহজুড়ে পানি বাড়তে থাকায় ওই দুটি ইউনয়নের চর এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবান্দ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত শত শত বসতবাড়ির চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে। ইতোমধে শত শত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী, তেনাপচা, চর বেতকা, দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়া, ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও উজানচর ইউনিয়নের বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক ইদ্রিস আলী জানান, দৌলতদিয়া পয়েন্ট পদ্মা নদীর পানি গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

নরসিংদী : মেঘনা ভাঙনে সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের অধিকাংশ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রীনগর, শুটকিকান্দী, জগৎপুর ও রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ও চরমধুয়া ইউনিয়নের মেঘনার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, মেঘনা নদীতে অনাকাক্সিক্ষত জোয়ারের কারণে তীরবর্তী নিচু গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া, চাঁনপুর ইউনিয়নে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে তা রোধ করতে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত বছর সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শুটকিকান্দি গ্রামে মেঘনার পাড়গুলো মেরামত করা হয়েছিল। তবে ঝুঁকিতে থাকা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সব সময় খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) : উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারটি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে গিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিচু এলাকার মানুষ। শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু খামারিরা রয়েছেন বিপাকে। এসব এলাকায় পশুখাদ্য সংকটে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বন্যা কিছু মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : নাগেশ্বরীতে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এর ফলে অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। সেইসঙ্গে দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসি মানুষের। গতকাল রোববার ভোর থেকে শুর হয় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত। সেইসঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আবার বাড়তে থাকে উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি। রোববার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুধকুমার নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কুড়িগ্রাম আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, আগামী এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

কাউনিয়া (রংপুর) : তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ। ইতোমধ্যে উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের দেড় শতাধিক বাড়িসহ প্রায় ২০০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তার এলাকায় শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা তালিকা তৈরি করছি।

সদরপুর (ফরিদপুর) : পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ পয়েন্টে বন্যার পানি গতকাল রবিবার এক সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু এহসান মিয়া জানান বন্যায় এ পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার ৫৬৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এক হাজার ২৮ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমর্জিত হয়েছে।facebook sharing button whatsapp sharing button