ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব বিদায়, আসছে এসআরবি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ১১:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বিদ্যমান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বাদ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসআরবি আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অনুমোদিত আইনের খসড়ায় নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‍্যাবসংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬–এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

দুই দশক আগে ২০০৪ সালের মার্চে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ইউনিট র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে র‍্যাব।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন

বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এত দিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল (রূপান্তরকালীন) অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এসব পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ৭৪%

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (মে-জুলাই) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বৈঠকগুলোকে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ)। আর বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ৪৩টি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লেড ফ্রি বাংলাদেশ’–এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক) সুরক্ষা এবং সিসা দূষণ বা বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সিসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সিসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি; যেমন স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধীনে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সিসা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সিসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর সিসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সিসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সিসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লেড ফ্রি বাংলাদেশ’–এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

র‍্যাব বিদায়, আসছে এসআরবি

আপডেট টাইম : ১১:০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বিদ্যমান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বাদ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসআরবি আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অনুমোদিত আইনের খসড়ায় নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‍্যাবসংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬–এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

দুই দশক আগে ২০০৪ সালের মার্চে তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ইউনিট র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে র‍্যাব।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন

বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এত দিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল (রূপান্তরকালীন) অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।

কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এসব পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ৭৪%

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (মে-জুলাই) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বৈঠকগুলোকে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ)। আর বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ৪৩টি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লেড ফ্রি বাংলাদেশ’–এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক) সুরক্ষা এবং সিসা দূষণ বা বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সিসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। সিসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি; যেমন স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধীনে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সিসা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সিসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর সিসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া আইসিডিডিআরবির সাম্প্রতিক গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সিসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সিসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লেড ফ্রি বাংলাদেশ’–এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

নিউজ লাইট ৭১