বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল:নির্যাতিতা গৃহকর্মী ও ‘ধর্ষণের শিকার’ ছাত্রী উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২০
  • / 152

৭১: রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় এক গৃহকর্মীকে (৮) উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী-স্ত্রীকে।

একইভাবে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ এক ছাত্রীকে উদ্ধার ও তাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে।

গুলশানে গৃহকর্মী উদ্ধার : গুলশানের নর্দা মোড়লবাড়ী এলাকা থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। শিশুটির মুখে জখমের চিহ্ন আছে। আঘাতে চোখ ফুলে গেছে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তার বাবা মারা গেছেন। মায়ের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গৃহকর্ত্রী হাওয়া বিবি (৩৩) ও তাঁর স্বামী মঈনুল হোসাইন (৪০)। তাঁদের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার ওসি মো. আবুল হাসান বলেন, ‘সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে কেউ একজন শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর দেন। পরে গুলশান থানা পুলিশকে অবহিত করলে রাতেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সে মঈনুল দম্পতির বাসায় কাজ করছিল। তাঁরাই তাকে নির্যাতন করেন। তাঁদের আটক করে, শিশু আইন ২০১৩-এর ৭০ ধারায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজন আটক : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, একজন কলার ঠাকুরগাঁও সদরের কালীতলা থেকে ফোন করে জানান, তাঁর ১৪ বছর বয়সী ভাতিজি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী দুপুর ২টায় স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট খাতা কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন তাঁর ভাতিজিকে পাশের গ্রামের একটি ছেলে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। তাঁরা গ্রামবাসীর সহায়তায় ওই বাড়ি থেকে তিনজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেছেন। এ অবস্থায় তিনি জরুরিভাবে পুলিশের সহায়তা চান। পরে ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

পরিদর্শক সাত্তার জানান, ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভূষণ চন্দ্র ৯৯৯-কে ফোনে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ধর্ষণের অভিযোগে জারিফ (১৯), ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে কোরবান (৩২) ও গোলাপ (৩০) নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।

Tag :

শেয়ার করুন

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল:নির্যাতিতা গৃহকর্মী ও ‘ধর্ষণের শিকার’ ছাত্রী উদ্ধার

আপডেট টাইম : ০৬:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২০

৭১: রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাসা থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় এক গৃহকর্মীকে (৮) উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী-স্ত্রীকে।

একইভাবে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ এক ছাত্রীকে উদ্ধার ও তাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে।

গুলশানে গৃহকর্মী উদ্ধার : গুলশানের নর্দা মোড়লবাড়ী এলাকা থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই শিশু গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। শিশুটির মুখে জখমের চিহ্ন আছে। আঘাতে চোখ ফুলে গেছে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তার বাবা মারা গেছেন। মায়ের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, পুলিশের ব্যবস্থাপনায় তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গৃহকর্ত্রী হাওয়া বিবি (৩৩) ও তাঁর স্বামী মঈনুল হোসাইন (৪০)। তাঁদের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার ওসি মো. আবুল হাসান বলেন, ‘সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে কেউ একজন শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর দেন। পরে গুলশান থানা পুলিশকে অবহিত করলে রাতেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সে মঈনুল দম্পতির বাসায় কাজ করছিল। তাঁরাই তাকে নির্যাতন করেন। তাঁদের আটক করে, শিশু আইন ২০১৩-এর ৭০ ধারায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজন আটক : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্মরত পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, একজন কলার ঠাকুরগাঁও সদরের কালীতলা থেকে ফোন করে জানান, তাঁর ১৪ বছর বয়সী ভাতিজি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী দুপুর ২টায় স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট খাতা কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন তাঁর ভাতিজিকে পাশের গ্রামের একটি ছেলে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। তাঁরা গ্রামবাসীর সহায়তায় ওই বাড়ি থেকে তিনজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেছেন। এ অবস্থায় তিনি জরুরিভাবে পুলিশের সহায়তা চান। পরে ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

পরিদর্শক সাত্তার জানান, ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভূষণ চন্দ্র ৯৯৯-কে ফোনে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ধর্ষণের অভিযোগে জারিফ (১৯), ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে কোরবান (৩২) ও গোলাপ (৩০) নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।