মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ১১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২
  • / 58

বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প (ছবি : সংগৃহীত)

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের বয়স ৫০ বছর পার হয়েছে আগেই। মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ জোরাল। আবার চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ভুগতে শুরু করেছে বিশ্বের বহু দেশ।

যদিও আঞ্চলিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিজেদের অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। সোমবার (১ আগস্ট) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্যই দিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া দ্য ইকোনমিক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে বাংলাদেশ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। উৎপাদন খাতের বিস্তৃত ভিত্তি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে উদ্দীপনাসহ এটি এশিয়ার জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতি হতে পারে।

১৯৭১ সালের পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাহীন ঝুড়ি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মূলত এরপর সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সদ্য উদ্বোধন হওয়া স্বপ্নের পদ্মা সেতুটি সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সেতুর অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তারাই এখন এটি সম্পূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সড়ক-রেল সেতু (পদ্মা সেতু) গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এছাড়া এই সেতুর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিও হয়েছে বেশ শক্তিশালী।

এমনকি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোভিড মহামারির আগেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ওপরে ছিল। ২০১৮-১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। একই সময়ে পাকিস্তানের এই হার ছিল মাত্র ৫.৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ নিজেই নিজেকে উন্নয়নের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে। ভিশন-২০৪১ নামের এই রোডম্যাপের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকট দারিদ্র্যের অবসান এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়া। আর এর মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অর্জন করছে ছোট্ট এই দেশ।

কৃষি থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস এবং জাহাজ নির্মাণ থেকে গার্মেন্টস পর্যন্ত বাংলাদেশের শিল্প ভিত্তি ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং দেশটির রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দেশটির অর্থনীতিকে সমান গতিতে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে লাগাম টানা, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স নগদ প্রণোদনা এবং বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর আরোপ; এই সবই দেশটিকে তার রিজার্ভ তৈরি করতে সাহায্য করছে, যেন সহজেই আমদানির চাহিদা মেটানো যায়।

এছাড়া রফতানি বৃদ্ধি এবং আমদানি হ্রাসের বিষয়ে সরকারের নেওয়া নীতি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে শুরু করেছে। যদিও অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধপরিকর। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হলো- গার্মেন্টস এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরণ করা বৈদেশিক রেমিটেন্স। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

যদিও কোভিড মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে, অনেকে ধরে নিয়েছিল যে- বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ হ্রাস পাবে কারণ অনেক প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকে চাকরি হারিয়েছিলেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্যের কারণে, অনেক বাংলাদেশি বিদেশে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন এবং মহামারির পূর্বের হারে দেশে আবারও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংক-আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২২ সালের বসন্তকালীন বৈঠকে কোভিড মহামারি মোকাবিলা এবং এর প্রভাব থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য নেওয়া নীতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করায় বাংলাদেশের ব্যাপক প্রশংসা করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থান দখলে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী- বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়।

অর্থাৎ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শিশুমৃত্যুর হার ৮৫ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ১৪১ জন। অন্য দিকে পাকিস্তানে এখন শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫৫ জন। যা বাংলাদেশের তুলনায় অত্যধিক বেশি।

নিউজ লাইট ৭১

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
sharethis sharing button
Tag :

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল

আপডেট টাইম : ১১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ অগাস্ট ২০২২

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের বয়স ৫০ বছর পার হয়েছে আগেই। মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণের মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ জোরাল। আবার চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ভুগতে শুরু করেছে বিশ্বের বহু দেশ।

যদিও আঞ্চলিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিজেদের অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। সোমবার (১ আগস্ট) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্যই দিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া দ্য ইকোনমিক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে বাংলাদেশ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। উৎপাদন খাতের বিস্তৃত ভিত্তি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে উদ্দীপনাসহ এটি এশিয়ার জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতি হতে পারে।

১৯৭১ সালের পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাহীন ঝুড়ি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মূলত এরপর সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সদ্য উদ্বোধন হওয়া স্বপ্নের পদ্মা সেতুটি সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সেতুর অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তারাই এখন এটি সম্পূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।

৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সড়ক-রেল সেতু (পদ্মা সেতু) গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এছাড়া এই সেতুর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিও হয়েছে বেশ শক্তিশালী।

এমনকি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোভিড মহামারির আগেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ওপরে ছিল। ২০১৮-১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। একই সময়ে পাকিস্তানের এই হার ছিল মাত্র ৫.৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ নিজেই নিজেকে উন্নয়নের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে। ভিশন-২০৪১ নামের এই রোডম্যাপের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকট দারিদ্র্যের অবসান এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হওয়া। আর এর মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অর্জন করছে ছোট্ট এই দেশ।

কৃষি থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস এবং জাহাজ নির্মাণ থেকে গার্মেন্টস পর্যন্ত বাংলাদেশের শিল্প ভিত্তি ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং দেশটির রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দেশটির অর্থনীতিকে সমান গতিতে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে লাগাম টানা, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স নগদ প্রণোদনা এবং বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর আরোপ; এই সবই দেশটিকে তার রিজার্ভ তৈরি করতে সাহায্য করছে, যেন সহজেই আমদানির চাহিদা মেটানো যায়।

এছাড়া রফতানি বৃদ্ধি এবং আমদানি হ্রাসের বিষয়ে সরকারের নেওয়া নীতি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে শুরু করেছে। যদিও অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধপরিকর। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হলো- গার্মেন্টস এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরণ করা বৈদেশিক রেমিটেন্স। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

যদিও কোভিড মহামারির প্রাথমিক পর্যায়ে, অনেকে ধরে নিয়েছিল যে- বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ হ্রাস পাবে কারণ অনেক প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকে চাকরি হারিয়েছিলেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্যের কারণে, অনেক বাংলাদেশি বিদেশে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন এবং মহামারির পূর্বের হারে দেশে আবারও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংক-আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২২ সালের বসন্তকালীন বৈঠকে কোভিড মহামারি মোকাবিলা এবং এর প্রভাব থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য নেওয়া নীতিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করায় বাংলাদেশের ব্যাপক প্রশংসা করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থান দখলে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী- বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়।

অর্থাৎ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শিশুমৃত্যুর হার ৮৫ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ১৪১ জন। অন্য দিকে পাকিস্তানে এখন শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫৫ জন। যা বাংলাদেশের তুলনায় অত্যধিক বেশি।

নিউজ লাইট ৭১

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
email sharing button
sharethis sharing button