আসছে ৪ হাজার কিমি মহাসড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায়
- আপডেট টাইম : ০১:১৩:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
- / 31
দুর্ঘটনা কমানো এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ৩ হাজার ৯শ ৯৪ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহাসড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশ। বিশেষ সেন্সরযুক্ত এসব ক্যামেরায় যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করা হবে। কোনো যানবাহন নির্দিষ্ট গতিসীমা না মানলে সেই যানবাহনের নামে ভিডিও মামলা দেয়ার সুবিধা রয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্নস্থানে ৭২টি নতুন হাইওয়ে থানার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেইসাথে জাতীয় মহাসড়কে ত্রি-হুইলার যানবাহন বন্ধে জোরালো অভিযানও চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলার আরও উন্নতি করতে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। পুলিশ সদর দপ্তর আমাদের নানাভাবে সহায়তা করছে। সারা দেশের মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। ওই ক্যামেরার মাধ্যেমে সব যানবাহনের গতীবিধি পর্যবেক্ষন করা হবে। কোনো যানবাহন নির্দিষ্ট গতিসীমা না মানলে, তাৎক্ষনিক শনাক্ত করে ওই যানবাহনের নামে ভিডিও মামলা দেয়া হবে এবং তা কাগজপত্রে উল্লেখ থাকা ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হবে। সেখানে মামলার কারন উল্লেখ করা থাকবে। প্রয়োজনে অপরাধের ধরন যানবাহনের মালিক নিজেই তার মোবাইল ফোনে দেখতে পাবেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে ক্যামেরা বসানের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেও শিগগির ক্যামেরা বসবে আশা করছি। সড়কে আইন অমান্যকারীরা সহজেই আইনের আওতায় আসবে। মহাসড়কে যান চলাচল আরও মসৃন করতে নতুন করে ৭২টি থানার প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তা অনুমোদন পাওয়া যাবে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমান ৯৬টি জাতীয় মহাসড়কের পরিধি ৩ হাজার ৯৯৪ কিলোমিটার ও ১২৬টি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিধি ৪ হাজার ৮৮৩কিলোমিটার। এছাড়া জেলা সড়ক রয়েছে ১৩ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার। এরমধ্যে সব থেকে বেশি দূর্ঘটনা ঘটে জাতীয় মহাসড়কে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমান ৯৬টি জাতীয় মহাসড়কের পরিধি ৩ হাজার ৯৯৪ কিলোমিটার ও ১২৬টি আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিধি ৪ হাজার ৮৮৩কিলোমিটার। এছাড়া জেলা সড়ক রয়েছে ১৩ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার। এরমধ্যে সব থেকে বেশি দূর্ঘটনা ঘটে জাতীয় মহাসড়কে।
কারণ হিসাবে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এই সড়কে অবাধে ত্রি-হুইলার যানবাহনের চলাচল, বেপরোয়া গতি ও ফিটনেস বিহীন যানবাহনের অবাধ বিচরণ। এ কারনে দেশের হাইওয়েগুলোতে নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশ বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, সব মহাসড়ক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো। এই ক্যামেরায় ১ মাস পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকবে।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও খুলনা মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কগুলোতেও কাজ শুরু হবে। এক বছরের মধ্যে মহাসড়কের সবস্থান ক্যামেরার আওতায় আসবে। যেসব সড়কে সিসি ক্যামেরা থাকবে, সেখানে কোনো গাড়ি আইন অমান্য করলে সেটির নম্বর প্লেট কন্ট্রোল রুমে সিসি ক্যামেরার পর্দায় (স্ক্রিনে) ভেসে উঠবে। ফলে ‘অটোমেটিক ডিটেকশন’ ব্যবস্থায় গাড়িগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার আওতায় আসবে। এরপর ঠিকানা যাচাই-বাছাই হওয়ার পর মামলার কাগজপত্র চলে যাবে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায়।
এসব বিষয়ে তদারকির জন্য প্রাতিটি জোনে বসানো হবে আলাদা আলাদা কন্ট্রোল রুম। একই সাথে বিষয়গুলো আরও তদারকির জন্য নতুন করে ৭২টি হাইওয়ে থানা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এডিপির অর্থায়নে প্রস্তাবিত থানাগুলো হচ্ছে- কক্সাবাজারের মেরিন ড্রাইভ, সাবরাং, মহেশপুর, রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, বান্দরবানের চিম্বুক, নীলাচল, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, নওগাঁর মান্দা, পত্নীতলা, নওহাটা, বগুড়ার মহাস্থানগড়, শেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, জয়পুরহাটের কালাই, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, রংপুরের কাউনিয়া, কুড়িগ্রামের নাগেরশ্বরী, লালমনিরহাটের সদর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, দিনাজপুর সদর, ঘোড়াঘাট, ঠাকুরগাঁও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, টাঈাইলের নাগরপুর, এলেঙ্গা, গাজীপুরের চন্দ্রা, নরসিংদীর ঘোড়াশাল, ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ, মুক্তাগাছা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী, শেরপুরের গৌড়দ্বার, ফরিদপুরের মুন্সিবাজার, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, ভাটিয়াপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, খানজাহান আলী, মোংলা, সাতক্ষীরার সদর, ঝিনাইদহের আরাপপুর, নড়াইলের লোহাগড়া, কুষ্টিয়ার গড়াই, চুয়াডাঙ্গার সদর, দর্শনা, মেহেরপুর সদর, মাদারীপুরের মোস্তফাপুর, যশোরের খাজুরা, পিরোজপুর সদর, ঝালকাঠির গাবখান, দপদপিয়া, ভোলার বাংলাবাজার, চরফ্যাশন, পটুয়াখালীর পায়রা, লেবুখালী, কুয়াকাটা, বরগুনার আমতলী, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, সিলেটের চারখাই, ফেঞ্চুগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দাবাদ।
হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে ৩৬টি থানা ও ৩৭টি ফাঁড়ি নিয়ে সড়ক ও মহাসড়কে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সিসি ক্যামেরার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হওয়ার পর অটোমেটিক নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ, যানবাহনের গতিপথ নির্ধারণ, হাইস্পিড ডিটেকশন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যান দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ক্যামেরা স্থাপিত হলে অন্ধকার ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায়ও রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের নম্বর প্লেটের স্পষ্ট ছবি ধারণ ও সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকবে। কোথাও কোনো ঝামেলা বা অপরাধের কারণে লোকসমাগম বেশি হলে মনিটরিং সেলে আগাম সংকেত চলে আসবে। আইন অমান্য করার পর পুলিশ না ধরলেও সমস্যা নেই। যানবাহনের ঠিকানায় মামলার কাগজপত্র চলে যাবে। মামলার তথ্য চলে যাবে যানবাহনের মালিকের মোবাইলেও। বিভিন্ন উন্নত দেশে এভাবেই যানবাহনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে সিসিটিভির কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরেও আলাদাভাবে কন্ট্রোল রুম থাকবে। টমটম-নছিমনসহ ত্রি-হুইলার যানবাহন মহাসড়কে উঠলেই তা সংক্রিয় সিগন্যাল পাবে কন্ট্রোল রুম। এরপর ওই এলাকায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিকত কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হবে। এবং ওই কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
জানা গেছে, প্রথমিক পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসানো সিসি ক্যামেরা কার্যক্রমকে টেস্ট হিসেবে নেয়া হয়েছে। এই মহাসড়কে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়াতে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রাম নামে চারটি জোন করা হয়েছে। এসব জোনের ২৫০ কিলোমিটারজুড়ে ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসবের মধ্যে লং ভিশন পিটিজেড ডোম ক্যামেরা ১৬টি, পিটিজেড ডোম ক্যামেরা ৪৭১টি, বুলেট ক্যামেরা ৯২৪টি ও চেক পয়েন্ট ক্যামেরা ১৬টি। বিদুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেমসহ ৪৯০টি ক্যামেরার পোল রয়েছে।
পাশাপাশি ১টি সেন্ট্রাল কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ৫টি মনিটরিং সেন্টার, ৫ পেটাবাইটের ডেটা সেন্টার, ডেটা সেন্টারের মডিউলার সিস্টেম (এসিসহ), নেটওয়ার্ক সিস্টেম, ভিডিও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ভিপিও অ্যানালাইসিস সিস্টেম ও অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন সিস্টেম রয়েছে। এইসুবিধাগুলো অন্য মহাসড়কগুলোর সিসি ক্যামেরায়ও রাখা হবে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (এইচ আর এন্ড মিডিয়া) মো. শামসুল আলম বলেন, দেশের বেশিরভাগ দূর্ঘটনায় ঘটে, বেপরোয়া গতি, ত্রি-হুইলার যানবাহন ও ফিটনেসবিহীন যানবহনের কারণে। প্রতিটি দূর্ঘটনায়ই একটি পরিবার অকল্পনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে দূর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো, জাতীয় মহাসড়কে ত্রি-হুইলার বন্ধ করার উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে মহাসড়কের চিত্র অনেকটাই বদলে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজ লাইট ৭১






















