শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ সফরে আসবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 114

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু তার প্রেসিডেন্টের সফরের কথা জানিয়ে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গত সেপ্টেম্বরে আঙ্কারায় নির্মিত বাংলাদেশের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে তুরস্ক গিয়েছিলেন। সে সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য খুব বড় বোঝা। তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তুরস্ক চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে সম্মানের সঙ্গে তাদের নিজ ভূমে ফিরে যাক। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে শুরু করতে তুরস্ক মিয়ানমারকে চাপ দেবে বলেও জানান সাভাসগলু।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাভাসগলু বলেন, রোহিঙ্গাদের যেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে সেটা নিয়ে আমি খুব একটা বলতে পারব না। তবে সেখানে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ বিশেষ করে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয় দিতেই ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচর নির্মাণ করে সরকার। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই দ্বীপে অনকে আগ থেকেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের উদ্যোগি নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে গত ৪ ডিসেম্বর স্থানান্তরের প্রথম ধাপে উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্প থেকে বাসে ও জাহাজে করে দুই দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল সেখানে পৌঁছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রী মোমেন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেক আলোচনা হয়েছে। তুরস্ক বলেছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাভাসগলু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন। সফরের প্রথম কর্মসূচিতে সাভাসগুল ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাদুঘরে সম্মান জানান। এরপর সেখান থেকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বুধবার বিকালে ঢাকায় নতুন করে নির্মিত দূতাবাসের উদ্ধোধন করবেন সাভাসগুল।

বাংলাদেশকে এশিয়ার রাইজিং স্টার অ্যাখ্যা দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা বলেন। সাভাসগুল বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে এখন এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। আমরা আগামীতে একে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই।

এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটি সামরিক সরজ্ঞাম ও তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে তুরস্ক পাশে থাকতে চায়। তুরস্ক এদেশে এলপিজি গ্যাস, হাসপাতালে বিনিয়োগ এবং আইটি প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সফরে আসবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু তার প্রেসিডেন্টের সফরের কথা জানিয়ে বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত সাভাসগলু। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গত সেপ্টেম্বরে আঙ্কারায় নির্মিত বাংলাদেশের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে তুরস্ক গিয়েছিলেন। সে সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য খুব বড় বোঝা। তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তুরস্ক চায় রোহিঙ্গারা নিরাপদে সম্মানের সঙ্গে তাদের নিজ ভূমে ফিরে যাক। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে শুরু করতে তুরস্ক মিয়ানমারকে চাপ দেবে বলেও জানান সাভাসগলু।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাভাসগলু বলেন, রোহিঙ্গাদের যেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে সেটা নিয়ে আমি খুব একটা বলতে পারব না। তবে সেখানে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ বিশেষ করে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয় দিতেই ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচর নির্মাণ করে সরকার। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই দ্বীপে অনকে আগ থেকেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের উদ্যোগি নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে গত ৪ ডিসেম্বর স্থানান্তরের প্রথম ধাপে উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্প থেকে বাসে ও জাহাজে করে দুই দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল সেখানে পৌঁছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রী মোমেন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনেক আলোচনা হয়েছে। তুরস্ক বলেছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাভাসগলু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন। সফরের প্রথম কর্মসূচিতে সাভাসগুল ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাদুঘরে সম্মান জানান। এরপর সেখান থেকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বুধবার বিকালে ঢাকায় নতুন করে নির্মিত দূতাবাসের উদ্ধোধন করবেন সাভাসগুল।

বাংলাদেশকে এশিয়ার রাইজিং স্টার অ্যাখ্যা দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা বলেন। সাভাসগুল বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে এখন এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। আমরা আগামীতে একে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চাই।

এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটি সামরিক সরজ্ঞাম ও তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে তুরস্ক পাশে থাকতে চায়। তুরস্ক এদেশে এলপিজি গ্যাস, হাসপাতালে বিনিয়োগ এবং আইটি প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

নিউজ লাইট ৭১