স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে পদার্পণ করেছে দেশ
- আপডেট টাইম : ০৪:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০
- / 93
স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে পদার্পণ করেছে দেশ। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই দীর্ঘ পথচলায় দেশের অগ্রগতি হয়েছে অভূতপূর্ব। শিক্ষিত হয়েছে মানুষ, পরিবর্তন হয়েছে সভ্যতার। দেশ এখন দরিদ্র দেশের তালিকায় নেই। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এ ছাড়াও তরতরিয়ে এগিয়ে চলছে ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, আকাশছোঁয়া অগ্রগতি পঞ্চাশে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজ। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোপানে পা রাখবে।
পদ্মা সেতু এখন বাস্তব
বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পদ্মা সেতু প্রকল্প। পদ্মায় ৬ হাজার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু বাংলাদেশের একটি নতুন দিগন্ত। বিজয়ের মাসে সেতুতে শেষ স্প্যানটি বসিয়ে পদ্মা জয় করে পদ্মা সেতুটি। স্বপ্নপূরণের খুব কাছাকাছি নদীর প্রবহমান জলরাশির ওপর পুরো পদ্মা সেতু। দূর থেকেই দেখা যায় সেতুর মাঝের শূন্যস্থানটুকু এখন পূর্ণতা পেয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞে দেশি-বিদেশি ২০ হাজার প্রকৌশলী, শ্রমিকদের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রম জড়িত। কাজ শুরুর দিকে নানা অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও সেতুর কাজ এগিয়ে যাওয়ায় দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকরাসহ দেশবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। এই সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ট্রেন চলার কথা রয়েছে। ব্যাপক বিতর্ক আর আলোচনায় কয়েক বছরের বিলম্বের পর ২০১৪ সালে এই সেতুর নির্মাণকাজ নিজস্ব অর্থে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেতুটি ২০২১ সালের জুন নাগাদ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
উঁকি দিচ্ছে মেট্রো রেল
সময় যত যাচ্ছে, রাজধানীর মেট্রোরেল পথ ততটাই দৃশ্যমান হচ্ছে। আগামী বছর জানুয়ারিতেই দেশে আসবে ৫টি ট্রেন, এগিয়ে মেট্রো রেলের কাজ। তৈরি হয়ে গেছে একটি; জাপানের কারখানায় চলছে অন্য ৪টির কাজ। করোনার কারণে অবকাঠামো নির্মাণের গতি কমলেও নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করার আশা। তবে, কোনোভাবেই ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এমআরটি লাইন ৬ যেটি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের সাড়ে আট কিলোমিটার সেটি এখন দৃশ্যমান। এটিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ যাত্রী চলাচল শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ প্রকল্পের ৪০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন হবে এবং মেট্রোরেল ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৮০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।
নিউজ লাইট ৭১























