মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একমাত্র উপার্জন পিঁপড়ার ডিম বিক্রি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 122

টেমাল সাংমা। বয়স ১৮। বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে। তার একমাত্র উপার্জন পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে। শুধু তিনি নন গারো পাহাড়ে এমন প্রায় ৩০ জনের মতো পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালায়। তাদের একমাত্র উপার্জন ডিম বিক্রি করেই। আর এতেই তাদের সাংসার চলে। সম্প্রতি কথা হয় পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করা কয়েকজনের সঙ্গে।

তারা বলেন, ‘আমরা তো পাহাড়ে থাকি। আমাদের বাপে-মায়ে (বাবা-মা) অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইতো। এহন বাপের (বাবা) অসুখ হওয়ায় বিছানায় পইড়ে (পড়ে) গেছে। আমগোর এলাকায় আমাদের মতো ২০ থেকে ৩০ জন পাহাড়ের গাছগাছালি থেইক্যা (থেকে) পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা (সংগ্রহ) বেঁইচ্যা (বিক্রি) টেহা (টাকা) কামাই (আয়) করে। তাই আমরা তাদের দেহাদেহি পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা দিনে দুইশ থেকে তিনশ টেহা (টাকা) কামাই (ইনকাম) করি। ওই টেহা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।’

ডিম সংগ্রহকারী নিরঞ্জন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। এই কাজে কোনো পুঁজি লাগে না। এজন্য তিনি এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। সারা দিনে যা পাই তা বিক্রি করি আর তাতেই আমার সংসার চলে।’

জানা গেছে, পিঁপড়ার ডিম বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে মাছের আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পিঁপড়ার ডিম মাছের লোভনীয় খাবার। তাই মাছ শিকারিদের কাছে পিঁপড়ার ডিমের অনেক চাহিদা। বর্তমানে এক কেজি পিঁপড়ার ডিম আটশ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম সংগ্রহকারী বিজয় সাংমা, মজিদ জানায়, পাহাড়ে সাধারণত মেহগনি, আম ও লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতে ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তারা ডিম পাড়ে। বড় বাসা থেকে একশ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

বাকাকুড়া এলাকার পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বাকাকুড়া, রাংটিয়া, গজনী, নকশির কয়েকজনের কাছে পিঁপড়ার ডিম পাইকারি মূল্যে কিনে রাখি। পরে মাছ শিকারি ও শেরপুরের বিভিন্ন দোকানে পাইকারি বিক্রি করি। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি এ ব্যবসা থেকেও আয় হয়ে থাকে। আমি প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে ১০ কেজি ডিম বিক্রি করি।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, আমি সম্প্রতি শুনেছি গারো পাহাড়ে কিছু মানুষ পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালায়। তারা যদি কেউ আমার কাছে সহযোগিতার জন্য জানায় তাহলে আমি যতটুকু পারি চেষ্টা করব।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

একমাত্র উপার্জন পিঁপড়ার ডিম বিক্রি

আপডেট টাইম : ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২০

টেমাল সাংমা। বয়স ১৮। বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে। তার একমাত্র উপার্জন পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে। শুধু তিনি নন গারো পাহাড়ে এমন প্রায় ৩০ জনের মতো পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালায়। তাদের একমাত্র উপার্জন ডিম বিক্রি করেই। আর এতেই তাদের সাংসার চলে। সম্প্রতি কথা হয় পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করা কয়েকজনের সঙ্গে।

তারা বলেন, ‘আমরা তো পাহাড়ে থাকি। আমাদের বাপে-মায়ে (বাবা-মা) অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইতো। এহন বাপের (বাবা) অসুখ হওয়ায় বিছানায় পইড়ে (পড়ে) গেছে। আমগোর এলাকায় আমাদের মতো ২০ থেকে ৩০ জন পাহাড়ের গাছগাছালি থেইক্যা (থেকে) পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা (সংগ্রহ) বেঁইচ্যা (বিক্রি) টেহা (টাকা) কামাই (আয়) করে। তাই আমরা তাদের দেহাদেহি পিঁপড়ার ডিম পাইর‌্যা দিনে দুইশ থেকে তিনশ টেহা (টাকা) কামাই (ইনকাম) করি। ওই টেহা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।’

ডিম সংগ্রহকারী নিরঞ্জন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। এই কাজে কোনো পুঁজি লাগে না। এজন্য তিনি এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। সারা দিনে যা পাই তা বিক্রি করি আর তাতেই আমার সংসার চলে।’

জানা গেছে, পিঁপড়ার ডিম বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে মাছের আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পিঁপড়ার ডিম মাছের লোভনীয় খাবার। তাই মাছ শিকারিদের কাছে পিঁপড়ার ডিমের অনেক চাহিদা। বর্তমানে এক কেজি পিঁপড়ার ডিম আটশ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম সংগ্রহকারী বিজয় সাংমা, মজিদ জানায়, পাহাড়ে সাধারণত মেহগনি, আম ও লিচুসহ দেশীয় গাছগুলোতে ডোল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। পরে সেখানে তারা ডিম পাড়ে। বড় বাসা থেকে একশ থেকে দেড়শ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে দিকে এই ডিমের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সব থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় শীতের শেষে দিকে ফাল্গুন মাসে। কিন্তু সেই সময় ডিমের চাহিদা তেমন একটা থাকে না।

বাকাকুড়া এলাকার পিঁপড়ার ডিম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বাকাকুড়া, রাংটিয়া, গজনী, নকশির কয়েকজনের কাছে পিঁপড়ার ডিম পাইকারি মূল্যে কিনে রাখি। পরে মাছ শিকারি ও শেরপুরের বিভিন্ন দোকানে পাইকারি বিক্রি করি। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি এ ব্যবসা থেকেও আয় হয়ে থাকে। আমি প্রতিদিন প্রায় পাঁচ থেকে ১০ কেজি ডিম বিক্রি করি।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, আমি সম্প্রতি শুনেছি গারো পাহাড়ে কিছু মানুষ পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালায়। তারা যদি কেউ আমার কাছে সহযোগিতার জন্য জানায় তাহলে আমি যতটুকু পারি চেষ্টা করব।

নিউজ লাইট ৭১