শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 67

করোনা পরিস্থিতিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কখনো তারা সফল হয়েছেন, কখনো হয়েছেন সমালোচিত। হতে হয়েছে বিড়াম্বনার শিকার। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে উহানের খবর আমরা নিচ্ছিলাম। সেই থেকে প্রস্তুতি শুরু। এখনো আমরা সমান তালে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় স্ক্রিনিং থেকে শুরু করে, জানুয়ারির শেষ থেকে ল্যাবে ডায়াগনোসিসের জন্য প্রস্তুত করা, একটা ল্যাব থেকে দেড় শতাধিক ল্যাবে রূপান্তর করা; হাজার হাজার ফোনকল হটলাইনে; ব্যক্তিগতভাবে প্রায় সাড়ে তিনশ কল রিসিভ করা; আমরা আসলে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে যখন কোনো বাসায় স্যাম্পল আনতে গেছেন, তখন ১০ তলা ১২ তলায় লিফটে উঠতে দেওয়া হয়নি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে স্যাম্পল আনতে হয়েছে। এগুলো আমাদের অবাক করেছে। আমরা মনে করি যারা লেখাপড়া জানেন না তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা হীনমন্যতা কাজ করে। কিন্তু আমরা এবার অনেক উচ্চপর্যায়ের শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও এসব আচরণ দেখেছি।’

‘প্রথমে আমরা মাদারীপুরের শিবচরে লকডাউন করে সফল হয়েছি, টোলারবাগে করেছি। ট্রান্সমিশন বন্ধ করার জন্য জোনভিত্তিক রাজাবাজার লকডাউন করেছি। করোনাকালীন আমার বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছি। অনেক খারাপ মানুষ হিসেবেও আমরা যাদের জানতাম, তারাও কেউ কেউ এগিয়ে এসেছেন। করোনার আগে আর পরে জীবন তো এক হবে না। সেই জন্য আমরা মানুষকে অভ্যস্ত করারও চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমরা যেটা অনুভব করেছি। ৫০ লাখের বেশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছে। লকডাউন করে এদের যদি ঘরে বন্দি করে দিই। এই ৫০ লাখ মানুষের ঘরে খাবার থাকে না। তাদের জন্যও আমাদের অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। সব কিছু নিয়ে আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি।’

মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণ কমে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি, তখনই সংক্রমণ কমে এসেছে। আর যখন স্বাস্থ্যবিধি কম মানি তখন সংক্রমণ বেড়ে যায়। এখন দেখেন মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে, অনেকে মাস্ক পরেন। এখন দেখেন সংক্রমণ অনেকটা কমছে।’

মাস্ক পরার ফলে অন্য রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাস্ক ব্যবহারের ফলে আমরা ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাওয়ায় এই সংক্রান্ত অন্যান্য রোগে আক্রান্তের হারও হয়তো আমাদের কমে আসবে। আমরা একটা বিষয় দেখেছি, মানুষকে বোঝালে, বোঝেন। হয়তো অনেক সময় আমরা ঠিকভাবে বোঝাতে পারি না।

এটা তো একটা রোগ, যত দ্রুত ডায়াগনোসিস করা যায় তত ভালো উল্লেখ করে বলেন, কিছু মানুষ ডাক্তারের কাছে আসেন না। পরীক্ষা করান না। এতে হচ্ছে কি, তাদের দ্বারা সমাজের ক্ষতি হচ্ছে।

ভ্যাকসিনেশন করলেও আমাদের মাস্ক পরতে হবে, হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। শীতকালীন অনুষ্ঠানগুলো যত এড়ানো যায়, যত কম লোক নিয়ে করা যায়, ততই মঙ্গল বলে মনে করেন এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

নিউজ লাইট ৭১ whatsapp sharing button

pinterest sharing button
linkedin sharing button
print sharing button
sharethis sharing button
Tag :

শেয়ার করুন

নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

আপডেট টাইম : ০৬:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কখনো তারা সফল হয়েছেন, কখনো হয়েছেন সমালোচিত। হতে হয়েছে বিড়াম্বনার শিকার। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে উহানের খবর আমরা নিচ্ছিলাম। সেই থেকে প্রস্তুতি শুরু। এখনো আমরা সমান তালে কাজ করে যাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় স্ক্রিনিং থেকে শুরু করে, জানুয়ারির শেষ থেকে ল্যাবে ডায়াগনোসিসের জন্য প্রস্তুত করা, একটা ল্যাব থেকে দেড় শতাধিক ল্যাবে রূপান্তর করা; হাজার হাজার ফোনকল হটলাইনে; ব্যক্তিগতভাবে প্রায় সাড়ে তিনশ কল রিসিভ করা; আমরা আসলে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে যখন কোনো বাসায় স্যাম্পল আনতে গেছেন, তখন ১০ তলা ১২ তলায় লিফটে উঠতে দেওয়া হয়নি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে স্যাম্পল আনতে হয়েছে। এগুলো আমাদের অবাক করেছে। আমরা মনে করি যারা লেখাপড়া জানেন না তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা হীনমন্যতা কাজ করে। কিন্তু আমরা এবার অনেক উচ্চপর্যায়ের শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও এসব আচরণ দেখেছি।’

‘প্রথমে আমরা মাদারীপুরের শিবচরে লকডাউন করে সফল হয়েছি, টোলারবাগে করেছি। ট্রান্সমিশন বন্ধ করার জন্য জোনভিত্তিক রাজাবাজার লকডাউন করেছি। করোনাকালীন আমার বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতাও পেয়েছি। অনেক খারাপ মানুষ হিসেবেও আমরা যাদের জানতাম, তারাও কেউ কেউ এগিয়ে এসেছেন। করোনার আগে আর পরে জীবন তো এক হবে না। সেই জন্য আমরা মানুষকে অভ্যস্ত করারও চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমরা যেটা অনুভব করেছি। ৫০ লাখের বেশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছে। লকডাউন করে এদের যদি ঘরে বন্দি করে দিই। এই ৫০ লাখ মানুষের ঘরে খাবার থাকে না। তাদের জন্যও আমাদের অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে। সব কিছু নিয়ে আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি।’

মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণ কমে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছি, তখনই সংক্রমণ কমে এসেছে। আর যখন স্বাস্থ্যবিধি কম মানি তখন সংক্রমণ বেড়ে যায়। এখন দেখেন মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে, অনেকে মাস্ক পরেন। এখন দেখেন সংক্রমণ অনেকটা কমছে।’

মাস্ক পরার ফলে অন্য রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাস্ক ব্যবহারের ফলে আমরা ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাওয়ায় এই সংক্রান্ত অন্যান্য রোগে আক্রান্তের হারও হয়তো আমাদের কমে আসবে। আমরা একটা বিষয় দেখেছি, মানুষকে বোঝালে, বোঝেন। হয়তো অনেক সময় আমরা ঠিকভাবে বোঝাতে পারি না।

এটা তো একটা রোগ, যত দ্রুত ডায়াগনোসিস করা যায় তত ভালো উল্লেখ করে বলেন, কিছু মানুষ ডাক্তারের কাছে আসেন না। পরীক্ষা করান না। এতে হচ্ছে কি, তাদের দ্বারা সমাজের ক্ষতি হচ্ছে।

ভ্যাকসিনেশন করলেও আমাদের মাস্ক পরতে হবে, হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। শীতকালীন অনুষ্ঠানগুলো যত এড়ানো যায়, যত কম লোক নিয়ে করা যায়, ততই মঙ্গল বলে মনে করেন এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

নিউজ লাইট ৭১ whatsapp sharing button

pinterest sharing button
linkedin sharing button
print sharing button
sharethis sharing button