বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন
- আপডেট টাইম : ০৫:০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০
- / 121
৭১: জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য কক্সবাজারের খুরুশকুলে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ কেন্দ্র। প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত ২০টি ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
যেখানে আশ্রয় পাবে জলবায়ুজনিত ঘূর্ণিঝড়ে উদ্বাস্তু হওয়া চার হাজার ৪০৯টি পরিবার। প্রথম পর্যায়ে ২০টি ভবনে আশ্রয় পাবে ৬০০ পরিবার। ১০০১ টাকা নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার প্রান্তে খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আযাদ।
সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক এমপি এথিন রাখাইন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ প্রশাসন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম ধাপে নির্মিত পাঁচ তলা ২০টি ভবনসহ প্রকল্পের মোট ১৩৯টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।
সব ভবন নির্মিত হলে উদ্বাস্তু জীবনের অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ ছেড়ে সাজানো পরিপাটি দালানে উঠবেন মোট প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবার। প্রতিটি ফ্ল্যাটে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডারের সুবিধা থাকবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল।
প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এটাই দেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের প্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প। জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জন্য এখানে যে পুনর্বাসন, এটাকে আমরা বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্প বলতে পারি। এ ধরনের প্রকল্প পৃথিবীতে বিরল।
প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্প এলাকায় ১৪টি খেলার মাঠ, সবুজ জায়গা, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দুটি জেটি, দুটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে।
এছাড়া থাকবে ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, পুকুর-খাল থাকবে পুরো প্রকল্প এলাকায়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ফ্ল্যাট পাবেন তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। প্রকল্প এলাকায় একটি শুঁটকি মহালও থাকবে এবং এখানে পর্যায়ক্রমে বিক্রয় কেন্দ্র ও প্যাকেজিং শিল্পও গড়ে তুলবে সরকার।
প্রকল্পের ভবনগুলোর নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই রেখেছেন। ভবনগুলো হলো—দোলনচাঁপা, কেওড়া, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, কামিনী, গুলমোহর, গোলাপ, সোনালী, নীলাম্বরী, ঝিনুক, কোরাল, মুক্তা, প্রবাল, সোপান, মনখালী, শনখালী, বাঁকখালী, ইনানী ও সাম্পান।
কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার জানান, ২০১৬ সালে বাঁকখালী নদীর কিনারা ঘেষে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে প্রায় ২৫৪ একর জমিতে নেয়া হয় খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্যোগ।
২০১৭ সালের মার্চে কার্যাদেশের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলে এ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে ওই আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ২০টি ভবন নির্মাণ শেষ। ঝুপড়ি ও কুঁড়েঘরে বসবাস করা মানুষগুলো সুন্দর দালানে স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা পেয়ে দারুণ খুশি।তাই কৃতজ্ঞতার শেষ নেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তু রফিকুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম আর বোরহান বলেন, এতদিন আমাদের কোনো নিশ্চিত ঠিকানা ছিলো না। গত ২৯ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উচ্ছেদসহ নানা আতংক নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছিলাম। এখন আর কোনো ভয় নেই।আমাদেরও জন্য সরকার ফ্ল্যাট দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়ন ও সমপ্রসারণের জন্য জলবায়ু উদ্বাস্তুরা যেনো উচ্ছেদ না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিশেষ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিলেন।
তিনি জানান, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য তৈরি করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে ১০০ একর জমি দেয়া হয়েছে। যার উপর গড়ে তুলবে ১০ তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা টাওয়ারসহ নানা পর্যটন সপট। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকছে পাঁচতলা বিশিষ্ট ১৩৯টি ভবন ও ১০ তলা বিশিষ্ট একটি টাওয়ার। যা পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করবে সেনাবাহিনী।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন (বিপিএম বার) বলেন, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে কাগজ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ি না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।
মানবিকতার জায়গা থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পর বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথমবারের মতো জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য স্থায়ী বসতি করে দেয়ার বিষয়টি বিশ্বের জন্য হতে পারে একটি বিরল দৃষ্টান্ত।






















