বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৪ মাসের বিরতি কাটিয়ে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ (রোববার) দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা এই কার্যক্রম চলবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওনোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বয়সভেদে ক্যাপসুলের ধরন ও লক্ষ্যমাত্রা

৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: মোট ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর এবারের আয়োজন সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে:

১ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত কেন্দ্র: ইপিআই-এর নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এই ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র: বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরীঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

দুর্গম অঞ্চলে বিশেষ অভিযান: ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে (চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং) বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

আগামী ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন মাঠকর্মীদের সাথে নিয়ে এর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও মাঠের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব বা রাতকানা রোগ থেকেই শিশুদের রক্ষা করে না; এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

শিশুদের অন্ধত্ব দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

আপডেট টাইম : ০৬:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১৪ মাসের বিরতি কাটিয়ে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ (রোববার) দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা এই কার্যক্রম চলবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওনোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বয়সভেদে ক্যাপসুলের ধরন ও লক্ষ্যমাত্রা

৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: মোট ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দীর্ঘ বিরতির পর এবারের আয়োজন সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে:

১ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত কেন্দ্র: ইপিআই-এর নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে এই ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র: বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও ফেরীঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।

দুর্গম অঞ্চলে বিশেষ অভিযান: ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে (চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং) বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

আগামী ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন মাঠকর্মীদের সাথে নিয়ে এর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও মাঠের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব বা রাতকানা রোগ থেকেই শিশুদের রক্ষা করে না; এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

শিশুদের অন্ধত্ব দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজ লাইট ৭১