মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া যাবে না

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১
  • / 125

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা আক্তার বলেছেন, আপনারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ, আপনাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু আম গাছ রয়েছে। আপনাদের চারা গাছে যখন মুকুল আসে তখন আপনারা তা ভেঙ্গে ফেলেন। কারণ গাছটি ছোট, অর্থাৎ পোক্ত হয় নি। এমন গাছে ফল নিলে গাছটি পরবর্তীতে ভালো ফল দিবে না, অকালে মরে যাবে। 

কিন্তু একবারও কী ভেবে দেখেছেন? আপনার অপ্রাপ্ত বয়স্ক যে সন্তানটির বিয়ে দিলেন সেও ওই চারা গাছটির মতোই। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় তার স্বাস্থ্য হানি ঘটে, সে নানা রোগে শোকে ভুগতে থাকে। তাহলে কেন বাল্যবিয়ে দিচ্ছেন। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না। 

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১ টা থেকে শুরু হওয়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন অংশিজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন। 

এতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল কলেজের অধ্যক্ষ, মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কাজী, মৌলভি ও ঘটকরা অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ।

প্রধান অতিথি আরো বলেন-নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সরকার উপবৃত্তি দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন, এসএসসি পাস করলেই নারীদের চাকরি হয়। আজকে বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, দেশের যে ভালো অবস্থান তা সম্ভব হয়েছে নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে বলেই। 

ইসলাম ধর্মের বাখ্যদিয়ে ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে একটি আধুনিক ধর্ম, আমাদের মেয়েদের মধ্যে শালিনতা থাকবে, তাই বলে তারা ঘরে বসে থাকবে না। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া যাবে না। তাদেরকে মানুষের মতো মানুষ হতে দিন। 

তিনি বলেন-আইন করে সব কিছু বন্ধ করা যায় না। যদি যেত তাহলে খুনের বিচারে শাস্তি হবার পরও খুন হত না। 

তিনি বলেন, বড়বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে সামাজিক আন্দোলন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তাই সামাজিক আন্দেলন গড়ে তুলতে হবে। এই কাজটি যারা ইমাম, মৌলভি, কাজী সাহেবরা তারা করতে পারবেন। আপনারা মানুষকে বোঝাবেন। তারা যেন ছেলে মেয়েদের বাল্যবিয়ে না দেয়। 

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের যে ডাক দিয়েছিলেন তাতে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বলেছিলেন ‘এদেশকে মুক্ত কের ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’। কাজেই বঙ্গবন্ধু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের নামে ইসলাম নিয়ে অপব্যাখ্য দেয়া যাবে না। 

সভায় পরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। তিনি বলেন-করোনা পরিস্থিতির শুরুতে প্রচুর বাল্যবিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন জেলা ও উপজেলা প্রশাসরেন তৎপরতায় শূন্যের কোটা নেমে এসেছে। 

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. শেখ মোহাম্মদ  বখতিয়ার, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কালাম। সভায় স্বাগত বক্তব্যে বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত আইনী বিষয় তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল ইসলাম। 

সভায় জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এমন একটি জেলা যেখানে রয়েছে হজরত শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার, দেশের সাত বীর শ্রেষ্ঠের একজনের সমাধি রয়েছে এই জেলায়, আমের রাজধানী এই জেলা, এই জেলার ক্ষিরসাপাত আম জিআই পণ্য, গম্ভীরা ও আলকাপের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দেশের কয়েকটি বড় বিলের মধ্যে এই জেলার বিলভাতিয়া অন্যতম, এই জেলায় রয়েছে একটি  স্থলবন্দর একটি রেলবন্দর, এই জেলার গম্ভীরার সুনাম বিশ্বজুড়ে, এইজেলার মানুষ অনেক সুন্দর করে মধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে। 

এতো কিছু থাকার পরও এই জেলাকে আমরা একটি মাত্র কারণে মডেল জেলা ঘোষণা করতে পারিছিনা। আর তাহলো, বাল্যবিবাহ। সারাদেশের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হয় এই জেলায়। 

তাই আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন, বাল্যবিবাহ মুক্ত একটি জেলা ঘোষণা করতে আসুন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। তিনি বলেন-আজকের পর থেকে যদি কেউ বাল্যবিয়ে দেয় তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সব শেষে এই শপথ বাক্যটি পাঠ করান জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ। ‘আমি পরম করুণাময়ের নামে শপথ করছি যে, দেশে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ দিব না, বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব না এবং অন্যের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করব, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব, বাল্যবিবাহের কোনো সংবাদ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, বাল্যবিবাহের আইন যথাযথভাবে মেনে চলব, আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ’। 

এর আগে একই মঞ্চে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত মুবিজবর্ষ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচানা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন। 

এরই মাঝে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুলের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিচিতি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। 

এদিন বিকেলে সদর উপজেলার ফিলটিপাড়ায় দুস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং সন্ধ্যায় সদর উপজেলা পরিষদে হিজড়াদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া যাবে না

আপডেট টাইম : ০৭:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা আক্তার বলেছেন, আপনারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ, আপনাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু আম গাছ রয়েছে। আপনাদের চারা গাছে যখন মুকুল আসে তখন আপনারা তা ভেঙ্গে ফেলেন। কারণ গাছটি ছোট, অর্থাৎ পোক্ত হয় নি। এমন গাছে ফল নিলে গাছটি পরবর্তীতে ভালো ফল দিবে না, অকালে মরে যাবে। 

কিন্তু একবারও কী ভেবে দেখেছেন? আপনার অপ্রাপ্ত বয়স্ক যে সন্তানটির বিয়ে দিলেন সেও ওই চারা গাছটির মতোই। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় তার স্বাস্থ্য হানি ঘটে, সে নানা রোগে শোকে ভুগতে থাকে। তাহলে কেন বাল্যবিয়ে দিচ্ছেন। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না। 

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১ টা থেকে শুরু হওয়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন অংশিজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন। 

এতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল কলেজের অধ্যক্ষ, মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কাজী, মৌলভি ও ঘটকরা অংশগ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ।

প্রধান অতিথি আরো বলেন-নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সরকার উপবৃত্তি দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন, এসএসসি পাস করলেই নারীদের চাকরি হয়। আজকে বাংলাদেশ যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, দেশের যে ভালো অবস্থান তা সম্ভব হয়েছে নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে বলেই। 

ইসলাম ধর্মের বাখ্যদিয়ে ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে একটি আধুনিক ধর্ম, আমাদের মেয়েদের মধ্যে শালিনতা থাকবে, তাই বলে তারা ঘরে বসে থাকবে না। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া যাবে না। তাদেরকে মানুষের মতো মানুষ হতে দিন। 

তিনি বলেন-আইন করে সব কিছু বন্ধ করা যায় না। যদি যেত তাহলে খুনের বিচারে শাস্তি হবার পরও খুন হত না। 

তিনি বলেন, বড়বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে সামাজিক আন্দোলন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তাই সামাজিক আন্দেলন গড়ে তুলতে হবে। এই কাজটি যারা ইমাম, মৌলভি, কাজী সাহেবরা তারা করতে পারবেন। আপনারা মানুষকে বোঝাবেন। তারা যেন ছেলে মেয়েদের বাল্যবিয়ে না দেয়। 

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের যে ডাক দিয়েছিলেন তাতে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বলেছিলেন ‘এদেশকে মুক্ত কের ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’। কাজেই বঙ্গবন্ধু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের নামে ইসলাম নিয়ে অপব্যাখ্য দেয়া যাবে না। 

সভায় পরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। তিনি বলেন-করোনা পরিস্থিতির শুরুতে প্রচুর বাল্যবিয়ে হয়েছে কিন্তু এখন জেলা ও উপজেলা প্রশাসরেন তৎপরতায় শূন্যের কোটা নেমে এসেছে। 

এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. শেখ মোহাম্মদ  বখতিয়ার, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কালাম। সভায় স্বাগত বক্তব্যে বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত আইনী বিষয় তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল ইসলাম। 

সভায় জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এমন একটি জেলা যেখানে রয়েছে হজরত শাহ নেয়ামতুল্লাহর মাজার, দেশের সাত বীর শ্রেষ্ঠের একজনের সমাধি রয়েছে এই জেলায়, আমের রাজধানী এই জেলা, এই জেলার ক্ষিরসাপাত আম জিআই পণ্য, গম্ভীরা ও আলকাপের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দেশের কয়েকটি বড় বিলের মধ্যে এই জেলার বিলভাতিয়া অন্যতম, এই জেলায় রয়েছে একটি  স্থলবন্দর একটি রেলবন্দর, এই জেলার গম্ভীরার সুনাম বিশ্বজুড়ে, এইজেলার মানুষ অনেক সুন্দর করে মধুর সুরে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে। 

এতো কিছু থাকার পরও এই জেলাকে আমরা একটি মাত্র কারণে মডেল জেলা ঘোষণা করতে পারিছিনা। আর তাহলো, বাল্যবিবাহ। সারাদেশের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হয় এই জেলায়। 

তাই আপনারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন, বাল্যবিবাহ মুক্ত একটি জেলা ঘোষণা করতে আসুন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি। তিনি বলেন-আজকের পর থেকে যদি কেউ বাল্যবিয়ে দেয় তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সব শেষে এই শপথ বাক্যটি পাঠ করান জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ। ‘আমি পরম করুণাময়ের নামে শপথ করছি যে, দেশে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ দিব না, বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব না এবং অন্যের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করব, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব, বাল্যবিবাহের কোনো সংবাদ পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, বাল্যবিবাহের আইন যথাযথভাবে মেনে চলব, আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ’। 

এর আগে একই মঞ্চে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত মুবিজবর্ষ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচানা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন। 

এরই মাঝে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুলের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিচিতি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। 

এদিন বিকেলে সদর উপজেলার ফিলটিপাড়ায় দুস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং সন্ধ্যায় সদর উপজেলা পরিষদে হিজড়াদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।

নিউজ লাইট ৭১