শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • / 85

সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম। টিকায় বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় প্রাথমিক ভয়-ভীতি, গুজব উপেক্ষা করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়ে টিকা নিচ্ছেন। বাড়ছে টিকা নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের সংখ্যাও।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন প্রায় ২৩ লাখ মানুষ আর গণটিকাদান শুরুর ৯ দিনে টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১৩ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৯০ জনের মাঝে দেখা দিয়েছে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ায় খুশি টিকা গ্রহীতা ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরাও।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের টিকাদান বুথে টিকা নিতে আসেন পারভেজ মিয়া নামের এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। টিকা নেয়ার পর তিনি বলেন, টিকা নিতে অ্যাপে ঢুকে নিবন্ধন করেছি। নিবন্ধনের পর এসএমএসে টিকা গ্রহণের সময় জানিয়ে দিয়েছে। সেই মোতাবেক এসেই টিকা নিয়েছি। টিকা নিতে গিয়ে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

একই হাসপাতালে কথা হয় জামিলা আক্তার নামে আরেকজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোগান্তি পোহাতে হয়নি কিংবা টিকার জন্য লাইনেও বেশি সময় দাঁড়াতে হয়নি।

গণটিকাদান প্রসঙ্গে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রাথমিক ভয়-ভীতি, গুজব উপেক্ষা করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কর্মসূচি চলছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি সন্তুষ্ট। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও মতামত প্রকাশ করেছে কমিটি।

তিনি বলেন, জাতীয় পরামর্শক কমিটি কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের সময় নিয়ে আলোচনা করেছে। কমিটি মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবনা অনুযায়ী আট থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক। এ প্রস্তাবনা অনুসরণ করার জন্য সরকারকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেয়া হয়। টিকার মেয়াদকালের দিকে লক্ষ্য রেখে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে আরো দুই লাখের বেশি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময়ে টিকা নিয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। আর নিবন্ধন করেছেন প্রায় ২৩ লাখ। নিবন্ধনকারীদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সারা দেশে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৯০২ জন। ফলে গত ৭ ফেব্রæয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৩ জন। টিকা নেয়ার পর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) দেখা দিয়েছে সর্বমোট ৪৯০ জনের শরীরে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত একদিনে মঙ্গলবার সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে এদিন এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৯২ জন পুরুষ ও ৭৭ হাজার ১০ জন নারী টিকা নিয়েছেন। এই সময়ে ৩৫ জন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) রিপোর্ট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম

আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলছে করোনার টিকা কার্যক্রম। টিকায় বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় প্রাথমিক ভয়-ভীতি, গুজব উপেক্ষা করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়ে টিকা নিচ্ছেন। বাড়ছে টিকা নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের সংখ্যাও।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন প্রায় ২৩ লাখ মানুষ আর গণটিকাদান শুরুর ৯ দিনে টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১৩ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৯০ জনের মাঝে দেখা দিয়েছে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হওয়ায় খুশি টিকা গ্রহীতা ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরাও।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের টিকাদান বুথে টিকা নিতে আসেন পারভেজ মিয়া নামের এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। টিকা নেয়ার পর তিনি বলেন, টিকা নিতে অ্যাপে ঢুকে নিবন্ধন করেছি। নিবন্ধনের পর এসএমএসে টিকা গ্রহণের সময় জানিয়ে দিয়েছে। সেই মোতাবেক এসেই টিকা নিয়েছি। টিকা নিতে গিয়ে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

একই হাসপাতালে কথা হয় জামিলা আক্তার নামে আরেকজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোগান্তি পোহাতে হয়নি কিংবা টিকার জন্য লাইনেও বেশি সময় দাঁড়াতে হয়নি।

গণটিকাদান প্রসঙ্গে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রাথমিক ভয়-ভীতি, গুজব উপেক্ষা করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে টিকা কর্মসূচি চলছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি সন্তুষ্ট। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও মতামত প্রকাশ করেছে কমিটি।

তিনি বলেন, জাতীয় পরামর্শক কমিটি কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের সময় নিয়ে আলোচনা করেছে। কমিটি মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাবনা অনুযায়ী আট থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক। এ প্রস্তাবনা অনুসরণ করার জন্য সরকারকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেয়া হয়। টিকার মেয়াদকালের দিকে লক্ষ্য রেখে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশে আরো দুই লাখের বেশি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময়ে টিকা নিয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। আর নিবন্ধন করেছেন প্রায় ২৩ লাখ। নিবন্ধনকারীদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সারা দেশে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৯০২ জন। ফলে গত ৭ ফেব্রæয়ারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৩ জন। টিকা নেয়ার পর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) দেখা দিয়েছে সর্বমোট ৪৯০ জনের শরীরে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত একদিনে মঙ্গলবার সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে এদিন এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৯২ জন পুরুষ ও ৭৭ হাজার ১০ জন নারী টিকা নিয়েছেন। এই সময়ে ৩৫ জন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাইজেশন (এইএফআই) রিপোর্ট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১