গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত শিল্পাঞ্চল
- আপডেট টাইম : ১১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ায় শিল্প খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবার থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা। বিশেষ করে পোশাক, ডায়িং, ওয়াশিং, ফিনিশিং ও স্পিনিং খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চললে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও নির্ধারিত সময়ের শিপমেন্ট নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
হবিগঞ্জে বন্ধ ১৭১ কারখানা
হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বুধবার থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, আগে চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাওয়া গেলেও কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম একসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে ৪৫০ ডায়িং কারখানা বিপাকে
নারায়ণগঞ্জেও গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় প্রায় ৪৫০টি ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে ফেব্রিক্স সরবরাহ না পাওয়ায় শতাধিক গার্মেন্ট কারখানাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যে নেমে আসায় ডায়িং কারখানা থেকে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্স পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গ্যাস পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
গাজীপুরেও উৎপাদন ব্যাহত
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
সাভার-আশুলিয়ায় ছাঁটাই, শিপমেন্ট নিয়ে শঙ্কা
সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকদের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে উৎপাদন সচল রাখতে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে অনেক এলাকায় ৫ থেকে ৮ পিএসআই বা তারও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কোথাও আংশিক উৎপাদন চলছে, আবার কোথাও কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
চলতি মাসে এ অঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠানো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে বড় ঝুঁকি
উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সংকট শুধু উৎপাদন ব্যাহত করছে না; এর প্রভাব পড়ছে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়। একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হলে এর সঙ্গে যুক্ত ডায়িং, স্পিনিং, ফিনিশিংসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে একদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে শিল্পকারখানার উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নিউজ লাইট ৭১






















