দেশে এসেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত করোনার টিকা
- আপডেট টাইম : ০৬:০০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১
- / 117
দেশে এসেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত করোনার টিকা। তবে টিকা নিয়ে দেশের মানুষদের মধ্যে নানারকম মতভেদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। টিকা নেওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ-অনাগ্রহ দুটোই দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ কীভাবে টিকা পাওয়া যাবে তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
এতকিছুর মধ্যেও একজন নার্সকে প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী ২৭ জানুয়ারি দেশে শুরু হচ্ছে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। পরদিন ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে কয়েকশ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে টিকাদান শুরু হবে। গতকাল শনিবার শ্যামলীতে কিডনি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান এসব জানান। তিনি আরো বলেন, ২৮ জানুয়ারি ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে কয়েকশ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে টিকাদান শুরু হবে। গতকাল শনিবার শ্যামলীতে কিডনি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ জানুয়ারি টিকা দেওয়ার কার্যক্রম ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা দেওয়া হবে একজন নার্সকে। এ ছাড়া এদিন আরো ২৪ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এদের মধ্যে করোনার সময় কাজ করা সম্মুখযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকরা থাকবেন।
ঢাকায় ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা দেওয়া হবে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের ওপর টিকা প্রয়োগ করা হবে। তাদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
এদিকে করোনার টিকা বহুল প্রতীক্ষিত হলেও এটি নিতে আগ্রহ নেই বা নিতেই চান না, দেশে এমন লোকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। এদের মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক, সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যেমন আছেন, তেমনি আছেন রিকশাচালক, চায়ের দোকানদার বা পরিবহন শ্রমিক।
এ বিষয়ে মতামত দেওয়া ১০৮ জনের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ (৩৪ জন) নানা কারণ দেখিয়ে টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। কেউ বলেছেন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা। টিকা নিয়ে নানারকম গুজবের কথা বলেছেন অনেকে। কেউ কেউ মনে করেন, টিকা নেওয়ার দরকারই হবে না। টিকা নিতে অনাগ্রহীদের বড় অংশটিই শহুরে শিক্ষিত পেশাজীবী-যারা নিয়মিত সংবাদ পড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন।
আবার যারা টিকা নিতে চান, তাদের একটি বড় অংশই জানেন না, কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে। সুরক্ষা নামের একটি মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে টিকা নিবন্ধন শুরু হচ্ছে ২৬ জানুয়ারি। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নেই অধিকাংশের।
টিকা নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়াদের মধ্যে ৭০ শতাংশ টিকা নিতে আগ্রহী। তবে দিনমজুরদের মধ্যে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ বেশি। রাজধানীতে রিকশা চালান কাশেম মিয়া। তিনি টিকা নিতে চান, তবে টাকা দিয়ে নয়। সরকার থেকে ফ্রিতে টিকা দিলে তিনি নেবেন। কিন্তু তার সঙ্গে ভোটার আইডি ও স্মার্টফোন নেই। তাই তিনি টিকা পাবেন কি না সন্দেহে আছেন।
গাড়িচালক কামাল হোসেন জানান, একা না, পরিবারের সবার জন্য টিকা চাই। কীভাবে পরিবারের জন্য ফ্রি টিকা নিতে হয় সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী তিনি। চিকিৎসক কৃষ্ণেন্দু বোস বলেন, আমি অবশ্যই টিকা নেব। সব টিকারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। টিকা নেওয়ার ফলে উপকার বেশি হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সঙ্গে সুর মিলিয়ে তার স্ত্রী মৌসুমী বোস বলেন, যেহেতু ডাক্তাররা নিজেরাই টিকা নেবেন, তাই আমি অন্য কিছু ভাবতে চাই না।
ফরিদপুরের সরকারি কলেজের এক শিক্ষক নিজেকে নিরাপদ রাখতে টিকা নিতে আগ্রহী। তার ধারণা, রাঘববোয়ালদের ভিড়ে তাদের কাছে টিকা পৌঁছাবে না। টিকা নিয়ে আগ্রহ দেখালেও অনেকের মনে ভয় আছে। আবার টিকা যে দেশে এসেছে, সে খবর জানে না অনেকে। নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ের চা বিক্রেতা বিটল হোসেন টিকা নিতে উৎসুক। তার প্রশ্ন, তিনি পাবেন তো?
তেজগাঁও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের কনস্টেবল আসাদুল ইসলাম টিকা নিতে আগ্রহী। তবে তিনি জানেন না কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে। বলেন, সরকার যেভাবে দেবে, সেভাবেই তিনি নেবেন। দিনাজপুরের হকার ফজলুর রহমান জানান, সুরক্ষা অ্যাপের কথা শোনেননি তিনি। আর কীভাবে নিবন্ধন করতে হয় তাও জানা নেই।
উল্লেখ্য, ভারত থেকে উপহার হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা আসার পরই টিকাদান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারিভাবেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুরুতে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে টিকাদান শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু টিকা আগে পাওয়ায় প্রয়োগের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। ভারতে এই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেমন দেখা না গেলেও সতর্কতা হিসেবে শুরুতে ৪০০-৫০০ জনকে দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় সরকার।
নিউজ লাইট ৭১























