বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি রোধে ১৪ দেশের কর্মজীবী

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০
  • / 125

৭১: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহামারি কোভিড-১৯-এর কারণে নারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ঘরোয়া সহিংসতার ঝুঁকি বিশ্বজুড়ে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী বিশেষত অন্তরঙ্গ অংশীদার দ্বারা সহিংসতার শিকার হন। এ থেকে বেরিয়ে আসা যথেষ্ট সাহস ও চ্যালেঞ্জের কাজ বলেই মনে করা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি রোধে দুই মাসব্যাপী অনলাইন ভিডিও প্রচারণায় অংশ নেন পৃথিবীর ১৪টি দেশের ২৮ ধরনের কর্মজীবী মানুষ।  গত মঙ্গলবার পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটর তামিমা নাসরিন। এই উদ্যোগ ও প্রচারণা ইতোমধ্যে কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে এবং বগুড়া জেলার জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, এক কথায় এক ছাতার নিচে একসঙ্গে এই সহিংসতা মোকাবেলা করার জন্য বহু সংস্কৃতির লোকদের সমাবেশ এটি। বহুবিধ ক্ষেত্র ও পটভূমির লোকেরা যদি এইভাবে একত্রিত হন, তবে অবশ্যই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা শেষ হবে। সুতরাং এই পদক্ষেপ মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সেরা এবং শক্তিশালী আন্দোলনের অন্যতম উদাহরণ হতে পারে। মূলত, এই প্রচারণাটি সচেতনতা তৈরি করা, প্রতিবাদ করা, একসঙ্গে সমাধান সন্ধান, যুবসমাজ এবং সম্প্রদায়ের নেতাদের সহিংসতা সমাধানে অনুপ্রাণিত করা ও জড়িত করা, জরুরি হেল্পলাইন নম্বরগুলো ভাগ করা এবং অন্যান্য জিবিভি পরিবেশবাদীর তথ্যসহ (যা এখনও বেঁচে থাকার জন্য উপলব্ধ) পাঁচটি বিষয়ের ভিত্তিতে শুরু করা হয়েছে।

এই প্রচারের মূল আকর্ষণ হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, হংকং, মাদাগাস্কার, কেনিয়া, কানাডা, সুইডেন, শ্রীলঙ্কা, মরিসাস, পূর্ব তিমোরসহ (টিমোর লেস্ট) বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৮ পেশার ২৫০ জন ব্যক্তি যোগ দিয়ে এতে সংহতি জানিয়েছেন। 

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার দিকনির্দেশনায় বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার কর্মী, বিচারক, যুব স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্র, কমিউনিটি নেতা, অ্যাডভোকেট, বেসরকারি পরিসেবা প্রদানকারী, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ কর্মী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, খেলোয়াড়, ফটোগ্রাফার, ব্যাংকার, টিভি সংবাদ উপস্থাপক, ডাক্তার, নার্স, ফিল্ম মেকার, উদ্যোক্তা, এনজিও প্রতিনিধি, থিয়েটার প্রতিনিধি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের সহকারী পরিচালকসহ ২৫০ জন।

অংশীদাররা নীরবতা ভাঙার জন্য সবাইকে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা, বিভিন্ন জিবিভি অপরাধ, ঘরোয়া সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, মৌখিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, বাল্য ধর্ষণ, অনলাইন হয়রানি, পরিবারে লিঙ্গ বৈষম্য, গৃহস্থালি কাজের জন্য লিঙ্গ বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের সচেতনতার বার্তা ভাগাভাগি করেছেন।

বিশ^জুড়ে চলা এই প্রচারাভিযান ইতোমধ্যে বগুড়া জেলার জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। ১২টি উপজেলা থেকে সক্রিয় নাগরিকদের বেশির ভাগই এই প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এ জেলার অংশীজনরা এই করোনার সময় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপের কথা বলেছেন। বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা মনে করেন, মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে এ ধরনের প্রচার অত্যন্ত শক্তিশালী ও সেরা আন্দোলনের অন্যতম উদাহরণ হতে পারে।

Tag :

শেয়ার করুন

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি রোধে ১৪ দেশের কর্মজীবী

আপডেট টাইম : ০৪:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০

৭১: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহামারি কোভিড-১৯-এর কারণে নারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ঘরোয়া সহিংসতার ঝুঁকি বিশ্বজুড়ে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী বিশেষত অন্তরঙ্গ অংশীদার দ্বারা সহিংসতার শিকার হন। এ থেকে বেরিয়ে আসা যথেষ্ট সাহস ও চ্যালেঞ্জের কাজ বলেই মনে করা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি রোধে দুই মাসব্যাপী অনলাইন ভিডিও প্রচারণায় অংশ নেন পৃথিবীর ১৪টি দেশের ২৮ ধরনের কর্মজীবী মানুষ।  গত মঙ্গলবার পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটর তামিমা নাসরিন। এই উদ্যোগ ও প্রচারণা ইতোমধ্যে কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে এবং বগুড়া জেলার জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, এক কথায় এক ছাতার নিচে একসঙ্গে এই সহিংসতা মোকাবেলা করার জন্য বহু সংস্কৃতির লোকদের সমাবেশ এটি। বহুবিধ ক্ষেত্র ও পটভূমির লোকেরা যদি এইভাবে একত্রিত হন, তবে অবশ্যই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা শেষ হবে। সুতরাং এই পদক্ষেপ মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সেরা এবং শক্তিশালী আন্দোলনের অন্যতম উদাহরণ হতে পারে। মূলত, এই প্রচারণাটি সচেতনতা তৈরি করা, প্রতিবাদ করা, একসঙ্গে সমাধান সন্ধান, যুবসমাজ এবং সম্প্রদায়ের নেতাদের সহিংসতা সমাধানে অনুপ্রাণিত করা ও জড়িত করা, জরুরি হেল্পলাইন নম্বরগুলো ভাগ করা এবং অন্যান্য জিবিভি পরিবেশবাদীর তথ্যসহ (যা এখনও বেঁচে থাকার জন্য উপলব্ধ) পাঁচটি বিষয়ের ভিত্তিতে শুরু করা হয়েছে।

এই প্রচারের মূল আকর্ষণ হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, হংকং, মাদাগাস্কার, কেনিয়া, কানাডা, সুইডেন, শ্রীলঙ্কা, মরিসাস, পূর্ব তিমোরসহ (টিমোর লেস্ট) বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৮ পেশার ২৫০ জন ব্যক্তি যোগ দিয়ে এতে সংহতি জানিয়েছেন। 

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার দিকনির্দেশনায় বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার কর্মী, বিচারক, যুব স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্র, কমিউনিটি নেতা, অ্যাডভোকেট, বেসরকারি পরিসেবা প্রদানকারী, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ কর্মী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, খেলোয়াড়, ফটোগ্রাফার, ব্যাংকার, টিভি সংবাদ উপস্থাপক, ডাক্তার, নার্স, ফিল্ম মেকার, উদ্যোক্তা, এনজিও প্রতিনিধি, থিয়েটার প্রতিনিধি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের সহকারী পরিচালকসহ ২৫০ জন।

অংশীদাররা নীরবতা ভাঙার জন্য সবাইকে যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা, বিভিন্ন জিবিভি অপরাধ, ঘরোয়া সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, মৌখিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, বাল্য ধর্ষণ, অনলাইন হয়রানি, পরিবারে লিঙ্গ বৈষম্য, গৃহস্থালি কাজের জন্য লিঙ্গ বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের সচেতনতার বার্তা ভাগাভাগি করেছেন।

বিশ^জুড়ে চলা এই প্রচারাভিযান ইতোমধ্যে বগুড়া জেলার জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। ১২টি উপজেলা থেকে সক্রিয় নাগরিকদের বেশির ভাগই এই প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এ জেলার অংশীজনরা এই করোনার সময় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপের কথা বলেছেন। বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা মনে করেন, মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে এ ধরনের প্রচার অত্যন্ত শক্তিশালী ও সেরা আন্দোলনের অন্যতম উদাহরণ হতে পারে।