দেশে বিকৃত যৌনাচারের বিভিন্ন পন্য
- আপডেট টাইম : ০৪:৪২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১
- / 57
দেশে বিকৃত যৌনাচারের বিভিন্ন পন্য আমদানি ও বিপনন নিষিদ্ধ থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক বা ইউটিউবে ঢু মারলেই মিলছে এসব অবৈধ পণ্য। এসব পণ্যের ভেতর রয়েছে যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রা ট্যাবলেটও। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অনলাইনে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব ওষুধ।
সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাতেও এসব পণ্য ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেছে। রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আনুশকা নূর আমিন নামের ঐ ছাত্রীর দেহে ‘ফরেন বডি’র আলামত মিলেছে। ফলে আলোচনায় উঠে এসেছে বিকৃত যৌনরুচি মেটাবার বিভিন্ন উপাদান বা পণ্যের কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইনে চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে বিকৃত যৌনাচারের বিভিন্ন পণ্য। ফেসবুকে হর হামেশাই পপ আপ বিজ্ঞাপনে উঠে আসছে বিভিন্ন যৌনসামগ্রী। এইসব যৌনসামগ্রী পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে বৈধ হলেও বাংলাদেশে অবৈধ। তবুও আড়ালে আবডালে এসব পণ্য কিনতে সক্ষম হচ্ছেন যেকোন বয়সের ক্রেতারা। যদিও দোকানিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই তাদের ক্রেতা।
তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। এই পণ্যগুলোর কিছু বৈধ আর কিছু একেবারেই অবৈধ। যেমন ‘ম্যাজিক কনডম’ নামের একটি বিশেষ কনডম বাজারে রয়েছে যা এক হাজারেরও বেশিবার ব্যবহার করা যায়। বিক্রেতাদের দাবি, এটি একটি বৈধ পণ্য। এর ড্রাগ লাইসেন্স রয়েছে।
এ বিষয়ে এশিয়ান স্কাই শপের এক্সিকিউটিভ অফিসার মেহেদি হাসান জানান, ম্যাজিক কনডমটা আমরা বিক্রি করি। এটা বৈধ। তবে অন্যান্য আরো প্রডাক্ট আছে যা বৈধ নয়। যেমন ডিলডো, ফ্লাশলাইট, বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ক্যাপসুল, স্প্রে প্রভৃতি।
তাহলে এই ‘অবৈধ’ পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা কেউ কোন পণ্য চাইলে তাকে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেই। ‘দারাজ’, ‘আজকের ডিল’ নামের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়। তবে আমরা ডিলডো, ফ্লাশলাইট বা যেকোন যৌন উত্তেজক পণ্য ডিসপ্লেতে রাখি না।
এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে একবার বিভিন্ন যৌনসামগ্রী জাতীয় পণ্য ডিসপ্লেতে রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে আমরা ছয়লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়েছি। সেসময় ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম এই জরিমানা করেছিলেন। ঐ ঘটনায় আমাদের তিনজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় অবৈধ এসব পণ্য এয়ারপোর্ট এলাকায় শাজাহান নামের এক ‘নেতা’র মাধ্যমে ডিলডো ও টয় ভ্যাজাইনা বাংলাদেশে ঢুকছে। সেখান থেকেই অন্যান্য দোকানিরা তাদের অনলাইন শপের জন্য পাইকারি হারে কিনছেন এসব পণ্য। পরে তা অনলাইনে মুখরোচক বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। টেলিমার্কেটিংয়ের এই যুগে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে এসব পণ্যের প্রসার।
এছাড়াও বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ইরেকটাইল ডিসফাকশনের ওষুধ ভায়াগ্রা (সিলডেলাফিল) ট্যাবলেট। এসব ট্যাবলেট সেবন করা হয় দীর্ঘক্ষণ যৌনক্রিয়ার লক্ষ্যে। উৎসুক মন থেকে বা আগ্রহ থেকে প্রায়ই তরুণরা আকৃষ্ট হয়ে কিনছে এসব ট্যাবলেট। বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় না বলে যে কেউই এই ট্যাবলেট কিনতে পারছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধের ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াল ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বলে জানা যায়।
ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এই বিষয়গুলোকে সোশিও-কালচারাল (সামাজিক-সাংস্কৃতিক) প্রেক্ষিতে নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু একটা ‘সেক্টর’ থেকে ভাবলে তা ভুল হবে। বর্তমানে আমরা ডিজিটালাইজেশনের নামে প্রগতির অনেক ঊর্ধ্বে উঠে গেছি। পশ্চিমা কালচারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা বড় বিপদ ডেকে আনছি।
মধ্যবিত্তের যে সংস্কৃতি তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে বিকৃত যৌন লালসা সমাজে জায়গা করে নিচ্ছে বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ পণ্য বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলেই মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। এখন কেউ ফেসবুকে পেজ খুলে বা ইউটিউবে চ্যানেল খুলে এসব বিক্রি শুরু করলে হুট করে আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। এজন্য দেশের কোথাও এমন পণ্য বিক্রি হলে আমাদেরকে জানানোর অনুরোধ করছি। এছাড়া এসব অবৈধ পণ্য যেন দেশের ভিতরে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আরো সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।
নিউজ লাইট ৭১























