এআই দিয়ে রায় লেখা অনৈতিক: প্রধান বিচারপতি
- আপডেট টাইম : ০৩:১৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
আদালতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা বেআইনি না হলেও এটি নিশ্চিতভাবেই অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’ উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এআই দিয়ে আপনি যাই করেন আর নাই করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটি অনুচিত। হয়তো এটি সরাসরি বেআইনি নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই যথাযথ নয় এবং অনৈতিক।’
রায়ের মৌলিক ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রায় লিখতে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন হয়—ফ্যাক্ট (ঘটনা), আইন এবং বিবেক বা নৈতিকতা। এই বিবেক বা নৈতিকতা কখনোই এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি। মানুষ যখন নিজের এই চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের জানতে হবে কীভাবে এআই ব্যবহার করতে হবে। তবে জাজমেন্ট বা রায় লিখতে হবে নিজের বুদ্ধি-বিবেক ও আইনকে প্রাধান্য দিয়ে। এ সময় তিনি এআই-এর দেওয়া তথ্য যাচাই না করে ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
এআই-এর নেতিবাচক দিক ও ঝুঁকির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি একটি বিদেশি মামলার উদাহরণ টানেন। তিনি জানান, এআই ব্যবহার করে উপস্থাপিত কিছু ভুয়া কেস রেফারেন্সের ওপর ভিত্তি করে এক বিচারপতি রায় দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আরও কয়েকটি আদালত অনুসরণ করে। পরে গবেষণায় দেখা যায়, ওই সব মামলার কোনো অস্তিত্বই নেই। এতে বিচারপতিরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
তিনি বলেন, ‘এআই-এর ঝুঁকি হচ্ছে, এর তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা খুবই বিপদজনক।’
তবে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এআই-এর অবশ্যই ইতিবাচক দিক আছে এবং আমাদের সেটাকে স্বাগত জানাতে হবে। আমাদের নতুন প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, এটি যেন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের বিনিময়ে না হয়। রাইট টু লাইফ, রাইট টু ওয়ার্ক এবং রাইট টু প্রপার্টি—এগুলো আমাদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। এআই ব্যবহার করতে গিয়ে যদি মানুষের এই মৌলিক অধিকার খর্ব হয়, তবে তা অসাংবিধানিক হয়ে যাবে।’
নিউজ লাইট ৭১






















