রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের মদে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মুনাফাও বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০২:১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২
  • / 30

দেশে বেড়েছে মদের চাহিদা কিন্তু অনুযায়ী বিদেশী মদের সরবরাহ কম। তাই মদের এই চাহিদা মেটাতে উৎপাদন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন জানান, কেরু থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্রান্ডের মদের চাহিদা বাজারে রয়েছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছর তারা চাহিদা অনুযায়ী মদের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া তিনি আরও জানান,কেরুর কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ ভাগ মদ উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে। পুরো সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনে যেতে চাচ্ছেন তারা। কেরুতে রয়েছে মদের ৯টি ব্র্যান্ড। ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

দেশের মদে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মুনাফাও বেড়েছে কেরুর। ফলে পরিসর বাড়ানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে শতাধিক কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার, যা চলতি বছরেই শেষ হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে শুধু মদ বিক্রি করেই ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে কেরু এন্ড কোম্পানি। দেশে অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে দর্শনায় দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার কেস কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি হয়ে থাকে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি।

২০২১ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ১৮ হাজার ৫৭৯, ১৯ হাজার ৪৪৬ এবং ২১ হাজার কেসেরও বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু। প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে মদ বাজারজাত করে থাকে। একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি ও ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে।

কেরু সূত্র আরও জানায়, কেরুতে বর্তমানে ৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত ১০ লাখ ৮০ হাজার প্রুফ লিটার মদ, ২৬ লাখ লিটার দেশি স্পিরিট ও ৮ লাখ লিটার ডিনেচার্ড স্পিরিট উৎপাদন করা হয়। মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে কেরু।

কেরু কম্পানি মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যেরও চাহিদা মেটাতে এবং অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে বিয়ার তৈরির লক্ষ্যে ইউনিটটি স্থাপন করার চিন্তাভাবনা করছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

দেশের মদে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মুনাফাও বেড়েছে

আপডেট টাইম : ০২:১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২

দেশে বেড়েছে মদের চাহিদা কিন্তু অনুযায়ী বিদেশী মদের সরবরাহ কম। তাই মদের এই চাহিদা মেটাতে উৎপাদন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন জানান, কেরু থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্রান্ডের মদের চাহিদা বাজারে রয়েছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছর তারা চাহিদা অনুযায়ী মদের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে চাচ্ছেন। সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া তিনি আরও জানান,কেরুর কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ ভাগ মদ উৎপাদন ও সরবরাহ হচ্ছে। পুরো সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনে যেতে চাচ্ছেন তারা। কেরুতে রয়েছে মদের ৯টি ব্র্যান্ড। ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

দেশের মদে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মুনাফাও বেড়েছে কেরুর। ফলে পরিসর বাড়ানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে শতাধিক কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার, যা চলতি বছরেই শেষ হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে শুধু মদ বিক্রি করেই ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে কেরু এন্ড কোম্পানি। দেশে অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে দর্শনায় দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার কেস কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি হয়ে থাকে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি।

২০২১ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ১৮ হাজার ৫৭৯, ১৯ হাজার ৪৪৬ এবং ২১ হাজার কেসেরও বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু। প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে মদ বাজারজাত করে থাকে। একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি ও ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে।

কেরু সূত্র আরও জানায়, কেরুতে বর্তমানে ৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত ১০ লাখ ৮০ হাজার প্রুফ লিটার মদ, ২৬ লাখ লিটার দেশি স্পিরিট ও ৮ লাখ লিটার ডিনেচার্ড স্পিরিট উৎপাদন করা হয়। মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে কেরু।

কেরু কম্পানি মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যেরও চাহিদা মেটাতে এবং অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে বিয়ার তৈরির লক্ষ্যে ইউনিটটি স্থাপন করার চিন্তাভাবনা করছে।

নিউজ লাইট ৭১