মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে আটক পুলিশ সদস্য

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মে ২০২১
  • / 129

ভার্চ্যুয়াল জগতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেসবুকে পেইজে অভিযোগ করে প্রতিকার পেলেন ঢাকার দোহার উপজেলার এক গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ মে) অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। সে দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার (২১ মে) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, বিগত তিন বছর আগে স্কুলে পড়াশোনা করা অবস্থায় দোহারের কবি নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তেন। ওই সময় ওই শিক্ষকের ছোটভাই পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের সাথে তার পরিচয়। পরিচয়ের সুযোগে মোবাইল থেকে সাইফুল তার বেশকিছু ব্যক্তিগত ছবি ও খোলামেলা অবস্থার ভিডিও নিয়ে নেয়।

গৃহবধূ আরও জানায়, সেই সময় ওই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করে সাইফুল। এরপর সম্পর্কের একপর্যায়ে ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় খোলামেলা অবস্থায় আমার অজান্তে আমার ভিডিও সে ধারণ করে রাখে। সেগুলো দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে সাইফুল। আমি আমার বান্ধবীদের মাধ্যমে তখন জানতে পারি সাইফুল এভাবে একাধিক মেয়ের সাথে প্রতারণা করেছে। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে কৌশলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। প্রায় এক বছর আমাদের সাথে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ থাকে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়ে গেলে নতুন করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সাইফুল। তারপর সে আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখান থেকে আমার বিভিন্ন অশালীন ছবি ও ভিডিও এডিট করে আমার স্বামীর মোবাইলে পাঠাতে থাকে। 

এভাবে নামে-বেনামে কয়েকটি আইডি থেকে সে আমাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করতে থাকে। আমার স্বামী আমাকে মানসিকভাবে সহযোগিতার করার কারণে আমি তার মাধ্যমে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ এর কথা জানতে পারি। তার পরামর্শে আমি ওই ফেসবুক পেইজের ম্যাসেঞ্জারে বিষয়টি জানালে আমার সাথে ফোনে কথা বলেন ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর টিম। তারা প্রথমে দোহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি পরবর্তীতে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং দোহার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন মামলা গ্রহনের জন্য। গত ১৯ মে আমি বাদি হয়ে পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলার পর দোহার থানা পুলিশ ফরিদপুর থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেন।

‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এ অভিযোগ করে দ্রুত প্রতিকার পেয়ে আত্মবিশ্বাসী ওই গৃহবধূ বলেন, কখনো ভাবিনি পুলিশ এত সহজে একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আমি চাই এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী অনেক নারী রয়েছেন তারা নির্ধিধায় ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর সহযোগিতা গ্রহণ করবেন। পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওই গৃহবধূ।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটি ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেসবুক পেইজে বিষয়টি জানালে সেখান থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই গৃহবধূর মামলার ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বৃহস্পতিবার সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানায় নিয়ে আসা হয়। 

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে আটক পুলিশ সদস্য

আপডেট টাইম : ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মে ২০২১

ভার্চ্যুয়াল জগতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেসবুকে পেইজে অভিযোগ করে প্রতিকার পেলেন ঢাকার দোহার উপজেলার এক গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ মে) অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। সে দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার (২১ মে) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, বিগত তিন বছর আগে স্কুলে পড়াশোনা করা অবস্থায় দোহারের কবি নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তেন। ওই সময় ওই শিক্ষকের ছোটভাই পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের সাথে তার পরিচয়। পরিচয়ের সুযোগে মোবাইল থেকে সাইফুল তার বেশকিছু ব্যক্তিগত ছবি ও খোলামেলা অবস্থার ভিডিও নিয়ে নেয়।

গৃহবধূ আরও জানায়, সেই সময় ওই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করে সাইফুল। এরপর সম্পর্কের একপর্যায়ে ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় খোলামেলা অবস্থায় আমার অজান্তে আমার ভিডিও সে ধারণ করে রাখে। সেগুলো দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে সাইফুল। আমি আমার বান্ধবীদের মাধ্যমে তখন জানতে পারি সাইফুল এভাবে একাধিক মেয়ের সাথে প্রতারণা করেছে। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে কৌশলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। প্রায় এক বছর আমাদের সাথে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ থাকে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়ে গেলে নতুন করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সাইফুল। তারপর সে আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখান থেকে আমার বিভিন্ন অশালীন ছবি ও ভিডিও এডিট করে আমার স্বামীর মোবাইলে পাঠাতে থাকে। 

এভাবে নামে-বেনামে কয়েকটি আইডি থেকে সে আমাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করতে থাকে। আমার স্বামী আমাকে মানসিকভাবে সহযোগিতার করার কারণে আমি তার মাধ্যমে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ এর কথা জানতে পারি। তার পরামর্শে আমি ওই ফেসবুক পেইজের ম্যাসেঞ্জারে বিষয়টি জানালে আমার সাথে ফোনে কথা বলেন ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর টিম। তারা প্রথমে দোহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি পরবর্তীতে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং দোহার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন মামলা গ্রহনের জন্য। গত ১৯ মে আমি বাদি হয়ে পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলার পর দোহার থানা পুলিশ ফরিদপুর থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেন।

‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এ অভিযোগ করে দ্রুত প্রতিকার পেয়ে আত্মবিশ্বাসী ওই গৃহবধূ বলেন, কখনো ভাবিনি পুলিশ এত সহজে একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আমি চাই এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী অনেক নারী রয়েছেন তারা নির্ধিধায় ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর সহযোগিতা গ্রহণ করবেন। পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওই গৃহবধূ।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটি ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেসবুক পেইজে বিষয়টি জানালে সেখান থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই গৃহবধূর মামলার ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বৃহস্পতিবার সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানায় নিয়ে আসা হয়। 

নিউজ লাইট ৭১