বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৬:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • / 103

৭১: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দিন যতই যাচ্ছে লোকজন ততই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন হচ্ছেন। আতঙ্কের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা তাদের। মাস্ক ছাড়া বাইরে না যেতে সরকারের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তিসহ নানা মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হলেও কাজ হচ্ছে না। মাস্ক না পরলে জেল-জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ সীমিত।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, জিগাতলা, ফার্মগেট, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা মেলে এমনই চিত্র। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে গণপরিবহন; অন্যদিকে গন্তব্যস্থানের অভিমুখীরা বাসে ওঠার জন্য তাড়াহুড়োয় ব্যস্ত। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না। ফলে সেখানেও নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের সময়ে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকির কথা বিবেচনা নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টেস্ট বাড়ানো, রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন, ট্রেসিং (রোগীর সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত), তাদের কোয়ারান্টিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচারণা বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন তারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কর্মজীবী জনগণকে সহায়তা দিতে হবে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩ হাজার ২২৬। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার ৩৮৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ কোটি ৪৬ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৮ জন।

মোহাম্মদপুর-মতিঝিলগামী রজনীগন্ধ্যা পরিবহনের হেলপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাসে ওঠার সময় যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করে থাকি। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। এর দায়বদ্ধতা আমরা নিতে পারি না। ফার্মগেট থেকে প্রেস ক্লাব যাওয়ার সময় বিকাশ পরিবহনের যাত্রী শরিফা নাজনীন বলেন, করোনা আতঙ্কে এখনো অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

তিনি বলেন, সরকার সাধ্যমতো নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনো ওষুধ আসেনি। এ কারণে মানুষের মাঝে ভীতি কাজ করছে।

নিউ মার্কেট-উত্তরা আজিমপুরগামী বিকাশ পরিহবহনের ড্রাইভার মো. মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাসে ওঠার সময় আমরা লক্ষ্য করি অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। গাড়ি চালানোর সময় গরমে শরীর ঘেমে যায় এজন্য আমাদের মাস্ক ব্যবহার কম হয়।

অন্যদিকে সামনে শীত আসছে। শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু এ পরামর্শকে উড়িয়ে দিয়ে আতঙ্কের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা সাধারণ মানুষের। মাঝেমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে পারছেন না জনগণকে।facebook sharing button 

Tag :

শেয়ার করুন

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা

আপডেট টাইম : ০৬:১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

৭১: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দিন যতই যাচ্ছে লোকজন ততই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন হচ্ছেন। আতঙ্কের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা তাদের। মাস্ক ছাড়া বাইরে না যেতে সরকারের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তিসহ নানা মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হলেও কাজ হচ্ছে না। মাস্ক না পরলে জেল-জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ সীমিত।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, জিগাতলা, ফার্মগেট, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা মেলে এমনই চিত্র। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে গণপরিবহন; অন্যদিকে গন্তব্যস্থানের অভিমুখীরা বাসে ওঠার জন্য তাড়াহুড়োয় ব্যস্ত। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হলেও মানা হচ্ছে না। ফলে সেখানেও নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের সময়ে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকির কথা বিবেচনা নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টেস্ট বাড়ানো, রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন, ট্রেসিং (রোগীর সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত), তাদের কোয়ারান্টিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচারণা বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন তারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কর্মজীবী জনগণকে সহায়তা দিতে হবে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩ হাজার ২২৬। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার ৩৮৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ কোটি ৪৬ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৮ জন।

মোহাম্মদপুর-মতিঝিলগামী রজনীগন্ধ্যা পরিবহনের হেলপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাসে ওঠার সময় যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করে থাকি। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। এর দায়বদ্ধতা আমরা নিতে পারি না। ফার্মগেট থেকে প্রেস ক্লাব যাওয়ার সময় বিকাশ পরিবহনের যাত্রী শরিফা নাজনীন বলেন, করোনা আতঙ্কে এখনো অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

তিনি বলেন, সরকার সাধ্যমতো নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনো ওষুধ আসেনি। এ কারণে মানুষের মাঝে ভীতি কাজ করছে।

নিউ মার্কেট-উত্তরা আজিমপুরগামী বিকাশ পরিহবহনের ড্রাইভার মো. মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাসে ওঠার সময় আমরা লক্ষ্য করি অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন না। গাড়ি চালানোর সময় গরমে শরীর ঘেমে যায় এজন্য আমাদের মাস্ক ব্যবহার কম হয়।

অন্যদিকে সামনে শীত আসছে। শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু এ পরামর্শকে উড়িয়ে দিয়ে আতঙ্কের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা সাধারণ মানুষের। মাঝেমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে পারছেন না জনগণকে।facebook sharing button