ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাটের চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2

ছবি: সংগৃহীত

মাঠের সবুজ পাট এখন রূপ নিয়েছে সোনালি আঁশে। কেটে, জাগ দিয়ে, আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর পর সেই পাট যাচ্ছে হাট-বাজারে। ভ্যানে করে আঁটি বাঁধা পাট বাজারজাতের এই দৃশ্য এখন চারঘাটের গ্রামীণ জনপদের পরিচিত চিত্র। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সুফল পাওয়ার আশায় স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকেরা।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখন পাট কাটা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-শ্রমিকরা। ভোর থেকে মাঠে নেমে কেউ পাট কাটছেন, কেউ জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। কোথাও শুকানো পাট আঁটি বেঁধে ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাজারজাত করা হচ্ছে। কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, জমি প্রস্তুত, পরিচর্যা, শ্রমিকের মজুরি, কাটা, পরিবহন ও জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ কম নয়। তবে বাজারে সোনালি আঁশের ভালো দাম থাকায় এবার উৎপাদন খরচ তুলে লাভের আশা করছেন তারা।

উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ঝাউবোনা গ্রামের কৃষক শামসুল হক বলেন, ‘পাট চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই বেশি। তবে এবার পাটের দাম ভালো থাকায় আমরা স্বস্তিতে আছি। প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ দাম থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ করা সম্ভব।’

একই ইউনিয়নের বালাদিয়াড় গ্রামের কৃষক মনছুর রহমান বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি। কৃষক অনেক কষ্ট করে সোনালি আঁশ ফলান। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে সেই পরিশ্রম সার্থক হয়। দাম ভালো থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করার আগ্রহ থাকবে।’

স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা জানান, পাটের মান ও গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য রয়েছে। ভালো মানের পাটের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন।

শলুয়া ইউনিয়নের মৌগাছী গ্রামের পাট ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন বলেন, ‘ভালো মানের পাটের চাহিদা রয়েছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর দাম কিছুটা ওঠানামা করে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা কৃষকের জন্য ভালো। দাম স্থিতিশীল থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘পাট এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পাটের মান ভালো রাখতে সঠিক সময়ে কাটা, উপযুক্ত পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত পাট উৎপাদন করতে পারলে কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাবেন এবং পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’

নিউজ লাইট ৭১

 

Tag :

শেয়ার করুন

পাটের চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মাঠের সবুজ পাট এখন রূপ নিয়েছে সোনালি আঁশে। কেটে, জাগ দিয়ে, আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর পর সেই পাট যাচ্ছে হাট-বাজারে। ভ্যানে করে আঁটি বাঁধা পাট বাজারজাতের এই দৃশ্য এখন চারঘাটের গ্রামীণ জনপদের পরিচিত চিত্র। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সুফল পাওয়ার আশায় স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকেরা।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখন পাট কাটা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-শ্রমিকরা। ভোর থেকে মাঠে নেমে কেউ পাট কাটছেন, কেউ জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত। কোথাও শুকানো পাট আঁটি বেঁধে ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাজারজাত করা হচ্ছে। কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, জমি প্রস্তুত, পরিচর্যা, শ্রমিকের মজুরি, কাটা, পরিবহন ও জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ কম নয়। তবে বাজারে সোনালি আঁশের ভালো দাম থাকায় এবার উৎপাদন খরচ তুলে লাভের আশা করছেন তারা।

উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ঝাউবোনা গ্রামের কৃষক শামসুল হক বলেন, ‘পাট চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই বেশি। তবে এবার পাটের দাম ভালো থাকায় আমরা স্বস্তিতে আছি। প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ দাম থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ করা সম্ভব।’

একই ইউনিয়নের বালাদিয়াড় গ্রামের কৃষক মনছুর রহমান বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি। কৃষক অনেক কষ্ট করে সোনালি আঁশ ফলান। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে সেই পরিশ্রম সার্থক হয়। দাম ভালো থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করার আগ্রহ থাকবে।’

স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা জানান, পাটের মান ও গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য রয়েছে। ভালো মানের পাটের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন।

শলুয়া ইউনিয়নের মৌগাছী গ্রামের পাট ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন বলেন, ‘ভালো মানের পাটের চাহিদা রয়েছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর দাম কিছুটা ওঠানামা করে। বর্তমানে যে দাম রয়েছে, তা কৃষকের জন্য ভালো। দাম স্থিতিশীল থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘পাট এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পাটের মান ভালো রাখতে সঠিক সময়ে কাটা, উপযুক্ত পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। মানসম্মত পাট উৎপাদন করতে পারলে কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাবেন এবং পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’

নিউজ লাইট ৭১