১১ কোটি নাগরিককে সেবা দিচ্ছেন ৪৮ জন
- আপডেট টাইম : ০৬:২১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২০
- / 110
৭১: দেশের ১১ কোটি নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা দিচ্ছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) ৪৮ সদস্যের টিম। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনআইডি সেবা হাতের মুঠোয় আনার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডি সেবায় জালিয়াতি ঠেকাতে আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবির পর এখন ফেসের ছাপ নেওয়ারও চিন্তা করছে ইসি। এই সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেন্দ্র থেকে বিকেন্দ্রীকরণ করে এ সেবা দিচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এনআইডি সেবা নিয়ে কথা হলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, আগে মানুষের দারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন মানুষের দারপ্রান্তে নয়, হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিচ্ছি। এটার জন্য আমরা যুগান্তকারী একটা পদক্ষেপ নিয়েছি, সেটি হলো অনলাইন এনআইডি সেবা। এখন আবেদন করার জন্য, মাইগ্রেশনের জন্য, সংশোধনের জন্য কাউকে উপজেলায়ও যেতে হচ্ছে না। আগে যেখানে আমাদের হেডকোয়ার্টারে দেড় দুই কিলোমিটার লাইন ধরত। এখন লোকই নাই। কারণ সবাই অনলাইনে এ সেবা নিচ্ছে।
অনলাইন সেবা চালু করার জন্য কার্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছি এবং সেটি লেভেলপ করে আমরা অনলাইন সেবা চালু করে দিয়েছি। যার ফলে মানুষের এই সেবাটি হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের হয়রানি অথবা দুর্নীতির শিকড় বা পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন একজন এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদন করলে কাগজপত্র যদি ঠিক থাকে, কারেকশন-মাইগ্রেশনের জন্য কিন্তু তাকে আসতে হচ্ছে না। তার মোবাইলের অ্যাপসে কিন্তু তার এনআইডি পৌঁছে যাচ্ছে যদি তার সব ডকুমেন্টস ঠিক থাকে।
ডুমেন্টস ঠিক না থাকলে তখন এডিশনাল ডকুমেন্টস চাচ্ছি। আর যে নতুন ভোটার তাকে এখানে এসে ফরম পূরণ করো, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত। অলাইনে তারা আবেদন করছে, ডকুমেন্টস সাবমিট করছে। শুধু একবার আসতে হচ্ছে তার ছবি তোলা, আইরিশ এবং ১০ আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার জন্য। এরপর আর তার কার্ড পাওয়া বা সংগ্রহ করতে আর কোনো ঝামেলা থাকছে না। অনলাইনেই সেবা পেয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনলাইনে আবেদন করার পর কত দিনের মধ্যে সেটি নিষ্পত্তি করা হবে। এ বিষয়ে সময় বেঁধে দেওয়া যায় কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন যারা আবেদন করছে তাদেরটা সঙ্গে সঙ্গেই করে দিচ্ছি। আর যারা পুরনো ভোটার সংশোধন বা মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করছেন। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর। মানে একজনের জমি আরেকজন দখল করে নেয়। এগুলো মানুষের সম্পত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার জন্য আমাদের বেশি করে যাচাই-বাছাই করতে হয়।
যাদের সবকিছু ঠিক থাকে তাদেরটা আমরা ওকে করে দেই। কোনোটা যদি উপযুক্ত প্রমাণ না দিতে পারে সেক্ষেত্রে কিন্তু বিলম্বিত হয়। তবে আমরা অবশ্যই এটি একটি টাইম লাইনের মধ্যে নিয়ে আসব। আগে এই কাজগুলো সেন্ট্রালি করা হতো। মানুষের ভোগান্তির চিন্তা করে এটি আমরা ডিসেন্ট্রালাইজ করেছি। ছোট একটা কারেকশন ছোট মোহাম্মদের জায়গায় বড় মোহাম্মদ। মিস নাজমা খাতুন আছে, মিস হবে না। এই জাতীয় সংশোধনগুলো আগে হেডকোয়ার্টারে আসত। এই জাতীয় সংশোধন উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারপরের সংশোধনগুলো জেলা, তারপরেরগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে, তারপরে যেগুলো বেশি জটিল সেগুলো আমরা শুধু হেড কোয়ার্টার থেকে দেখছি। যাতে মানুষের ভোগান্তি কম হয় সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন সেন্ট্রালি কাজ হতো তখন ইসির ১৫-১৬ জনের টিম কাজ করত। এখন ৭৫০-৮০০ কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করে এই সমস্যা সমাধান দেওয়া চেষ্টা করছি। তবে এটি হতে একটু সময় লাগবে কারণ নতুন সফটওয়্যার, নতুন সিস্টেম। অনেকে জানে না, অনেকে বুঝে না। এটা ঠিক হতে সময় লাগবে। তবে আমরা আশা করি যে, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আমরা স্ট্যাবল পর্যায়ে চলে আসব এবং কারেকশনের জন্য আবেদনগুলো আগামী তিনমাসের মধ্যে একটা ড্রাইভ দিয়ে সব পর্যায়ে যাতে সমাধান করতে পারি।
এনআইডি জন্য নতুন প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভবত এটি আইডিয়া-২ হিসেবে যাবে। কারণ আইডিয়া-১ একটি খুব সফল একটি প্রজেক্ট। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিক কিন্তু এখন এনআইডির আওতাভুক্ত। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও এই পর্যায়ে করতে পারেনি। সেটি করেছি কিন্তু এই আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আইডিয়া-২ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে আরও দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে চলবে।
অনলাইন সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল চালু করার পর প্রায় ৩৫ লাখ লোক অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছে। ২৫ লাখ ৩৫ হাজার লোক এনআইডি লাউনলোড করেছেন। এতে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, জনগনের ভোগান্তি কমছে। দুর্নীতি কমছে।
এনআইডি উইংয়ের জনবলের বিষয়ে তিনি বলেন, ৭১ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে এনআইডি উইংয়ে জন বল আছে ৪৮ জন। যারা সারা দেশে এই সেবা দিয়ে আসছেন। জনবলের চরম শঙ্কট, হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার পুরাতন হওয়া সত্ত্বেও এনআইডি উইং সেবা দিতে থেমে নেই।
ফিঙ্গার প্রিন্ট, আইরিশের পর ফেসিয়াল রিকগনেশনে যাচ্ছি আমরা। সামনে দাড়াবা ছবি তুলবে সেটি সার্ভারে চলে যাবে। পা দাও, না হাত দাও। কিন্তু ফেস তো আর পরিবর্তন করতে পারবা না। চোখ তো আর ঘুরাতে পারবে না। এটি বাস্তবায়িত হলে দ্বৈত ভোটার হতে গেলে তা ধরা পড়ে যাবে যোগ করেন তিনি।






















