মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চেজ মাস্টার’ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০১:২২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 111

‘চেজ মাস্টার’ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি তার। লক্ষ্য যত বড়ই হোক, চোখ জুড়ানো ক্রিকেট খেলে তাকে মামুলি বানানো বিরাট কোহলির জন্য যেন বাঁ হাতের খেল। রান তাড়া করতে নামলেই যে অদৃশ্য এক শক্তি ভর করে ভারতীয় অধিনায়কের কাঁধে। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই অদৃশ্য শক্তির জোরেই আরো একটি জয় দেখছিল ভারত। তবে না, এদিন আর পারলেন না। একটুর জন্য জাতীয় দলের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করার সুযোগ তো হারালেনই সঙ্গে ভারতকে জিতিয়ে অসিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগও মিস করলেন কোহলি।

সিরিজ প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নিশ্চিত করে রেখেছিল ভারত। সিডনিতে তাই জিতলে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেয়ার সুযোগ। ১৮৭ রান তাড়া করতে নামা ভারত সে পথেই হাঁটছিল। একই উইকেটে আগের ম্যাচে ১৯৫ রানও কম মনে হচ্ছিল ভারতের সামনে। এদিন তো আরো কম দরকার ছিল জয়ের জন্য। লোকেশ রাহুল ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা আগের সাজঘরের পথ ধরলেও, শিখর ধাওয়ান ও কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিং সেই ধাক্কা সামাল দেয় ভারত। কোহলি উইকেটে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। ধাওয়ান ৩ চারে ২৮ করে বিদায় নিলেও কোহলি থামেননি।

সঞ্জু স্যামসন (১০), শ্রেয়াস আইয়াররা (০) অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে পারেননি বটে। তবে একা হাতেই দলকে জয়ের পথে রাখেন কোহলি। ইনিংসের শেষ ৩ ওভারে জিততে ভারতের দরকার ছিল ৪৩ রান। উইকেটে সেট কোহলি এবং আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তবে ১৮তম ওভারে মাত্র ৭ রান আর ১ উইকেট দিয়েই ম্যাচের মোড় অনেকটা পাল্টে দেন স্বাগতিক স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। রান রেট বেড়ে যাওয়ার চাপ সামাল দিতে পারেননি কোহলিও। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন তিনিও। ৬১ বলে ৮৫ রান করে থামেন তিনি। কোহলির বিদায়ে ভারতও ছিটকে যায় কক্ষপথ থেকে। ওই ওভারে ভারত নিতে পারে মাত্র ৯ রান। শেষ ওভারে তাই আকাশ ছোঁয়া ২৭ রান আর নেয়া হয়নি সফরকারী দলের।

তীরে এসে তরী ডোবানোয় ইনিংসের মাঝপথে উইকেট হারানোকেই দায়ী করেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হার্দিক উইকেটে এসে যখন নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করল, ভেবেছিলাম আমরা জিতে যাব। তবে মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের ব্যাটিংটাই ডোবাল আমাদের। ওই সময় একটা ৩০ রানের জুটিও হার্দিকের জন্য কাজটা সহজ করে দিতে পারত।’

অসিদের হয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেন মিচেল সুইপসন, অ্যাডাম জাম্পারা। পার্টটাইম স্পিনার হয়ে তো গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নতুন বলে হাতে নিয়েই ফেরান রাহুলকে। পরে ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে জাম্পা নেন হার্দিকের উইকেট। কোহলির উইকেটটা নেন অ্যান্ড্রু টাই। সুইপসন ২৩ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের আগে, ব্যাট হাতেও অস্ট্রেলিয়ানরা ছিল দারুণ। আগের ম্যাচে ৫৮ করা ম্যাথুওয়েড এদিন খেলেন ৮০ রানের ইনিংস। তবে দলে ফেরা অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ পেতে বড় অবদান আছে অলরাউন্ডার ম্যাক্সওয়েলেরও। ৩৬ বলে তার খেলা ৫৪ রানের ইনিংস অনেকটাই এগিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। স্টিভ স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রানের ইনিংস। ভারতের হয়ে সেরা বোলার ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়া ওয়াশিংটন সুন্দর। ১টি করে উইকেট নেন শারদুল ঠাকুর এবং নটরাজনও। ম্যাচসেরা হয়েছেন সুইপসন আর সিরিজ সেরার পুরস্কার গেছে হার্দিকের হাতে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

‘চেজ মাস্টার’ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি

আপডেট টাইম : ০১:২২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

‘চেজ মাস্টার’ হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি তার। লক্ষ্য যত বড়ই হোক, চোখ জুড়ানো ক্রিকেট খেলে তাকে মামুলি বানানো বিরাট কোহলির জন্য যেন বাঁ হাতের খেল। রান তাড়া করতে নামলেই যে অদৃশ্য এক শক্তি ভর করে ভারতীয় অধিনায়কের কাঁধে। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই অদৃশ্য শক্তির জোরেই আরো একটি জয় দেখছিল ভারত। তবে না, এদিন আর পারলেন না। একটুর জন্য জাতীয় দলের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করার সুযোগ তো হারালেনই সঙ্গে ভারতকে জিতিয়ে অসিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগও মিস করলেন কোহলি।

সিরিজ প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই নিশ্চিত করে রেখেছিল ভারত। সিডনিতে তাই জিতলে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেয়ার সুযোগ। ১৮৭ রান তাড়া করতে নামা ভারত সে পথেই হাঁটছিল। একই উইকেটে আগের ম্যাচে ১৯৫ রানও কম মনে হচ্ছিল ভারতের সামনে। এদিন তো আরো কম দরকার ছিল জয়ের জন্য। লোকেশ রাহুল ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা আগের সাজঘরের পথ ধরলেও, শিখর ধাওয়ান ও কোহলির দুর্দান্ত ব্যাটিং সেই ধাক্কা সামাল দেয় ভারত। কোহলি উইকেটে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। ধাওয়ান ৩ চারে ২৮ করে বিদায় নিলেও কোহলি থামেননি।

সঞ্জু স্যামসন (১০), শ্রেয়াস আইয়াররা (০) অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে পারেননি বটে। তবে একা হাতেই দলকে জয়ের পথে রাখেন কোহলি। ইনিংসের শেষ ৩ ওভারে জিততে ভারতের দরকার ছিল ৪৩ রান। উইকেটে সেট কোহলি এবং আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তবে ১৮তম ওভারে মাত্র ৭ রান আর ১ উইকেট দিয়েই ম্যাচের মোড় অনেকটা পাল্টে দেন স্বাগতিক স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। রান রেট বেড়ে যাওয়ার চাপ সামাল দিতে পারেননি কোহলিও। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন তিনিও। ৬১ বলে ৮৫ রান করে থামেন তিনি। কোহলির বিদায়ে ভারতও ছিটকে যায় কক্ষপথ থেকে। ওই ওভারে ভারত নিতে পারে মাত্র ৯ রান। শেষ ওভারে তাই আকাশ ছোঁয়া ২৭ রান আর নেয়া হয়নি সফরকারী দলের।

তীরে এসে তরী ডোবানোয় ইনিংসের মাঝপথে উইকেট হারানোকেই দায়ী করেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হার্দিক উইকেটে এসে যখন নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করল, ভেবেছিলাম আমরা জিতে যাব। তবে মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের ব্যাটিংটাই ডোবাল আমাদের। ওই সময় একটা ৩০ রানের জুটিও হার্দিকের জন্য কাজটা সহজ করে দিতে পারত।’

অসিদের হয়ে ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেন মিচেল সুইপসন, অ্যাডাম জাম্পারা। পার্টটাইম স্পিনার হয়ে তো গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নতুন বলে হাতে নিয়েই ফেরান রাহুলকে। পরে ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে জাম্পা নেন হার্দিকের উইকেট। কোহলির উইকেটটা নেন অ্যান্ড্রু টাই। সুইপসন ২৩ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের আগে, ব্যাট হাতেও অস্ট্রেলিয়ানরা ছিল দারুণ। আগের ম্যাচে ৫৮ করা ম্যাথুওয়েড এদিন খেলেন ৮০ রানের ইনিংস। তবে দলে ফেরা অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ পেতে বড় অবদান আছে অলরাউন্ডার ম্যাক্সওয়েলেরও। ৩৬ বলে তার খেলা ৫৪ রানের ইনিংস অনেকটাই এগিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। স্টিভ স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রানের ইনিংস। ভারতের হয়ে সেরা বোলার ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়া ওয়াশিংটন সুন্দর। ১টি করে উইকেট নেন শারদুল ঠাকুর এবং নটরাজনও। ম্যাচসেরা হয়েছেন সুইপসন আর সিরিজ সেরার পুরস্কার গেছে হার্দিকের হাতে।

নিউজ লাইট ৭১