শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জানুয়ারী ২০২১
  • / 92

সবচেয়ে কম জমি, আর বেশি মানুষের দেশে ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। দেশে এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশে^র শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে দেশে ফলের উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ টন বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি জাত মিলে উৎপাদিত ফলের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৯ হাজার টন। ২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল এ দেশের প্রধান ফল। এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। আগে হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর ফল ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, ডুমুর, মাল্টা, বেল, নারকেল, জাম্বুরা, রংগন, সূর্য ডিম ও খেজুরের বেশ কয়েকটি জাতের চাষও দেশে দ্রুত বাড়ছে। গতকাল রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ায় দেশেই এখন মাল্টা, ড্রাগন, স্ট্রবেরিসহ অনেক বিদেশি ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। আবার আপেলের বিকল্প বড় আকারের কুল, থাই পেঁপে ও পেয়ারা উৎপাদনও বাড়ছে। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক উৎপাদনে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বলছে, দেশে প্রায় ১৩০ রকমের ফল রয়েছে। এর মাঝে প্রচলিত ও অপ্রচলিত প্রায় ৭২টি ফলের চাষাবাদ হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ফলের উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২১৫ টন। ২০১৭-১৮-তে ১ কোটি ২১১ টন, ২০১৬-১৭-তে ১ কোটি ২০ টন এবং ২০১৫-১৬-তে ১ কোটি ১০ টন ফল উৎপাদন হয়। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে দশম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সাত্তার ম-ল বলেন, ফল চাষে বাংলাদেশে রীতিমতো একটি বিপ্লব ঘটে গেছে। গত ১০ বছরে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে ফলের গাছ রোপণের প্রবণতা বেড়েছে। বাংলাদেশ যে খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হয়েছে এবং বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে তিন বছরে ছয় ধাপ এগিয়েছে; তার পিছনে ধান, সবজি ও মাছের পাশাপাশি ফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বিচি ছাড়া পেয়ারার বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করছেন। দেশের সাতটি কোম্পানি বর্তমানে পেয়ারার জুস তৈরির জন্য প্লান্ট স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ থেকে পেয়ারা ও পেয়ারার জুস রপ্তানিও হচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ০৬:২৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ জানুয়ারী ২০২১

সবচেয়ে কম জমি, আর বেশি মানুষের দেশে ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। দেশে এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশে^র শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে দেশে ফলের উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ টন বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি জাত মিলে উৎপাদিত ফলের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৯ হাজার টন। ২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল এ দেশের প্রধান ফল। এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। আগে হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর ফল ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, ডুমুর, মাল্টা, বেল, নারকেল, জাম্বুরা, রংগন, সূর্য ডিম ও খেজুরের বেশ কয়েকটি জাতের চাষও দেশে দ্রুত বাড়ছে। গতকাল রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ায় দেশেই এখন মাল্টা, ড্রাগন, স্ট্রবেরিসহ অনেক বিদেশি ফলের আবাদ শুরু হয়েছে। আবার আপেলের বিকল্প বড় আকারের কুল, থাই পেঁপে ও পেয়ারা উৎপাদনও বাড়ছে। যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক উৎপাদনে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বলছে, দেশে প্রায় ১৩০ রকমের ফল রয়েছে। এর মাঝে প্রচলিত ও অপ্রচলিত প্রায় ৭২টি ফলের চাষাবাদ হয়। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ফলের উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২১৫ টন। ২০১৭-১৮-তে ১ কোটি ২১১ টন, ২০১৬-১৭-তে ১ কোটি ২০ টন এবং ২০১৫-১৬-তে ১ কোটি ১০ টন ফল উৎপাদন হয়। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে দশম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সাত্তার ম-ল বলেন, ফল চাষে বাংলাদেশে রীতিমতো একটি বিপ্লব ঘটে গেছে। গত ১০ বছরে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে ফলের গাছ রোপণের প্রবণতা বেড়েছে। বাংলাদেশ যে খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হয়েছে এবং বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে তিন বছরে ছয় ধাপ এগিয়েছে; তার পিছনে ধান, সবজি ও মাছের পাশাপাশি ফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বিচি ছাড়া পেয়ারার বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করছেন। দেশের সাতটি কোম্পানি বর্তমানে পেয়ারার জুস তৈরির জন্য প্লান্ট স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ থেকে পেয়ারা ও পেয়ারার জুস রপ্তানিও হচ্ছে।

নিউজ লাইট ৭১