ফুলে ফুলে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা
- আপডেট টাইম : ০৬:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২০
- / 132
জামালপুরে মেলান্দহে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ হলুদ রংয়ে ভরে গেছে শীতকালীন সোনার শস্য সরিষার ক্ষেত। ফুলে ফুলে ভরাক্ষেতে দৃষ্টিনন্দন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। ফুলে ফুলে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা।
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোষেরপাড়া গ্রামে সরিষা খেতের পাশে ১০০ মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করেছেন মো. জাহিদ মিয়া। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা থেকে তিনি এসেছেন মধু সংগ্রহের জন্য। এই বাক্স থেকে ৬ থেকে ৭ মণ মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
উপজেলার কাহেতপাড়া গ্রামের মো. সোনা মিয়া বলেন, এবার আমি ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মণ সরিষা ঘরে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। সরিষার ক্ষেতের পাশে কৃত্রিম উপায়ে চলছে মধু সংগ্রহের কাজ।
মৌচাষি জাহিদ বলেন, আমার এইখানে ১০০টি মৌমাছির বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতের কারণে মৌমাছি ঠিকমতো মধু সংগ্রহ করতে পারছে না, অনেক মৌমাছি ঠান্ডার জন্য মারা যাচ্ছে। যদি দু-একদিনের মধ্যে আবহাওয়া না ভালো হয় তাহলে বড় ক্ষতি হবে আমাদের।
মৌচাষে জাহিদ তিনি আরও জানান, প্রতিটি বাক্সতে মৌমাছিদের মৌরানী থাকে। রানীর আওতায় অসংখ্য মৌমাছিরা তিন কিলোমিটারের মধ্যে সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে নিজ ঘর বাক্সের মধ্যে রানীর কাছে ফিরে আসে।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহাম্মেদ জানান, উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে মৌচাষিরা সরিষার জমির পাশেই মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন চাষিরা। এবারে মেলান্দহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। মৌমাছি সরিষার ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে সরিষা ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই সরিষা খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে সরিষার ফলন অন্তত ২০ শতাংশ বাড়ে। পাশাপাশি মৌচাষিরা মধু আহরণ করে লাভবান হন।
নিউজ লাইট ৭১


















