কামার সম্প্রদায়ের দুর্দিন
- আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১
- / 125
আগের মতো নেই কামার শিল্পের সুদিন। শুধু কুরবানির ঈদ ও বছরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মেলায় কামারদের তৈরি জিনিসের কদর কিছুটা বাড়লেও সারা বছর নানা সংকট আর কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটে তাদের দিন।
কামার সম্প্রদায়ের প্রয়োজনীয় উপকরণ লোহা ও ইস্পাত এবং কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি ও পুঁজির অভাবে মুক্তাগাছা উপজেলার কামার শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কামার সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ।
কামার শিল্পীর হাতে তৈরি গ্রাম বাংলার গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি দা, বটি, ছেনি, কুড়াল কোদাল, নিড়ানি, কাঁচি, ধান কাটার কাঁচি, শাবল খুন্তি, লাঙলের ফলাসহ ঘরের জন্য ব্যবহৃত ক্ষিভিন্ন দ্রব্যাদির চাহিদা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উৎপাদনের উপযুক্ত খরচ পাচ্ছে না কামাররা।
এ কারণে তারা তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশাকে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কামার শিল্পে ব্যবহৃত আরেকটি অপরিহার্য উপকরণ কয়লার মূল্য বর্তমানে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তাদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তাছাড়া এসব যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য তাদের যথেষ্ট পুঁজির প্রয়োজন হয়, যা তাদের অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।
বাড়তি পুঁজির যোগান দিতে অনেকেই হিমশিম খেয়ে চড়া সুদে টাকা এনে ব্যবসায় লাগিয়ে লোকসান খাচ্ছে। ফলে এ পেশার প্রতি তারা ধীরে ধীরে আস্থা হারিয়ে ফেলছে।
অপরদিকে এই শিল্পের প্রতি সরকারি বা বেসরকারি কোন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা ও সুদৃষ্টি না থাকায় কামার শিল্পীরা পুঁজির অভাবে যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করতে পারছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরেজিমনে উপজেলার বিভিন্ন কামারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে ইটভাটা থেকে কয়লা পাওয়া যেত। বর্তমানে ইটভাটা গুলোতে পাথর কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর ফলে সেখান থেকে আর কয়লা পাওয়া যায় না। বাসাবাড়ি থেকেও অনেক কয়লা পাওয়া যেত কিন্তু রান্নায় গ্যাসের চুলা ব্যবহার করায় কয়লা পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। তিন/চার বছর আগেও এক বস্তা কাঠ কয়লার দাম ৩ থেকে ৪ শ টাকায় পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এক বস্তা কাঠ কয়লার দাম প্রায় এক হাজার টাকা। অপরদিকে ৭শ টাকার পাথর কয়লার বর্তমান দাম ১৬শ ৫০ টাকা।
নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা কামার আব্দুল মোতালেব বলেন, আট-দশ বছর আগেও শহরের দরিচার আনি বাজারসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫শতাধিক পরিবার কামারি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যা দিনি হ্রাস পেয়ে বর্তমানে দেড় শতাধিক পারিবার এ পেশায় জড়িত আছেন।
প্রবীন কামার নারু কর্মকার বলেন, বংশ পরম্পরায় আমি এ পেশায় জড়িত থাকলেও ছেলেরা অন্য পেশায় জড়িত। দিনদিন এ পেশায় লোক সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন এ শিল্পকে বঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের স্বদিচ্ছা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এ শিল্প হারিয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
নিউজ লাইট ৭১

















