শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান তাদের আসন্ন বিজয়ের অভেদ্য লক্ষ্যে

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 120

আজ বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের দ্বিতীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল সন্তানরা জননীতুল্য দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষায় চিরমুক্তির সন্ধানে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর কোণঠাসা হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। নভেম্বরের শুরু থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী। দেশজুড়ে চলে গণপ্রতিরোধ। প্রতিদিন মুক্তিবাহিনীর কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

হানাদার বাহিনীর হামলায় একাত্তরের এই দিনে রামপুরা ও মালিবাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার হতে শুরু করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাজধানীকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন পাকিস্তান বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছিল নানা অপপ্রচার। এ দিকে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে প্রতিদিন শহীদ হচ্ছিলেন হাজারো মুক্তিকামী জনতা। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছিল না মা-বোনরা। এ সময়ে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের পথে পথে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। সম্মুখযুদ্ধ চলে আখাউড়া রেলস্টেশনেও। একাত্তরের এই দিনে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় গণহত্যা চালায় পাক বাহিনী। তবুও অদম্য সাহস আর প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান তাদের আসন্ন বিজয়ের অভেদ্য লক্ষ্যে।

এদিকে, বিজয়ের মাসের প্রথম দিন করোনাভাইরাসের মধ্যেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে পদক্ষেপ বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাসদ সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, জাতীয় যুব জোট, জাতীয় কৃষক জোট, জাতীয় নারী জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ বীরউত্তম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আহ্বায়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান এমপি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ লাইট ৭১

Tag :

শেয়ার করুন

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান তাদের আসন্ন বিজয়ের অভেদ্য লক্ষ্যে

আপডেট টাইম : ০৭:০০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

আজ বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের দ্বিতীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার দামাল সন্তানরা জননীতুল্য দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষায় চিরমুক্তির সন্ধানে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর কোণঠাসা হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। নভেম্বরের শুরু থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী। দেশজুড়ে চলে গণপ্রতিরোধ। প্রতিদিন মুক্তিবাহিনীর কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

হানাদার বাহিনীর হামলায় একাত্তরের এই দিনে রামপুরা ও মালিবাগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তখন মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার হতে শুরু করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাজধানীকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন পাকিস্তান বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছিল নানা অপপ্রচার। এ দিকে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে প্রতিদিন শহীদ হচ্ছিলেন হাজারো মুক্তিকামী জনতা। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছিল না মা-বোনরা। এ সময়ে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের পথে পথে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। সম্মুখযুদ্ধ চলে আখাউড়া রেলস্টেশনেও। একাত্তরের এই দিনে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় গণহত্যা চালায় পাক বাহিনী। তবুও অদম্য সাহস আর প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান তাদের আসন্ন বিজয়ের অভেদ্য লক্ষ্যে।

এদিকে, বিজয়ের মাসের প্রথম দিন করোনাভাইরাসের মধ্যেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে পদক্ষেপ বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে জাসদ সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, জাতীয় যুব জোট, জাতীয় কৃষক জোট, জাতীয় নারী জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ বীরউত্তম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের আহ্বায়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান এমপি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ লাইট ৭১