বর্ষবরণে উধাও স্বাস্থ্যবিধি
- আপডেট টাইম : ০৭:৫০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জানুয়ারী ২০২১
- / 90
ইংরেজি বছরকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল পর্যটননগরী কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে ছিল লাখো মানুষের ভিড়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন তারা। তবে করোনাকালীন এ সময়ে মাস্ক বাধ্যতামূলক থাকলেও কারও মুখে দেখা যায়নি। এদিকে বছরের প্রথম দিনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় জেলার আশপাশের মানুষেরও আনাগোনা লক্ষ করা যায়। তাদেরও মানতে দেখা যায়নি নির্দেশনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি এমন ভিড় থাকলেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ। সমুদ্রসৈকতে দেখা যায়নি ভ্রাম্যমাণ আদালত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে করা হয়নি জীবাণু নাশকের ব্যবস্থা।
করোনা মহামারী দীর্ঘ ৫ মাসেরও অধিক সময় জনবিচ্ছিন্ন ছিল কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো। গত ১৭ আগস্ট ‘পরীক্ষামূলক’ খুলে দেওয়া হয় সৈকত। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে সীমিত আকারে চালু রাখার কথা বলা হয় পর্যটনগুলোকে। তবে তা এখন সরগরম। পর্যটকরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটি ও বছরের প্রথম দিনে পর্যটকে টইটুম্বর ছিল সমুদ্রসৈকত। হোটেল-মোটেল-কটেজ ও গেস্ট হাউসগুলো ছিল পরিপূর্ণ।
অথচ সবখানেই যেন একই দৃশ্য। স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদাসীন পর্যটকরা। সৈকতে দায়িত্বরত লাইফগার্ড কর্মীদের কথা মানছেন না কেউ বলে রয়েছে অভিযোগ। এদিকে কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, বেড়াতে আসা পর্যটকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। আর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। হয়রানি রোধে পর্যটন স্পটগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা
রয়েছে সমুদ্রসৈকতে। গোসলের স্থানেও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মী। তাদের তথ্য মতে, সৈকতের পাশাপাশি দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও ঢুঁ মারছেন পর্যটকরা। আরেক তথ্যমতে, জেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব পর্যটকদের জন্য করা হয়নি জীবাণু নাশকের কোনো ব্যবস্থা। গতকাল টুরিস্ট স্পট কিংবা সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত হয়নি ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
ঢাকা থেকে আসা রুবেল জানান, অনেকদিন ঘরে ছিলাম করোনার কারণে মনে করেছিলাম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এসে প্রাণভরে নিঃশ^াস নেব। এখানে এসে দেখি লাখো পর্যটকের ভিড়। দুঃখ হচ্ছে প্রশাসনের কোনো খেয়াল নেই। যারা মাস্কবিহীন আসছে তাদের সমুদ্রে নামতে বাধা দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
সি-সেইফ লাইফগার্ড সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হলেও বালিয়াড়িতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই মাস্ক পরে না। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় অব্যাহত রাখলেও পর্যটকরা সচেতন হচ্ছেন না। এদিকে করোনাকালীন সময়ে সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় প্রশাসন জনসচেতনতায় কাজ করছে বলে জানান।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত হয়রানির শিকার না হন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশ সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়াসহ পুরো সৈকতে পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা রোধের পাশাপাশি পর্যটনটাও এগিয়ে নিতে হবে। সেভাবেই পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া রয়েছে। সবাই আস্তরিক হলে পর্যটন ব্যবসা ঠিক রেখে করোনা রোধ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন।
নিউজ লাইট ৭১























