বাংলাদেশ বড় হতে পারে আরো তিনভাগের একভাগ
- আপডেট টাইম : ০৪:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২০
- / 106
৭১: বাংলাদেশের আয়তন এক লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। এর প্রায় তিনভাগের একভাগ অর্থাৎ ৪০ হাজার ২৩৩ বর্গ কিলোমিটার যুক্ত হলে মোট আয়তন দাঁড়াবে এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৮০৩ বর্গ কিলোমিটার। আর এটা হওয়া সম্ভব। ডিফেন্স রিসার্চ ফোরামের গবেষণায় বিষয়টি ব্যাখ্রা করা হয়েছে এভাবে:- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশ। সুদূর ভুটান, নেপাল, হিমালয় থেকে নদীগুলা উৎপন্ন হয়ে পথে প্রায় ১০০ কোটি (এক বিলিয়ন) টন পলি বা সেডিমেন্ট বয়ে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলছে। যার বেশিরভাগ পলি মহী-সোপান (সমুদ্র উপকূলের স্লোপের মত অগভীর অংশ) পার হয়ে গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যায়।
বিশ্বের সব থেকে বিস্তৃত এবং দীর্ঘ অগভীর মহী-সোপান হল বঙ্গোপসাগর জুড়ে। এর গভীরতা কোথাও ২০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার বা তার একটু বেশি এবং উপকূল থেকে প্রায় ২০০ কি.মি. এর বেশি পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতি বছর সমুদ্রে আমাদের মহী-সোপান বাড়ছে প্রায় ১৫ মিটার করে।
প্রতিবছর নদী ভাঙনের মাধ্যমে প্রায় ১০০ বর্গ কিমি করে জায়গা হারায়। আর ভুটান, নেপাল, ভারত থেকে বয়ে আনা পলি বা সেডিমেন্ট এর সাথে এই ১০০ বর্গ কিমি যুক্ত হয়ে আবার বছরে প্রায় ১২০ বর্গ কিমি করে জায়গা নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে। নিত্য নতুন দ্বীপ জেগে উঠছে বঙ্গোপসাগরে। কোন কোন দ্বীপ স্থায়ী কাঠামো পেয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে বাংলাদেশ যে একদম ডুবে যাবে ধারনাটা পুরোপুরি ঠিক নয়।
যদি মূল নদীগুলোর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না করে সাতক্ষীরা উপকূল থেকে মহী-সোপানের গভীরে যেয়ে ছোট ছোট অন্তরায় বা বাধ তৈরি করে (অস্থায়ীভাবে) মেঘনা পর্যন্ত নেওয়া যায়, তবে পানিতে থাকা পলি বা সেডিমেন্টের গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে অনেকটা নিয়ন্ত্রিতভাবে অসংখ্য দ্বীপ তৈরি করা যেতে পারে। এটা করতে পারলে প্রায় ২৫ হাজার বর্গ মাইল বা ৪০ হাজার ২৩৩ বর্গ কিলোমিটার ভূমি মুল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। সেই সঙ্গে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মুক্ত থাকা যাবে। আর পলিযুক্ত জমি উর্বর এবং চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে মোহনার মূল প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
বাঁধ বা অন্তরায় তৈরি করতে যে খুব বেশি খরচ তাও নয়। উদ্দেশ্য পলি আটকানো। তাই কোন জালের সঙ্গে পরিত্যক্ত বোতল গুলা বেঁধে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে (Dumping) এটা করা যেতে পারে। এতে খরচ অনেক কমার সঙ্গে সঙ্গে সেডিমেন্টগুলা ফিল্টার হয়ে আটকে থাকবে। ভবিষ্যতে এই অন্তরায়ে পলিগুলো বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জমতে শুরু করবে। স্থায়ী রূপ পাবে আস্তে আস্তে। পুরা বিষয়টা করতে হবে পরিকল্পিতভাবে; যেন নদীগুলার মুল প্রবাহ ঠিক থাকে। আর এক্ষেত্রে এটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাও নয় বরং দীর্ঘ বছর ধরে আস্তে আস্তে বঙ্গোপসাগরে জমা হওয়া পলিকে নিয়ন্ত্রণ করে নতুন দ্বীপ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।
এর সুবিধা হল উপকূলে পলি জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে এই অঞ্চলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে। বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে আমাদের ভূখণ্ড পানির নিচে চলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
উর্বর পলিযুক্ত নতুন ভূমি আমাদের কৃষি জমি, বনভূমি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ সামলানো সহজ হবে।
বিশ্বে অনেক দেশ রয়েছে যাদের ভূমির উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা থেকে বেশি নয়। নেদারল্যান্ডস এর মত দেশ ডেল্টা প্লানের মাধ্যমে তাদের দেশকে টিকিয়ে রেখেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিলিয়ন ডলার খরচ করে মাটি বা বালি এনে সমুদ্রে কৃত্রিম দ্বীপ করেছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম ভাবে মাটি বা বালি দিয়ে ভরাট করা লাগবে না। প্রাকৃতিকভাবেই এদেশের নদীগুলো প্রচুর পলি বহন করে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সুপরিকল্পিত ভাবে পলিগুলোকে নিয়ন্ত্রিত স্থিতি দিলেই হয়ত আমাদের দেশের সামনে বিশাল সুযোগ আসতে পারে।






















