শিল্পীদের নগদ অর্থসহ ঈদ উপহার সামগ্রী দিয়েছে সমিতি
- আপডেট টাইম : ০৪:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০
- / 180
৭১: ‘কয়টাইবা গরু লাগবো? মহামারী না থাকলে গরু দেওন ফ্যাক্টর আছিল না। বছর বাদে একবার ঈদ আহে কিন্তু এইবারতো হিসাবটাই ভিন্ন। তাই চিন্তা কইরা দেখলাম বাইচ্যা থাকলে খাওন যাইবো, নগদ ট্যাকা দিতাছি, ঈদ উপহার সামগ্রী দিতাছি সবাই সাবধানে কি না খান’- বলছিলেন ঢাকাই সিনেমার প্রভাবশালী অভিনেতা-প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
আজ এফডিসির সমিতি অফিসে যখন অনেকেই প্রশ্ন করছিলেন ঈদে শিল্পীদের মাঝে কোরবানী দেওয়া হবে কি না তার প্রতিউত্তরে এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন শিল্পী সমিতির সহসভাপতি ডিপজল।
এ সময় সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, সহসভাপতি মাসুম পারভেজ রুবেল, আলেকজেন্ডার বো, কার্যকরী সদস্য অঞ্জনা, জ্যাকি আলমগীর, মারুফ আকিব, জয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, কমেডিয়ান ববি, আমির সিরাজি, রিনা খান, সুশান্ত, ইউসুফ প্রমুখ পরিচিত মুখদের দেখা গেছে।
এদিন মোট ৪৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ২৫০ জন সদস্যের মাঝে নগদ অর্থসহ ঈদ উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। বাকিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিয়েছে শিল্পী সমিতি।
মিশা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শিল্পী সমিতি শিল্পীদের পাশে ছিলো। আছে। থাকবে। সুতরাং ভয় পাওয়ার কারণ নেই ক্রান্তিকালে আমাদের সহকর্মীদের ছেড়ে আমরা ভালো থাকবো।
চলমান দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে বলেন, দেখুন বঙ্গবন্ধুর কথাই আমরা অনেকে বুঝিনি। তিনি যে উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য নিয়ে এফডিসি গড়ে দিয়ে গেছেন আমরা সেটা এখন বাস্তবায়নতো করতেই পারিনি উপরুন্তু ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত। যাইহোক আশা করছি শিগগিরই এই দ্বন্দ্বের নিরসন হবে।
মিশা অনুরোধ করে বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখুন সমিতির সব সদস্যই নগদ অর্থসহ ঈদ উপহার সামগ্রী পাচ্ছেন। সব সদস্যই সমিতির অধিকার ভোগ করছেন। হ্যাঁ ভোটাধিকার অনেকেরই নেই। কেন নেই সেটা সমিতির আভ্যন্তরীন ব্যাপার যা সব সদস্যই অবগত। তবে ভোটাধিকার যাতে ফিরে পান সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি। আমাদের যাচাই বাছাই চলছে।
মিশার কথার সত্যতা পাওয়া গেলো এফডিসি ঘুরে। ভোটাধিকার বঞ্চিত অনেক সদস্যই এদিন নগদ অর্থসহ ঈদ উপহার সামগ্রী নিতে এসেছিলেন। এই প্রতিবেদকের কাছে অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ওই পক্ষ (১৮ সংগঠন) অনেকে ফোন করে আসতে বারণ করেছেন। মিশা-জায়েদের বিপক্ষে বলতে বলেছেন। কিন্তু কোরোনার শুরু থেকেই সমিতির উপহার সামগ্রী পাচ্ছি এটাতো আর অস্বীকার করতে পারি না। পেটে ক্ষুধা এই করোনায় তারা যা করছেন তা আপন ভাইও করে না। তারা যে পরিমাণ অর্থ আজ দিয়েছেন তা দিয়ে ঈদটা ভালোমতোই করতে পারবো। অথচ ১৮ সংগঠন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কাজ করছেন বলে এখন কিছু কিছু দিচ্ছেন। আমরা শিল্পী, আমরা কাজে ফিরতে চাই। এই দ্বন্দ্বের নিরসন চাই।
শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ বলেন, এটা নিয়ে ১০ বারের মতো উপহার দেওয়া হচ্ছে। করোনার প্রকোপর কারণে এবার কোরবানী দিচ্ছি না। এজন্য বিকল্প চিন্তা করে নগদ অর্থ আর ঈদ উপহার দিচ্ছি।
তিনি বলেন, কথা দিয়েছিলাম আল্লাহর রহমতে কাউকে না খেয়ে নিরানন্দে কাটাতে হবে না। চেষ্টা করছি আমাদের কথা রাখার। আমরা জানি আমাদের বিরুদ্ধে অনেকে অনেক কথাই বলছেন কিন্তু আমাদের শিল্পীরা সব উপেক্ষা করে সমিতির পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করলেন সমিতি এবং এই নেতৃত্বকে তাদের দরকার আছে। এজন্য তাদের কাছে আমি এবং সমিতি ঋণী। আমি আবার বলছি আমরা সবাইকে নিয়েই থাকতে চাই। দিনশেষে সাবাই আমরা ‘চলচ্চিত্র পরিবার’।

















