মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অপহরণ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ১১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০
  • / 184

নিউজ লাইট ৭১: লালমনিরহাটে খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী (৪০) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাতে অপহৃতা শিক্ষিকার স্বামী মাহাবুব রহমান মিঠু  বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্ত শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের খোরাগাছ গ্রামের আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে। একই এলাকার উমাপতি হর নারায়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

জানা গেছে, উপজেলার উমাপতি হর নারায়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছেন তার সহকর্মী শিক্ষিকা রিনা বেগমকে (৩০)। বিষয়টি রিনা বেগম তার স্বামীকে অবগত করলে তাকে সতর্ক করা হয়।

কিন্তু এতেও আচরণ সংশোধন না করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাঞ্জুমা আক্তারের সহায়তায় সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমকে ফিন্নির সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ান খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী। এতে অসুস্থ হলে তার স্বামী মাহাবুর রহমান মিঠু স্ত্রীকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করান।এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাঞ্জুমার নিকট বিচার চেয়ে কোন সুফল পাননি শিক্ষিকার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় থেকে ফিরে স্বামী বাজারে অবস্থান করার সুবাদে বাড়িতে একা ছিলেন শিক্ষিকা রিনা বেগম। এ সুযোগে লম্পট শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী ওই বাড়িতে গিয়ে পুনরায় চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে শিক্ষিকার বাড়ির স্বর্নালঙ্কার, নগদ পৌনে ৪ লাখ টাকা ও শিক্ষিকার যাবতীয় কাগজপত্রসহ রিনা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

পরে বাড়ি ফিরে শিক্ষিকা রিনা বেগমের স্বামী মাহাবুর রহমান মিঠু স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন ওই শিক্ষক।অপহরণকারী শিক্ষকের বাড়িতে গিয়েও স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতেই সদর থানায় ৪ জনকে আসামি করে স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাহাবুর রহমান মিঠু।

শিক্ষিকা রিনা বেগম অপহরণের ৩৬ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।  অপরদিকে অভিযুক্ত খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারীও আত্মগোপনে রয়েছেন।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) এরশাদুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় শিক্ষকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বলেন, বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি। তবে কেউ লিখিতভাবে অবগত করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

শেয়ার করুন

এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অপহরণ

আপডেট টাইম : ১১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০

নিউজ লাইট ৭১: লালমনিরহাটে খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী (৪০) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার  দিবাগত রাতে অপহৃতা শিক্ষিকার স্বামী মাহাবুব রহমান মিঠু  বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্ত শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের খোরাগাছ গ্রামের আবুল কাশেম পাটোয়ারীর ছেলে। একই এলাকার উমাপতি হর নারায়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

জানা গেছে, উপজেলার উমাপতি হর নারায়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছেন তার সহকর্মী শিক্ষিকা রিনা বেগমকে (৩০)। বিষয়টি রিনা বেগম তার স্বামীকে অবগত করলে তাকে সতর্ক করা হয়।

কিন্তু এতেও আচরণ সংশোধন না করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাঞ্জুমা আক্তারের সহায়তায় সহকারী শিক্ষিকা রিনা বেগমকে ফিন্নির সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ান খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী। এতে অসুস্থ হলে তার স্বামী মাহাবুর রহমান মিঠু স্ত্রীকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করান।এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাঞ্জুমার নিকট বিচার চেয়ে কোন সুফল পাননি শিক্ষিকার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় থেকে ফিরে স্বামী বাজারে অবস্থান করার সুবাদে বাড়িতে একা ছিলেন শিক্ষিকা রিনা বেগম। এ সুযোগে লম্পট শিক্ষক খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারী ওই বাড়িতে গিয়ে পুনরায় চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে শিক্ষিকার বাড়ির স্বর্নালঙ্কার, নগদ পৌনে ৪ লাখ টাকা ও শিক্ষিকার যাবতীয় কাগজপত্রসহ রিনা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

পরে বাড়ি ফিরে শিক্ষিকা রিনা বেগমের স্বামী মাহাবুর রহমান মিঠু স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন ওই শিক্ষক।অপহরণকারী শিক্ষকের বাড়িতে গিয়েও স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতেই সদর থানায় ৪ জনকে আসামি করে স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মাহাবুর রহমান মিঠু।

শিক্ষিকা রিনা বেগম অপহরণের ৩৬ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।  অপরদিকে অভিযুক্ত খায়রুল আলম সবুজ পাটোয়ারীও আত্মগোপনে রয়েছেন।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) এরশাদুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় শিক্ষকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বলেন, বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি। তবে কেউ লিখিতভাবে অবগত করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।