প্রয়োজন ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ নয়
- আপডেট টাইম : ০৬:১৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মে ২০২২
- / 17
প্রয়োজন ছাড়া ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
সোমবার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ইমিগ্রেশনে কর্মকর্তারা হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করে, সাংবাদিকদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এয়ারপোর্টে যাকে সন্দেহ হবে, তাকেই চেক করুন। প্রতিদিন যদি সব যাত্রীকে চেকের সম্মুখীন হতে হয় তবে এটা যাত্রী সেবার অনুকূল হবে না। যাদেরকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করবে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। প্রয়োজনে তাদেরকে আলাদা করে জিজ্ঞাসা করবেন। এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্যই আজকে আসা। প্রয়োজন ছাড়া ইমিগ্রেশনে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না।
তিনি বলেন, ২১ হাজার যাত্রী প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে। এত সংখ্যক যাত্রীকে প্রশ্ন করা এক দিনে সম্ভব নয়। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, কেবল তাদেরই করা হচ্ছে। বাকিরা যাত্রী কি না, বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশ নিশ্চিত করবে।
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাস্টমসের সঙ্গে কথা হয়েছে, যাতে সব যাত্রীর ব্যাগ চেক করা না হয়। কেবল তথ্যের ভিত্তিতে যাকে সন্দেহ হবে, তাকে চেক করা হবে এবং ১ থেকে ২ শতাংশ যাত্রীকে আলাদাভাবে নিয়ে চেক করতে হবে। চেক করতে গিয়ে যাত্রীদের আসা–যাওয়ায় যাতে কোনো হয়রানি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিমানবন্দরে এসে সেবা নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। শিগগিরই যাতে ই-গেট চালু হয়, সেটির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হজ ফ্লাইট প্রসঙ্গে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ মে যাতে হজ ফ্লাইট শুরু করা যায়, সে জন্য প্রস্তুতি আছে। কিন্তু হজে যাঁরা যাবেন, তাঁদের বাড়িভাড়া, মোয়াল্লেম নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো করতে পারেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়গুলো এখনো ক্লিয়ার হয়নি। তবে আমাদের বিশ্বাস, নির্দিষ্ট সময়ে কাজগুলো সম্পন্ন করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয় এই বিষয়গুলো দেখছে। আমাদের বিশ্বাস, এ সময়ের মধ্যে সব হয়ে যাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩১ মে হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের করা হবে।’
হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে শিডিউল ফ্লাইট বিঘ্ন হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানের বহরে ২১টির মধ্যে ৪টি বোয়িং-৭৭৭। ২০১৯ সালে এই চারটি দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছিল। এ বছরও সেটি করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এতে বিমানের অন্যান্য গন্তব্যের শিডিউল ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি আমরা কমিয়ে দেব। কম গুরুত্বপূর্ণ ও কম লাভজনক রুটের ফ্রিকোয়েন্সি কমানো হবে। এটা দুই মাসের বিষয়। শিডিউল ফ্লাইটে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ফ্রিকোয়েন্সিং কমানো হবে না বলে জানান তিনি।
মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিমানবন্দরে সতর্ক রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্স দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা মোকাবেলায় আমরা সফল হয়েছি। সম্প্রতি জাপানের একটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে সফলতা অর্জন করেছে। সাউথ এশিয়ার মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আগামীতে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে সেগুলো মোকাবেলা আমরা প্রস্তুত রয়েছি।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিমান প্রতিমন্ত্রীর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।
নিউজ লাইট ৭১























