বনের পাশে অবৈধ ৩৩ করাতকল
- আপডেট টাইম : ০৭:২৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুন ২০২১
- / 120
আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশই প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির বাহক। সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিবেশের সঙ্গে প্রাণির মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার উপরেই তার অস্তিত্ব নির্ভর করে আসছে। পরিবেশ প্রতিকূল হলে জীবের ধ্বংস ও বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানুষ, অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণি জীবনের বিকাশ ঘটে।
তাই পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে রয়েছে এক নিবিড় যোগসূত্র। কিন্তু নানা কারণে পরিবেশদূষণ সমস্যা প্রকট হওয়ায় মানবসভ্যতা আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের মূল হচ্ছে জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তন মোকাবেলায় বন, বন্যপ্রাণি ও বনভূমি সংরক্ষণ। বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের তিনটি রেঞ্জের ১১ টি বিটের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে ৩৩ টি করাতকল স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংরক্ষিত শাল-গজারি ও সামাজিক বনায়নের ভেতর, বন ঘেঁষে এমনকি বন কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের কাছেই এসব কল স্থাপন করা হয়েছে।
পৌরসভার করাতকলের মালিকদের অভিযোগ, বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের বিধান না থাকলেও স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দিন-রাত এসব করাতকলে অবাধে চেরানো হচ্ছে শাল-গজারিসহ সংরক্ষিত বনের গাছ।
বন বিভাগের তালিকা থেকে জানা যায়, ৩৩ টি অবৈধ করাতকলের মধ্যে বহেড়াতৈল রেঞ্জে ১৮ টি, হাতিয়া রেঞ্জে ১১টি ও বাঁশতৈল রেঞ্জে ৪ টি।
সরেজমিনে শুক্রবার (৪জুন) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, কালিদাস বিট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাত্র ১০০ গজের মধ্যে হুরমুজ আলীর একটি ও ফরিদ হোসেন আরেকটি করাতকল স্থাপন করেছেন।
কালিদাস বিট কর্মকর্তা বলেন, এসব করাতকলের মালিকরা মাসোহারা তো দূরের কথা, তাঁরা আমাদের সালামও দেন না।
সখীপুর পৌরসভার বৈধ করাত-কল মালিক সমিতির সভাপতি জিন্নত আলী জানান, অবৈধ করাতকলগুলোয় স্থানীয় বন বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে সরকারি বনের গাছ চেরাই চলছে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা বনায়ন কমিটির সভাপতি চিত্রা শিকারী নিউজ লাইট ৭১ কে জানান, শিগগির অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।
বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ও হাতিয়া রেঞ্জ আলাল খান কর্মকর্তা বনাঞ্চলে তিনটি রেঞ্জে অবৈধভাবে ৩৩টি করাতকল থাকার কথা স্বীকার করে জানান, উচ্ছেদের জন্য তালিকা তৈরি করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড.জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, শিগগির ওইসব অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে টাস্কফোর্স গঠন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
নিউজ লাইট ৭১

















