শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত শহীদ মিনার
- আপডেট টাইম : ০৬:০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / 17
আগামীকাল সোমবার মহান শহীদ দিবস। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে দিনটিতে। শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় প্রস্তুত শহীদ মিনার। রাত পোহালেই শহীদদের স্মরণে ফুলে ফুলে ভরে ওঠবে শহীদ মিনারের বেদী।
জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে ভাব-গম্ভীর পরিবেশে পালিত হয় দিনটি।
রোববার সকালে শহীদ মিনারের নিরাপত্তা পরিদর্শন করতে এসে র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাদা নিরাপত্তা দল মোতায়েন করেছি। ২১ তারিখের জন্য শহীদ মিনার এলাকায় চেকপোস্ট, অবজারবেশন পোস্ট, স্ট্যাটিক ডিউটি, স্ট্যান্ডার্ড ফোর্সসহ মেডিকেল টিম থাকবে। এছাড়াও রেগুলার ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং চলছে। সুইপিং শেষ হলে আমরা ডিএমপির কাছে শহীদ মিনার হস্তান্তর করবো।’
সকালের প্রভাতফেরি থেকে শুরু করে পুষ্পার্পণসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি চলছে। শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। নতুন রঙে রঞ্জিত হয়েছে সমগ্র প্রাঙ্গণ, রাস্তা-ঘাট ও দেয়াল। পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকেই তৎপর।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতের মতো বাঙালি সূর্যসন্তানদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এই বাংলার রাজপথ। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে শত্রুর বুলেটের মুখে বুক পেতে দেন তারা, ছিনিয়ে আনেন বাংলায় কথা বলার অধিকার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনার এলাকার রাস্তা ও রাস্তাসংলগ্ন দেয়ালগুলো ধুয়েমুছে রঙ করা হয়েছে, আলপনা এঁকেছেন শিল্পীরা, সেখানে লেখা হয়েছে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান, গানের কলি, ভাষা নিয়ে লেখা বিভিন্ন কবিতার পঙক্তি ও শ্লোক।
দেয়াল লিখন আলপনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। তার নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা ও চিত্রশিল্পীরা দেয়ালিকার কাজ করেন।
কাজ চলাকালে অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, সাম্প্রদায়িক চেতনায় পরিচালিত মানবগোষ্ঠী এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান। পাকিস্তান আমলে শহীদ মিনার বানানো হয়েছিলো বলে এটিকে একটি ইসলামী পরিচয় দিতে ওই নির্দিষ্ট সম্প্রদায় মরিয়া হয়ে ওঠে। আমাদের সংস্কৃতিকে ধর্মীয় বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার অংশ হিসেবে আলপনা ও দেয়াল লিখনের এই পদক্ষেপ।
দেয়াল রাঙানোর কাজে নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদভুক্ত ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী ঋতু নিউজ লাইট ৭১ কে বলেন, আমাদের এই কাজ দেশের ইতিহাসকে নতুন রঙে ফুটিয়ে তোলার কাজ। নিঃসন্দেহে এটি অমর একুশের একটি বড় অংশ। এ ধরণের কাজের সঙ্গে নিজেকে অংশীদার করতে পেরে আমি গর্বিত।
এদিকে, দিনটিকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেও নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভ) ক্যামেরা। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর বসানো হয়েছে অবজারবেশন টাওয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউটও তৎপর থাকবে। এছাড়াও রেগুলার ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং চালাচ্ছে র্যাব।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম শাহা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না। পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য থাকবে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি বোম ডিজপোজাল ইউনিট, ডিবি, র্যাব ও সোয়াটের টিম থাকবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতির সার্বিক দিক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন ও ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন পুষ্পার্পণের জন্য যেতে পারবেন বলে জানান। পাশাপাশি সকলকে করোনার টিকার সনদ নিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
একই দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আজিমপুর কবরস্থানে যাতায়াতের জন্য একটি রুট-ম্যাপ প্রকাশ করা হয়। ম্যাপ অনুযায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণের জন্য আসা সকলে আজিমপুর কবরস্থান থেকে পলাশী হয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের মধ্যবর্তী রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
এছাড়াও গতকাল সার্বিক প্রস্তুতি দেখতে শহীদ মিনার পর্যবেক্ষণে যান ঢাবি উপাচার্য। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ উদযাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন উপাচার্য।
নিউজ লাইট ৭১























