বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ সমুদ্রবন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০
  • / 110

৭১: স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। চট্টগ্রাম এবং মোংলা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন আরও তিনটি সমুদ্রবন্দর। বর্তমান ও নির্মাণাধীন সমুদ্রবন্দরগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর : ১৮৮৭ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯০ শতাংশ এই বন্দর ব্যবহার করেই হয়ে থাকে। ২০১৯ সালে এই বন্দরটি বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত বন্দরের স্বীকৃতি পায়। তবে মাদার ভেসেল এখানে ভিড়তে পারে না। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন হিসেবে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।

মোংলা সমুদ্রবন্দর : পাটকলসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মোংলা বন্দর তার গুরুত্ব হারিয়েছে। এখন মোংলায় ৭.৫ মিটারে বেশি ড্রাফটের কোনো জাহাজ ভিড়তে পারে না। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে এবং সরাসরি রেল সংযোগ নিয়ে চলমান প্রকল্প শেষ হলে এই বন্দর কিছুটা হলেও তার গুরুত্ব ফিরে পাবে। মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করার অংশ হিসেবেই রেল সংযোগ প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব থেকে বড় রেলসেতু রূপসা রেলসেতুর নির্মাণ কাজ অনেক এগিয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই বন্দর ব্যবহার করবে নেপাল, ভারত। তখন এই বন্দরের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সূত্র : ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর : পটুয়াখালীর পায়রা নদীর মোহনায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দরের অবস্থান। পায়রা বন্দরের প্রাথমিক, মধ্যম এবং চূড়ান্ত পর্বে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ বন্দর হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি প্রায় ৭ হাজার একর জমির উপর। পায়রা বন্দরের প্রবেশ চ্যানেলে নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর : বাংলাদেশের সব থেকে গভীরতম সমুদ্রবন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গকিলোমিটার। সেই সঙ্গে মাতারবাড়ি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪.৫ কিমি। ভাটার সময় গভীরতা থাকে প্রায় ১৪ মিটার। আর জোয়ারের সময় প্রাকৃতিক ভাবেই গভীরতা হয় প্রায় ১৮.৫ মিটার।

মিরসরাই ইকোনমিক জোন সংলগ্ন প্রথম বেসরকারি সমুদ্রবন্দর : জাপানের জেডিয়াই, সজিত করপোরেশন এবং বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোন মিরসরাই সংলগ্ন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে।

৩০ হাজার একরের উপর উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোনের সঙ্গেই মিশে আছে সমুদ্র। এই ইকোনমিক জোনের নিজস্ব একটি ডেডিকেটেড সমুদ্রবন্দর থাকবে। ৪০০০০ টনের মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে এখানে।facebook sharing button whatsapp sharing button

Tag :

শেয়ার করুন

৫ সমুদ্রবন্দরের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

৭১: স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। চট্টগ্রাম এবং মোংলা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন আরও তিনটি সমুদ্রবন্দর। বর্তমান ও নির্মাণাধীন সমুদ্রবন্দরগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর : ১৮৮৭ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ৯০ শতাংশ এই বন্দর ব্যবহার করেই হয়ে থাকে। ২০১৯ সালে এই বন্দরটি বিশ্বের ৬৪তম ব্যস্ত বন্দরের স্বীকৃতি পায়। তবে মাদার ভেসেল এখানে ভিড়তে পারে না। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সটেনশন হিসেবে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে।

মোংলা সমুদ্রবন্দর : পাটকলসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মোংলা বন্দর তার গুরুত্ব হারিয়েছে। এখন মোংলায় ৭.৫ মিটারে বেশি ড্রাফটের কোনো জাহাজ ভিড়তে পারে না। তবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে এবং সরাসরি রেল সংযোগ নিয়ে চলমান প্রকল্প শেষ হলে এই বন্দর কিছুটা হলেও তার গুরুত্ব ফিরে পাবে। মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন করার অংশ হিসেবেই রেল সংযোগ প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব থেকে বড় রেলসেতু রূপসা রেলসেতুর নির্মাণ কাজ অনেক এগিয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই বন্দর ব্যবহার করবে নেপাল, ভারত। তখন এই বন্দরের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সূত্র : ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর : পটুয়াখালীর পায়রা নদীর মোহনায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দরের অবস্থান। পায়রা বন্দরের প্রাথমিক, মধ্যম এবং চূড়ান্ত পর্বে এটি বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ বন্দর হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি প্রায় ৭ হাজার একর জমির উপর। পায়রা বন্দরের প্রবেশ চ্যানেলে নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর : বাংলাদেশের সব থেকে গভীরতম সমুদ্রবন্দর হচ্ছে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর। মহেশখালী দ্বীপের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গকিলোমিটার। সেই সঙ্গে মাতারবাড়ি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪.৫ কিমি। ভাটার সময় গভীরতা থাকে প্রায় ১৪ মিটার। আর জোয়ারের সময় প্রাকৃতিক ভাবেই গভীরতা হয় প্রায় ১৮.৫ মিটার।

মিরসরাই ইকোনমিক জোন সংলগ্ন প্রথম বেসরকারি সমুদ্রবন্দর : জাপানের জেডিয়াই, সজিত করপোরেশন এবং বাংলাদেশের এনার্জিপ্যাক জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোন মিরসরাই সংলগ্ন একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করবে।

৩০ হাজার একরের উপর উপমহাদেশের সব থেকে বড় ইকোনমিক জোনের সঙ্গেই মিশে আছে সমুদ্র। এই ইকোনমিক জোনের নিজস্ব একটি ডেডিকেটেড সমুদ্রবন্দর থাকবে। ৪০০০০ টনের মাদার ভেসেল ভিড়তে পারবে এখানে।facebook sharing button whatsapp sharing button