মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০
  • / 116

নিউজ লাইট ৭১ঃ সেশনজটহীন মেডিকেল শিক্ষাবর্ষসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভরত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।

এর আগে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় আটকে অবস্থান নেন তারা। এতে গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ রুটে চলা গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়। 

৪ দফা দাবি আদায়ে ‘সাধারণ মেডিকেল এবং ডেন্টাল শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে গত ১ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

৩ নভেম্বর রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে প্রফ পরীক্ষা না নেয়া, সেশনজট নিরসন করে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬০ মাসের বেশি বেতন না নেয়া ও মহামারির সময় পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নেয়া।

প্রতিবাদে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে এবং এর মধ্যে আমরা পরীক্ষায় বসতে রাজি নই। তবে আমরা সেশনজট সমাধানের জন্য বিকল্প মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছি।

আকবর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এই সময়ে মেডিকেলে প্রফেশনাল পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের এক মাস হলে থাকার কথা বলা হয়েছে। করোনার মধ‌্যে আমরা এই ঝুঁকি নিতে চাই না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৯০টি আইটেম পরীক্ষা দেয়ার পর আমরা কার্ডে বসার সুযোগ পাই। ১৮টি কার্ড দেয়ার পর আমরা প্রফে (পরীক্ষা) বসার সুযোগ পাই। চলতি বর্ষে আমরা এ পর্যন্ত যেসব পরীক্ষা দিয়েছি, কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ওপর মূল্যায়ন করে আমাদের প্রমোশন দিয়ে পরবর্তী ধাপের অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দিক সেটি চাই আমরা।

এছাড়া, কম বেশি সবাই খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়াতে এবং সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ফি কমানোরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং সেশনজট এড়াতে অনলাইনে ক্লাসের দাবি জানান তারা।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের দাবিগুলো যে ‘যৌক্তিক’, তা কর্তৃপক্ষও মানছে; কিন্তু সমাধান করছে না।

তিনি বলেন, আমরা গত কিছুদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। আগের কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজ ডিন স্যারের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন) কাছে গিয়েছিলাম। আজ আমাদের দাবি পূরণের একটা লিখিত নোটিস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উনি বলছেন, আজ না, কাল জানাবেন। এ কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, দাবিগুলো মেনে নিয়ে লিখিত আকারে নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।

রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, তাদের সড়ক ছাড়ার জন‌্য বোঝানো হচ্ছে। দাবি-দাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাওয়ার জন‌্য অনুরোধ করা হচ্ছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি।

পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় থেকে সরে গিয়ে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে না চায়, তাহলে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারিতে দিতে পারবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পজিটিভলি এগোচ্ছি আমরা। কিন্তু পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী ধাপের ক্লাস নেওয়া সম্ভব না। বিএমডিসির কারিকুলামে এ ধরনের কোনো সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিএমডিসি চাইলে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিতে পারে। এটা নিয়ে বিএমডিসির সাথে আলোচনা চলছে। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি আমরা। মেডিকেল সেক্টরের সাথে যারা জড়িত, সবার একই বক্তব্য যে, আজকে করোনা আছে, কালকে তা থাকবে না। কিন্তু বিএমডিসি তার নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

Tag :

শেয়ার করুন

শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২০

নিউজ লাইট ৭১ঃ সেশনজটহীন মেডিকেল শিক্ষাবর্ষসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভরত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।

এর আগে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় আটকে অবস্থান নেন তারা। এতে গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ রুটে চলা গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়। 

৪ দফা দাবি আদায়ে ‘সাধারণ মেডিকেল এবং ডেন্টাল শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে গত ১ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

৩ নভেম্বর রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে প্রফ পরীক্ষা না নেয়া, সেশনজট নিরসন করে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬০ মাসের বেশি বেতন না নেয়া ও মহামারির সময় পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নেয়া।

প্রতিবাদে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে এবং এর মধ্যে আমরা পরীক্ষায় বসতে রাজি নই। তবে আমরা সেশনজট সমাধানের জন্য বিকল্প মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছি।

আকবর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এই সময়ে মেডিকেলে প্রফেশনাল পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের এক মাস হলে থাকার কথা বলা হয়েছে। করোনার মধ‌্যে আমরা এই ঝুঁকি নিতে চাই না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৯০টি আইটেম পরীক্ষা দেয়ার পর আমরা কার্ডে বসার সুযোগ পাই। ১৮টি কার্ড দেয়ার পর আমরা প্রফে (পরীক্ষা) বসার সুযোগ পাই। চলতি বর্ষে আমরা এ পর্যন্ত যেসব পরীক্ষা দিয়েছি, কর্তৃপক্ষ সেগুলোর ওপর মূল্যায়ন করে আমাদের প্রমোশন দিয়ে পরবর্তী ধাপের অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দিক সেটি চাই আমরা।

এছাড়া, কম বেশি সবাই খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়াতে এবং সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ফি কমানোরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং সেশনজট এড়াতে অনলাইনে ক্লাসের দাবি জানান তারা।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের দাবিগুলো যে ‘যৌক্তিক’, তা কর্তৃপক্ষও মানছে; কিন্তু সমাধান করছে না।

তিনি বলেন, আমরা গত কিছুদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। আগের কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজ ডিন স্যারের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন) কাছে গিয়েছিলাম। আজ আমাদের দাবি পূরণের একটা লিখিত নোটিস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উনি বলছেন, আজ না, কাল জানাবেন। এ কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, দাবিগুলো মেনে নিয়ে লিখিত আকারে নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।

রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, তাদের সড়ক ছাড়ার জন‌্য বোঝানো হচ্ছে। দাবি-দাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যাওয়ার জন‌্য অনুরোধ করা হচ্ছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি।

পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় থেকে সরে গিয়ে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে না চায়, তাহলে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারিতে দিতে পারবে। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পজিটিভলি এগোচ্ছি আমরা। কিন্তু পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী ধাপের ক্লাস নেওয়া সম্ভব না। বিএমডিসির কারিকুলামে এ ধরনের কোনো সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিএমডিসি চাইলে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিতে পারে। এটা নিয়ে বিএমডিসির সাথে আলোচনা চলছে। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি আমরা। মেডিকেল সেক্টরের সাথে যারা জড়িত, সবার একই বক্তব্য যে, আজকে করোনা আছে, কালকে তা থাকবে না। কিন্তু বিএমডিসি তার নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।