ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পাইপ
- আপডেট টাইম : ১০:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০
- / 146
নিউজ লাইট ৭১: ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সরকার। এ লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পাইপ লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ভারতের মুরালীগড় থেকে শিলিগুড়ি রেল টার্মিনাল পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার পাইপ লাইন রয়েছে। এখন শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ভারত অংশে পাঁচ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশে ১২৫ কিলোমিটার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ভারতের অংশে কাজ শুরু হয়ে গেছে।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপোতে জ্বালানি তেল রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগনে পরিবহন করা হয়। আমদানিকৃত, ইস্টার্ন লিমিটেড এবং স্থানীয় অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি তেল চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনায় মজুদ করা হয়। সেখান থেকে নৌপথে দৌলতপুর ডিপো ও খুলনা পাঠানো হয়। পরে ট্যাঙ্ক ওয়াগনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেল হেড ডিপোতে পাঠানো হয়। এতে সময় লাগে কমপক্ষে ৭ দিন। তাছাড়া এভাবে তেল পরিবহন করা ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সরকার ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবর্তীপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাইপ লাইন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিভিন্ন প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অংশে কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দিপন গ্যাস লিমিটেডকে’।
প্রকল্প পরিচালক টিপু সুলতান গণমাধ্যমকে জানান, তিনটি জেলার ৯টি উপজেলার মধ্য দিয়ে এ ১২৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্দা, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা, দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর উপজেলা এবং নীলফামারী জেলার নীলফামারী ও সৈয়দপুর হয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে ডিপোতে নিয়ে আসা হবে।
তিনি বলেন, পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য ১৮৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং ১২৬ একর জমি হুকুম দখল করা হয় ২ বছরের জন্য। পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য এ ১২৬ একর জমি ব্যবহার করা হবে এবং পাইপ স্থাপনের ২ বছর পর তা মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। জমি দখলের জন্য ৩৯০০ পরিবারকে আট বার উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর আর নোটিস দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হবে এবং ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ সমাপ্ত হবে। আশা করা যায় আগামী ২২ সালের জুলাই মাস থেকে পাইপ লাইনে তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ভারত সরকার দেবে ৩০৩ কোটি রুপি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেবে ৩০৬ কোটি ২৩ লক্ষ্য টাকা।
টিপু সুলতান জানান, ভারত সরকার প্রতিবছর ১০ লাখ টন ডিজেল পাইপ লাইনে সরবরাহ করবে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকেই ২৪ কিলোমিটার পাইপ লাইন দেশে এসে পৌঁছেছে। বাকি পাইপ পথে রয়েছে, যা অতি শিগগিরই দেশে পৌঁছবে। এ প্রকল্প চালু হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে তেলের অপচয় কমবে। ১০ ইঞ্চি ব্যাসের এ পাইপ দিয়ে বছরে ১০ লাখ টন ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ভারতীয় ৫ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।























