এক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে হরিণের খামার
- আপডেট টাইম : ০৫:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০
- / 137
নিউজ লাইট ৭১ঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার গলঘোষিয়া নদীর তীরের শেষ গ্রামটির নাম বন্ধকাটি। এখনকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধের গাঁ ঘেষে জে-স্টার হ্যাচারীতে এক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে হরিণের খামার। ছোট বড় মিলে ৩০টি হরিণের আবাসস্থল এ খামারে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ খামারটিতে ভিড় করে। করোনার মধ্যে বিনোদনের সুযোগ নেই। তাই এ খামারটি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
বন্ধকাটি গ্রামের কোরবান আলী মোড়লের পুত্র আব্দুস সাত্তার মোড়ল এ খামারের মালিক। চিংড়ি চাষের জন্য বিভিন্ন সময়ে তিনি পুরুষ্কার লাভ করেছেন। ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি তিনি। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের একজন। ২০০৪ সালে খুলনার চিংড়ি চাষী ওয়াজেদ আলী বিশ্বাস তাকে চারটি হরিণ উপহার দেন। ১৬ বছরের ব্যবধানে হরিণগুলো অনেক বাচ্চা দিয়েছে। কয়েকটি বাচ্চা মারা গেছে। আবার কয়েকটি বাচ্চা বিভিন্ন জনকে উপহার দিয়েছেন। এখন এ খামারে ৩০টি হরিণ বিচরণ করছে। প্রতিদিনের খাবার গম, অটোপালিশ ও ঘাষ। পর্যটকরা এসে বেড়িবাধের কাছে জন্ম নেয়া কেওয়া গাছ থেকে পাতা ভেঙে খাবার হিসেবে হরিণের জন্য দিয়ে থাকে।
পর্যটকদের একজন বলেছেন, সাধারণত লোকালয়ে হরিণ দেখা যায় না। তার খামারে হরিণ দেখতে মানুষ ভিড় করে। কালিগঞ্জসহ পার্শবর্তী উপজেলার লোকজন এখানে ভিড় করে।
খামারের মালিক আব্দুস সাত্তার মোড়ল জানান, শখের বসবর্তী হয়ে তিনি হরিণের খামার গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালে বন বিভাগ থেকে হরিণের জন্য লাইসেন্স পান। ২০১৭ সালে লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে বন বিভাগ আপত্তি তোলে।
বন বিভাগ যুক্তি দেখিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুন্দরবন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে হরিণের খামার গড়ে তুলতে হবে।
সুন্দরবন বিভাগের ভাষ্য, বন থেকে খামারের দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। খামারের মালিক বলেছেন, বন থেকে সড়ক পথে খামারের দূরত্ব ৫৩ কিলোমিটার।
খামারের মালিক এ প্রতিবেদককে জানান, অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স নবায়ন করছেন না।
তিনি জানান, হরিণের লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হলে বিভিন্ন স্থানে খামার গড়ে উঠতো। বাণিজ্যিক হিসেবে খামার গড়ে উঠলে অধিক লাভজনক হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী এক জোড়া হরিণের মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। বেসরকারি পর্যায়ে হরিণের খামার গড়ে উঠলে দেশে আমিষ জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি পূরণ হতো।


















