চাচার সাথে গিয়ে দুই কিশোরীর গণধর্ষণ, আটক ৪
- আপডেট টাইম : ০৫:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০
- / 145
৭১: সাভারের আশুলিয়ায় চাচার সাথে বেড়াতে গিয়ে দুই বান্ধুবী কিশোর গ্যাংয়ের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৫ দিন পর ধর্ষণের ধারণকৃত ভিডিও কিশোর গ্যাং এর অভ্যন্তরীণ কন্দলে ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি নজরে আসলে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতা সারুফসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর রাতে আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বুধবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম।
আটককৃতরা হলো- সারুফ,জাকির, রাকিব ও ডায়মন্ড আলামিন। তারা ভাদাইল এলাকায় বসবাস করে। দলনেতা সারুফকে খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার ভাদাইলের পবনার টেক এলাকায় কিশোরী দুই বান্ধবী চাচার সাথে ভাদাইল এলাকার গুলিয়ার চক এলাকায় ঘুরতে যায়। পরে কিশোর গ্যাং সারুফের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন কিশোরীদের সঙ্গে থাকা চাচাকে বেধড়ক মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে দুই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি সারুফের বাবা আকরাম হোসেন জানতে পেরে টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এদিকে তাদের হুমকিতে ভয়ে এক কিশোরি নিজ গ্রামে চলে যায়।
এ বিষয়ে ঘটনার দিন হামলার শিকার আহত জৈনেক চাচা জানান, তারা বেড়াতে গেলে কয়েকজন কিশোর এসে তাদের পরিচয় জানতে চায়। মেয়েদের সাথে তাদের কি সম্পর্ক জানতে চায়। সম্পর্কে চাচা ভাতিজি পরিচয় দিলেও তাঁরা কোন কিছু শুনতে না চেয়ে তাদের বেদম মারধর করে কাউকে এই ঘটনা বললে মেরে ফেরার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তবে সাথে থাকা দুই ভাতিজিকে আটকে রাখে। পরে আটকিয়ে রাখা মেয়েদের কি হয়েছে তারা জানতে পারেনি। তবে ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি জানতে পারে।
এ বিষয়ে ধর্ষক জাকিরের বাবা আনসার আলী জানান, সারুফের বাবা আকরাম আলী মাধ্যমে জানতে পারি আমার ছেলে জাকিরসহ কয়েকজন ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা দেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে দেয় সারুফ। তার সহযোগি জাকির, রাবিক, আলামিন, ডায়মন্ড আলামিন, রেদওয়ান, জিদানসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনা জড়িত। মূলত কিশোর গ্যাং এর নিজেদের মধ্যে দ্বন্দের জের ধরে তাদের ধারণ করা ভিডিও ফাঁস করে দেয়া হয়। সেই ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম আরও জানান, ভুক্তভোগী এক কিশোরীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং ধর্ষণে জড়িত দুই কিশোরকে শনাক্ত করেছে। তবে এক কিশোরী না দুইজনই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে বলা যাবে। তাদের সঙ্গে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বাকীদের আটকের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

















