ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনি জটিলতায় পাবনার ১১ থানায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার জব্দকৃত যানবাহন

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

ছবি: সংগৃহীত

নানা অপরাধমূলক ঘটনায় আলামত হিসেবে জব্দ করার পর আইনি জটিলতা ও মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পাবনার ১১টি থানায় খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি যানবাহন। দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকায় মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন থানা প্রাঙ্গণে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা সদর থানা থেকে শুরু করে ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর থানা চত্বর যেন এক একটি পরিত্যক্ত যানবাহনের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মাদক পরিবহন, চুরি, ভুয়া কাগজপত্র এবং বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আলামত হিসেবে এসব যানবাহন আটক করে পুলিশ।

পাবনা কোর্ট পুলিশের তথ্য মতে, জেলাজুড়ে থানার হেফাজতে ২০ হাজারের বেশি যানবাহন পড়ে রয়েছে। তবে সেগুলো সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ছায়ানিড় বা সুনির্দিষ্ট স্থানের অভাব থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে রেখেই নষ্ট হচ্ছে।

পাবনা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় এবং সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত জায়গা না থাকায় এগুলো ফেলে রাখতে হচ্ছে। আদালত থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।

আইনজীবীরা জানান, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে এর বাজারমূল্য একদম কমে যাচ্ছে। পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মায়া ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল বলেন, “যেসব মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোর আলামত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে সরকারি কোষাগারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে এবং থানার জায়গা ফাঁকা হবে। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নিলাম যোগ্য যানবাহনগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, জেলার ১১টি থানার চত্বরেই জব্দকৃত মোটরসাইকেলসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন পড়ে থাকায় থানা চত্বরে স্থানসংকট ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। যেসব মামলায় আদালতের রায় বা নির্দেশ পাওয়া গেছে, সেগুলোর আলামত দ্রুত নিলামের মাধ্যমে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে। সরকারিভাবে এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি থানাগুলোর চত্বর অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

আইনি জটিলতায় পাবনার ১১ থানায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার জব্দকৃত যানবাহন

আপডেট টাইম : ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নানা অপরাধমূলক ঘটনায় আলামত হিসেবে জব্দ করার পর আইনি জটিলতা ও মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পাবনার ১১টি থানায় খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি যানবাহন। দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকায় মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশাসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন থানা প্রাঙ্গণে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা সদর থানা থেকে শুরু করে ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর থানা চত্বর যেন এক একটি পরিত্যক্ত যানবাহনের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মাদক পরিবহন, চুরি, ভুয়া কাগজপত্র এবং বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আলামত হিসেবে এসব যানবাহন আটক করে পুলিশ।

পাবনা কোর্ট পুলিশের তথ্য মতে, জেলাজুড়ে থানার হেফাজতে ২০ হাজারের বেশি যানবাহন পড়ে রয়েছে। তবে সেগুলো সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ছায়ানিড় বা সুনির্দিষ্ট স্থানের অভাব থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে রেখেই নষ্ট হচ্ছে।

পাবনা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় এবং সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত জায়গা না থাকায় এগুলো ফেলে রাখতে হচ্ছে। আদালত থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।

আইনজীবীরা জানান, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে এর বাজারমূল্য একদম কমে যাচ্ছে। পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মায়া ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল বলেন, “যেসব মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোর আলামত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে সরকারি কোষাগারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব জমা হবে এবং থানার জায়গা ফাঁকা হবে। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নিলাম যোগ্য যানবাহনগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, জেলার ১১টি থানার চত্বরেই জব্দকৃত মোটরসাইকেলসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন পড়ে থাকায় থানা চত্বরে স্থানসংকট ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। যেসব মামলায় আদালতের রায় বা নির্দেশ পাওয়া গেছে, সেগুলোর আলামত দ্রুত নিলামের মাধ্যমে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে। সরকারিভাবে এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি থানাগুলোর চত্বর অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নিউজ লাইট ৭১